আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ। অ্যামেরিকায় পণ্য রফতানিতে ২০% শুল্কহার। অথচ ভারতের জন্যে এখন তা ২৫+২৫=৫০%। আর মহাচীনের জন্যে কমপক্ষে ৩০%। ফলে বাণিজ্যে লক্ষ্মীর বসত এখন বাংলাদেশে। গার্মেন্টস খাতে চলছে হৈহৈরৈরৈ কান্ড। অ্যামেরিকার শিপমেন্ট সমানে বাতিল করছে ভারত। অন্যদিকে ‘রি-অর্ডার’ করাচ্ছে বাংলাদেশে। ট্যাগ লাগিয়ে পাঠানো হচ্ছে অ্যামেরিকায়। রপ্তানি ব্যবসা চলমান রাখতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা মরিয়া। মহাচীনও একইভাবে বাংলাদেশের প্রতি ঝুঁকছে।
রাতারাতি বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক। একদা রপ্তানি ট্রানজিট বন্ধ করেছিলো ভারত। এখন সেদেশের ব্যবসায়ীরাই প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। অ্যামেরিকায় পণ্য পাঠাতে খুলতে বলছেন রুট। ‘মেড-ইন বাংলাদেশ’ নামীয় পণ্য ছোটাতে চান আকাশপথে।
বাংলাদেশের প্রতি অ্যামেরিকার আচরণ অত্যন্ত সদয়। রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্বেও সুযোগ-সুবিধা বাড়ছেই। ভারতীয় কূটনীতিকরা চালাচ্ছেন গবেষণা। একাংশের মতে ‘নোবেল’ প্রাপ্তি নিয়ে নতুন অঙ্ক অ্যামেরিকার। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ‘নোবেল’ পাইয়ে দেওয়ার প্রকল্পে ঢুকেছেন নোবেলজয়ী ইউনূস।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ভারতের রফতানি শিল্পে করুণদশা : বস্ত্র, পোশাক, মৎস্য খামারের পর ওষুধও কু-নজরে
গত ১৫ আগস্ট ছিল ভারতের ৭৮তম স্বাধীনতা দিবস। রাষ্ট্রীয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পূর্বতন সুর পাল্টান। রফতানির বদলে স্বদেশী আন্দোলনকে গুরুত্ব দেন। কারণ ২৭ আগস্ট থেকে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক বসবে। পুরো বিষয়টিতে রপ্তানি বাণিজ্যে নেমেছে ঘোর অমানিশা। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ করুণ পরিস্থিতির ওপর প্রতিবেদন করেছে। হাহাকার উঠেছে বিনিয়োগ ও উদ্যোক্তা মহলে।
দক্ষিণ এশীয় প্রতিনিধি অ্যালেক্স ট্রাভেলি বিস্তারিত লিখেছেন। বস্ত্র, পোশাক, মাছ, বিশেষ করে চিংড়ি রপ্তানিতে হতাশা। গত বছর পণ্য বাণিজ্য ছিল ১২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের। এবারে তা ২৮ শতাংশ কমে যাবে বলে আশঙ্কা। ভারতে উৎপাদিত কার্পেটের ৯৮ শতাংশই রপ্তানি হয় বিদেশে। হাতে বোনা পারস্য ধাঁচের গালিচা বিদেশে জনপ্রিয়। শতকরা ৬০ শতাংশই রপ্তানি হতো যুক্তরাষ্ট্রে। ৫০০ ডলারের গালিচার শুল্ক হার ছিল ১২৫ ডলার। কিন্তু এখন তা ২৫০ ডলার, যা অস্বাভাবিক।
উত্তর প্রদেশের বৃহত্তর কার্পেট ফ্যাক্টরির প্রধান মালিক ইশতিয়াক। বলেছেন ২৫ শতাংশ মার্কিনী শুল্কে আমরা হতবাক হয়েছিলাম। এখন তা ৫০ শতাংশ, যা অস্বাভাবিক। এখন অনেক মানুষ বেকার হয়ে যাবে।
জেনেরিক ওষুধের প্রধান উৎপাদক ভারত। সবচেয়ে বড় ভোক্তা-বাজার যুক্তরাষ্ট্র। ওষুধের শুল্কে বিশেষ ছাড় রয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন ইঙ্গিত দিয়েছেন। অচিরেই ১৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব উঠেছে। পরে তা বেড়ে ২৫০ শতাংশও হতে পারে। ট্রাম্পের ভাষ্য, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রকে স্বনির্ভর বানাবে। মার্কিন ওষুধ নির্মাতাদের অনুপ্রাণিত করবে।
উল্লেখ্য, বস্ত্র, পোশাক, মৎস্য খাতের পর ওষুধ। মার্কিন শুল্কনীতি বহাল থাকলে বাংলাদেশের সোনায় সোহাগা। ভারত যত হতাশ হবে, বাংলাদেশ তত বিকশিত।
ট্রাম্পকে পটাতে সেপ্টেম্বরে মোদির মার্কিন সফর
আমেরিকার রুষ্ট আচরণ বিষয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। নিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়া থেকে জ্বালানি ক্রয় করছে। এই অভিযোগে অনেকগুলো পদক্ষেপ নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। অবৈধ বসবাসকারী ভারতীয়দের উচ্ছেদে চালাচ্ছে কড়াকড়ি। হাতকড়া পরিয়ে ভারতে পাঠিয়েছে সহস্রাধিক। আমেরিকার মন গলাতে ভারতও বসে নেই। সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সম্মেলনে থাকছেন নরেন্দ্র মোদি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রস্তুতি চলছে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার। চীনকে ঠেকাতে নতুন কিছু পরিকল্পনার কথা শোনাবেন।
মার্কিন-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক বিষয়ে ভারতের নিবিড় গবেষণা : হাসিনাকে আশ্রয় বনাম নোবেলপ্রাপ্তিতে ‘ইউনূস মিশন’
কথা ছিল ২০ জানুয়ারি ড. ইউনূসের পতন হবে। ২০২৫-এর ঐদিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শপথ নেন। ভারতে প্রচারণা ছিল আমেরিকা ইউনূসকে ফেলে দেবে। ভারতের বিজেপি নেতারা ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালায়। দলের কর্মীরা ফেসবুকসহ সর্বত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে। শেখ হাসিনাও আওয়ামী কর্মীদের উসকানি দেন। বাংলাদেশে ট্রাম্পের ছবি-প্ল্যাকার্ডসহ মিছিল করতে বলেন। যুক্তি দেন যে, পুলিশ প্রত্যাঘাত করলে বিপদে পড়বে। ট্রাম্পের অবমাননা হলে ইউনূস সরকারকে গুডবাই জানাবে।
না, এমন কিছু অলীক স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। ভারতের কূটনৈতিক গোয়েন্দাদের ভাষ্য ভিন্ন। তাদের মতে, নোবেল বিজয়ী ইউনূস অন্য চাল দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নোবেলপ্রাপ্তির সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। অক্টোবরে নোবেল প্রাপ্তির ঘোষণা আসবে। পাক-ভারত এবং ইরান-ইসরাইল যুদ্ধবন্ধে ট্রাম্প প্রধান চরিত্র। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধবিরতি ঘটাতেও ভূমিকা রাখছেন। সেক্ষেত্রে ‘ইউনূস মিশন’ সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। ইতোমধ্যে ট্রাম্প বলেছেন, ‘হি ইজ মাই গ্রেট ফ্রেণ্ড’। ভারত ভাবছে এই ইস্যুতেই এখন বাংলাদেশের মুঠোয় আমেরিকা।