Thikana News
২৯ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

সুস্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫

সুস্বাগত ইংরেজি নববর্ষ ২০২৫
বিশ্ব মুসলিমের শাশ্বত জীবনবিধান পবিত্র কোরআনের মক্কায় অবতীর্ণ সুরা ইয়াসিনের ৩৮ নং আয়াতের বর্ণনানুসারে : ‘এবং সূর্য এর নির্দিষ্ট কক্ষপথে পরিভ্রমণরত; এটি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।’ [আর জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় আহ্নিক গতির ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ায় সূর্য প্রতি ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে নিজ কক্ষপথে একবার নিজেকে আবর্তন করে। এর ফলে দিবারাত্রি সংঘটিত হয়। আবার নিজ কক্ষপথে আবর্তনকালে সূর্য বার্ষিক গতির প্রভাবে ৩৬৫ দিন ৬ ঘণ্টা ২৪ সেকেন্ডে মহাবিশ্বকেও একবার প্রদক্ষিণ করে। এর ফলে ঋতু পরিবর্তন, অর্থাৎ গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত সংঘটিত হয়।] আবার একই সুরার ৩৯ নং আয়াতের বর্ণনানুসারে : ‘এবং চন্দ্রের জন্য আমি বিভিন্ন কক্ষপথ নির্দিষ্ট করেছি; অবশেষে তা খেজুরের শুকনো বাঁকা শাখার মতো হয়ে যায়।’ [জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় অমাবস্যার তারিখে সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে পশ্চিমাকাশে নতুন চাঁদের উদয় ঘটে এবং সামান্য পরেই মিশে যায়। আর পরের দিন থেকে ধীর লয়ে চাঁদ বৃদ্ধি পেতে থাকে ও সপ্তমী তিথিতে পূর্ণ আকার ধারণ করে; যাকে পূর্ণিমা বলা হয় এবং ওই তিথিকে বলা হয় শুক্লপক্ষ। আবার পূর্ণিমার পরদিন থেকে চন্দ্র ধীর লয়ে ক্ষয় হতে থাকে এবং ত্রয়োদশ বা চতুর্দশ তিথিতে পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়, যাকে বলা হয় অমাবস্যা এবং ওই পক্ষকে কৃষ্ণপক্ষ বলা হয়।] এদিকে সুরা ইয়াসিনের ৪০ নং আয়াতে বলা হয়েছে : সূর্য চন্দ্রের নাগাল পায় না [অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে উদিত হয়ে রাতকে মুছে ফেলার বা চন্দ্রকে স্পর্শ করার সামর্থ্য সূর্যের নেই]। রাত দিবসকে অতিক্রম করে না এবং মহাশূন্যে প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সন্তরণ বা পরিভ্রমণ করে। [জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় মহাকর্ষ শক্তিবলে মহাবিশ্বের বস্তুনিচয় পরস্পরকে নিজ নিজ কেন্দ্র অভিমুখে সর্বদা আকর্ষণ করছে। অথচ কোনো বস্তুই অপর বস্তুকে নিজের কেন্দ্রবিন্দুতে টেনে আনতে সক্ষম হচ্ছে না।
তাই সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকে মহাপ্রলয়ের আগ পর্যন্ত মহাকর্ষ শক্তির বলে মহাবিশ্বের যাবতীয় বস্তুসামগ্রী পরস্পরকে নিজ নিজ কেন্দ্রের দিকে আকর্ষণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও কার্যত কেউই অন্যকে নির্দিষ্ট কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না। অতএব, মহাপ্রলয়ের আগ পর্যন্ত বিশ্ব প্রতিপালকের নির্দেশেই সমগ্র সৃষ্টিজগৎ নিজ নিজ কক্ষপথে পরিভ্রমণ করবে এবং দিনের অবসানে রাত, রাতের অবসানে দিন, গ্রীষ্মের পর শীত, বসন্ত ইত্যাদি ঋতুপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। ফলে কিয়ামত বা মহাপ্রলয়ের আগ পর্যন্ত স্বয়ং বিশ্বপ্রতিপালক নির্ধারিত চিরায়ত রীতি ও প্রথার আলোকেই একটি বছরের বিদায় এবং নতুন বছরের আগমন ঘটবে। এ ক্ষেত্রে বিশ্ব পরাশক্তির তর্জন-গর্জন, বিজ্ঞানের রক্তচক্ষুর শাসানি, সামাজিক-ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক যাবতীয় লোকাচার এবং নিয়ম-রীতি অর্থহীন। সেই নিরিখে আগামী ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাত ১২টায় ঘটনাবহুল ২০২৪ সাল মহাকালের গর্ভে চিরতরে হারিয়ে যাবে এবং বুধবার ১ মিনিটে নববর্ষ ২০২৫ এর শুভ সূচনা হবে। এভাবেই একটি বছরের বিরহ-বেদনা ও বুকভরা যাতনার অগ্নিসিন্ধুকে বুকে চেপে ধরে এবং অনাগত বছরের গগনচুম্বী আনন্দ-প্রত্যাশার স্বপ্ন বুনতে বুনতে একদিন বিশ্ববাসী পৌঁছে যাবে সেই অবধারিত মহাপ্রলয় দিবসের সান্নিধ্যে। আর মহাপ্রলয় বা কিয়ামত প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনের মক্কায় অবতীর্ণ সুরা ওয়াক্বি’আহর ১ থেকে ৬ নং আয়াতে বিশদভাবে এবং মদিনায় অবতীর্ণ পবিত্র সুরা আর-রাহমানের যথাক্রমে ২৬ ও ২৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে : কুল্লু মান আলাই ফা-ন (ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই নশ্বর) এবং ওয়া ইয়াব্ক্ব-ওয়াজ্বহু রব্বিকা যুল জ্বালা-লি ওয়াল্ ইকরা-ম (অবিনশ্বর কেবল তোমার রবের সত্তা, যিনি মহিমাময়, মহানুভব।)
যাহোক, বিশ্বজুড়ে শতাব্দীর ভয়াবহ প্রাণঘাতী করোনার বড় ধরনের ছন্দপতনের পর কতিপয় অবিশ্বাস্য ও অবিস্মরণীয় ঘটনাপ্রবাহের জন্ম দিয়ে ২০২৪ সাল আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিগত ১২০ বছরের রাজনীতির ইতিহাসে এ বছরই ৪৫তম সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভাগ্যের বরপুত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ট্রাম্প গত ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসের ২২৬টি ইলেকটোরাল ভোটের বিপরীতে ৩১২টি ইলেকটোরাল ভোট পেয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাটদের ৪৬টি আসনের বিপরীতে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি সিনেটে ৫২টি আসন এবং কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের ২০৫টি আসনের বিপরীতে ২১৪টি আসন লাভ করায় ট্রাম্প স্বয়ং বিশ্বের সর্বাপেক্ষা শক্তিশালী রাষ্ট্রের কমান্ডার-ইন-চিফের দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় ৪৪টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প রিকারস আইল্যান্ড কারাগারের স্থলে শেষ পর্যন্ত শ্বেতপাথরের ওভাল অফিসে অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছেন ২০ জানুয়ারি সোমবার ২০২৫।
বাংলাদেশের ইতিহাসে সুদীর্ঘ ১৬ বছরের শাসন-শোষণের পর রক্তাক্ত জুলাই-আগস্টের সফল গণ-অভ্যুত্থানে এশিয়ার লৌহমানবী শেখ হাসিনা পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতে পালিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। পাকিস্তানের সাবেক কারারুদ্ধ প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে একাধিকবার আগ্নেয়গিরির লাভা উদ্্গিরণ ঘটলেও অদ্যাবধি তা সাফল্যের মুখ দেখেনি। ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হজরত ওমর (রা.) এর বংশধর আহমেদ আল-শারা নামে সমধিক পরিচিত সুন্নি বিদ্রোহী নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির নেতৃত্বে সিরিয়ায় আসাদ বংশীয়দের ৫৪ বছরের রাজত্বের গণেশ উল্টেছে। ক্যানসারাক্রান্ত পুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে আসাদ রাশিয়ায় পালিয়ে গিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন। বিরোধী দলের প্রচণ্ড চাপের মুখে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ইমানুয়েল ম্যাখোঁ পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন এবং তার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত মধ্যমপন্থী নেতা ফ্রাঁসোয়া বাইরুর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বর