আমেরিকার ইতিহাসে শতাধিক বছরের মধ্যে এবং স্টেট হিসেবে মর্যাদা লাভের পর এই প্রথমবার সর্বাপেক্ষা ধ্বংসাত্মক বুনো আগুনের কবলে পড়েছে হাওয়াই। অনাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কারণে ৮ আগস্ট সূচিত ওয়াইল্ড ফায়ার বা বুনো আগুন ঝটিকা বেগে উৎপত্তিস্থলের আশপাশের মাউইসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে গ্রাস করেছে। হাওয়াইর গভর্নর জশ গ্রিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এখন পর্যন্ত আগুনে পোড়া ৯৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। গভর্নর গ্রিন আরও বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দুই ডজন কুকুরসহ ধ্বংসস্তূপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তার বর্ণনা অনুসারে, সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ধ্বংসস্তূপে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হয়েছে। আর হাওয়াইর ইউএস সিনেটর মাজি হিরোনো দাবি করেন, আমেরিকার ইতিহাসে বিগত ১০০ বছরে অন্য কোনো বুনো আগুনে এত লোক প্রাণ হারায়নি। সিনেটর হিরোনো বলেন, বুনো আগুনে পুড়ে মৃতের সংখ্যা বিচারে মাউইর অগ্নিকাণ্ড ক্যালিফোর্নিয়ার ২০১৮ ক্যাম্প ফায়ারকেও হার মানিয়েছে।
এদিকে মাউই পুলিশপ্রধান জন পিলেটির জানান, লাহাইনার নিকটবর্তী ভস্মীভূত এলাকা থেকে উদ্ধারকৃত ৯২টি মৃতদেহের মধ্যে ডিএনএর সাহায্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। গভর্নর গ্রিনের বর্ণনা অনুসারে, ঐতিহাসিক লাহাইনা শহরের সিংহভাগ পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বুনো আগুনে হাওয়াইর দ্য বিগ আইল্যান্ড ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং সব ধরনের প্রমোদভ্রমণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, লাহাইনার অগ্নিকাণ্ডে ২ হাজার ২০৭টি স্থাপনা এবং ২ হাজার ১৭০ একর ভূখণ্ড পুড়ে ছাই হয়েছে। আর দ্য প্যাসিফিক ডিজেস্টারের বর্ণনা অনুসারে, ইতিমধ্যে লাহাইনা অগ্নিকাণ্ডে ২ হাজার ৭১৯টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এর মধ্যে ২ হাজার ২০৭টি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ধ্বংসপ্রাপ্ত কুলার ৫৪৪টি স্থাপনার মধ্যে ৯৬ শতাংশ এবং সামগ্রিক বিচারে ৮৬ শতাংশ স্থাপনাই আবাসিক বলে জানা গেছে। লাহাইনা, আপতান্ট্রি মাউই এবং পুলেহ অ্যান্ড কিহির নিকটবর্তী অগ্নিনির্বাপণে কর্মীরা প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। মেয়র রিচার্ড বিসেনের নির্দেশে ১ হাজার ৪০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে সহকারী পুলিশপ্রধান জেফ গিসিয়া জানিয়েছেন।