হামলায় স্বাধীনতাকামী ফিলিস্তিনি এবং হামাসের মৃতের সংখ্যা ৫২ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার পর সাময়িকভাবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। তবে ইসরায়েলি বাহিনীর নিষ্ঠুর হামলা এখনো পুরোপুরি থামেনি। ইউক্রেনে রাশিয়ার বর্বরোচিত সামরিক অভিযানের ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনবাসীর দুর্ভোগ চরমে ওঠার পরও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে জাতিসংঘসহ বিশ্বের পরাশক্তিগুলো ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকা পালন করছে। এভাবে মনুষ্যরূপী হায়েনা এবং গোটা বিশ্বকে গ্রাস করতে উদ্যত সিন্দাবাদের একচোখা দৈত্যদের জগৎজুড়ে নানা নির্মম ও করুণ কাহিনির বিশদ বর্ণনা দিয়ে পাঠকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটানো কাম্য নয়।
মোদ্দাকথা, ক্ষমতার রদবদল, উত্থান-পতন, জন্ম-মৃত্যু, হাসি-কান্না, বিরহ-ব্যথা, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং ব্যক্তিগত পাপ-পুণ্যের লাখো স্মৃতিবিজড়িত ২০২৪ সালের বিদায় এবং রঙিন স্বপ্নের দুর্মর উচ্ছ্বাসে ২০২৫ সালকে বরণ করতে তামাম দুনিয়াজুড়ে চলছে দৃষ্টিনন্দন প্রস্তুতির মহড়া। আর উৎসবমুখর বিশ্ববাসীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিউইয়র্ক সিটির লাখো উৎসুক জনতা বাঁধভাঙা আবেগ-উচ্ছ্বাসে ৩১ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রা এবং শৈত্যপ্রবাহকে উপেক্ষা করে ঐতিহাসিক টাইম স্কয়ারে জড়ো হন ২০২৪ সালকে বিদায় এবং ২০২৫ সালকে বরণ করতে।
যাহোক, আশরাফুল মাখলুকাত হিসেবে পরিচিত মানুষের জীবন নশ্বর পৃথিবীতে নেহাত ক্ষণস্থায়ী এবং জন্ম-মৃত্যুর অনুশাসনের বেড়িবন্ধনে আঁটসাঁট বাঁধা। তাই একটি বছরের বিদায় এবং অন্য বছরের সূচনালগ্নে জাগতিক মোটাদাগের লেনদেনের হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পাপ-পুণ্যের খতিয়ানের ওপর একবার চোখ বুলানোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কারণ ২০২৬ সালের নববর্ষকে বরণের সৌভাগ্য অনেকের না-ও হতে পারে। মৃত্যুর হিমশীতল স্পর্শে তার আগেই হয়তো-বা অনেককে প্রিয়জনদের স্নেহবন্ধন ছিন্ন করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমাতে হবে। তাই যুক্তিযুক্ত চিন্তন এবং বিচার-বুদ্ধিসম্পন্ন প্রাণী হিসেবে আমাদের মনে রাখা উচিত, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, ঐশ্বর্যমণ্ডিত ও বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য ধরাধামে আমাদের আগমন ঘটেনি। বরং সৌভ্রাতৃত্ববোধ বা অসহায়কে সাহায্য, আর্তমানবতার সেবা ও সমস্যা-জর্জরিতদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে সহায়তা, সর্বোপরি সর্বজনীন কল্যাণে জীবন উৎসর্গের জন্যই পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালা মানুষকে নিজ প্রতিনিধি হিসেবে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন। অথচ সৃষ্টিজগতের চিরশত্রু শয়তানের প্ররোচনায় এবং দুর্দমনীয় লালসার বশে আদম সন্তান-সন্ততিদের অনেকেই হাসি-আনন্দের মোহাবিষ্ট পার্থিব জীবনযাপন শেষে পাহাড়তুল্য পাপের বোঝা কাঁধে নিয়ে সর্বহারা নিঃস্ব হিসেবে পরকালে পাড়ি জমাচ্ছেন। আবার জগৎ-সংসারে বাঁচার বিষয়টি অনিশ্চিত হলেও মৃত্যু অবধারিত এবং অলঙ্ঘনীয়। বিশ্ববিধাতার নির্দেশে যেকোনো মুহূর্তেই আমাদের প্রত্যেকের ইহলীলা সাঙ্গ হবে এবং ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অনন্তলোকে যাত্রা করতেই হবে। তাই নিজেদের সীমিত শক্তি-সামর্থ্যানুযায়ী পরকালীন পাথেয় সঞ্চয় এবং বিশ্বপ্রতিপালকের রহমত অর্জনে তৎপর হওয়া আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। আবার মহান রাব্বুল আলামিনের বিশেষ অনুকম্পা ছাড়া পরকালীন মুক্তি সম্ভব নয় বিধায় প্রত্যেকের উচিত ব্যক্তিস্বার্থ বিসর্জন দিয়ে পরোপকারে সচেষ্ট হওয়া এবং সর্বদা সৃষ্টজীবের প্রতি সদয় ও সহানুভূতিশীল হওয়া।
বিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির আঙ্গিকে এবং পরাশক্তির অধীশ্বরদের সিন্দাবাদের একচোখা দৈত্যসুলভ আচরণের মানদণ্ডে ইংরেজি ২০২৪ বিদায় এবং ২০২৫ সালের আগমন বিশ্বের প্রায় ৫০০ কোটি অর্ধভুক্ত-অভুক্ত-সমস্যাজর্জরিত মানুষের জীবনে বিন্দুমাত্র আবেদন সৃষ্টি করার সামর্থ্য রাখে না। তা সত্ত্বেও প্রতিকূলতার সাগর পাড়ি দিয়ে জরাজীর্ণ অতীতকে বিদায় এবং নতুন আশা-আকাক্সক্ষা ও প্রাণভরা প্রত্যাশায় নতুনকে বরণ করার প্রবণতা বিশ্ববাসীর জীবনাচরণের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে মানুষের অবয়বধারী সাক্ষাৎ শয়তানদের পাশবিক প্রবৃত্তি এবং দস্যুপনা গোটা বিশ্বকে মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তুলছে। বিশ্বজুড়ে ধনী-নির্ধনের গগনচুম্বী ব্যবধান, মনুষ্যত্ববোধের অপমৃত্যু এবং দানবীয় শক্তির উত্থান গোটা বিশ্বকে নরকে পরিণত করার উপক্রম। গান ভায়োলেন্স, আগ্নেয়াস্ত্র সহিংসতা, পেশিশক্তির উত্থান, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, পররাজ্য দখলের মহড়া, ঘুষ-দুর্নীতি-অপরাধ প্রবণতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়া; ইউক্রেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের অযাচিত যুদ্ধবিগ্রহ বন্ধে জাতিসংঘের ঠুঁটো জগন্নাথের ভূমিকায় বিশ্ববাসীর নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও সভ্যতার অগ্রগতির ছদ্মাবরণে প্রতিবছরই মনুষ্যত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও নীতি-আদর্শের ন্যূনতম ১০% হারে অবক্ষয় এবং সম অনুপাতে দানবীয় ও পাশবিক শক্তির উত্থান ও বিকাশ ঘটছে। তাই যাবতীয় পাশবিক প্রবৃত্তির সমূল উৎপাটন এবং ধ্বংসপ্রায় মূল্যবোধ ও সুকুমারবৃত্তির উন্মেষ ঘটানো না গেলে নিকট ভবিষ্যতে গোটা বিশ্বে মনুষ্যরূপী হায়েনাদের অবাধ রাজত্ব কায়েম হবে। বিশ্ব মুসলিমের শাশ্বত জীবনবিধান পবিত্র কোরআনের মদিনায় অবতীর্ণ সুরা তোয়াহার ৫৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে, মিনহা খালাকনা’কুম, ওয়া ফিহা নূইদিকুম, ওয়ামিনহা নুখরেজুকুম তা’রাতান উখরা (এ মাটি থেকে আমি তোমাদের সৃষ্টি করেছি; এ মাটিতেই আমি তোমাদের ফিরিয়ে নেব এবং এখান থেকে তোমাদের পুনরায় বের করে নেব)। আর সুরা মুল্কে মহান আল্লাহ হায়াতের আগেই মউত সৃষ্টির সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। আর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের যাবতীয় লম্ফঝম্ফ, আস্ফালন, শক্তিমত্তা, বাহাদুরি, জৌলুশ নিঃশেষ হয়ে যাবে। আমাদের মরদেহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ধৌত করতে হবে অন্যদের। আমাদের মুখ সাদা কাপড়ে ঢেকে দেওয়া হবে। মরদেহ অন্যরা কাঁধে করে গোরস্থানে নিয়ে যাবে ও সমাহিত করবে। তাই সাধু সাবধান!
২০২৫ সালের সূচনালগ্নে যাবতীয় ঘাত-প্রতিঘাত সাহসিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা এবং অবধারিত মৃত্যুসহ মহান আল্লাহর যাবতীয় সিদ্ধান্তকে হাসিমুখে বরণ করে নেওয়া ও পারলৌকিক পাথেয় সংগ্রহের তওফিক দানের জন্য বিশ্বপ্রতিপালকের অপরিসীম রহমত কামনা করছি। আমিন!
লেখক : সহযোগী সম্পাদক, ঠিকানা, নিউইয়র্ক।
 

কমেন্ট বক্স