Thikana News
৩০ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

রফতানি আয়ে হঠাৎ হোঁচট

রফতানি আয়ে হঠাৎ হোঁচট
নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যেও গত ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ এই চার মাসে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রফতানি আয় এসেছিল দেশে। কিন্তু হঠাৎ করে এপ্রিলে তা হোঁচট খেয়ে নেমে এসেছে ৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে। রফতানি আয়ে বড় ধাক্কা খাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রফতানিকারক ও অর্থনীতিবিদেরা। তারা বলেছেন, এতে উদ্বেগের মধ্যে থাকা বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ আরও চাপের মধ্যে পড়বে।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যমতে, সদ্য শেষ হওয়া এপ্রিল মাসে ৩৯১ কোটি ৬৯ লাখ (৩ দশমিক ৯১ বিলিয়ন) ডলার রফতানি আয় দেশে এসেছে, যা গত বছরের এপ্রিলের চেয়ে ১ শতাংশ কম। আর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। গত বছরের এপ্রিল মাসে পণ্য রফতানি থেকে আয় হয়েছিল ৩ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার।
গত বছরের অক্টোবরে রফতানি আয়ে ধস নেমেছিল। ওই মাসে পণ্য রফতানি করে ৩৭৬ কোটি ২০ লাখ (৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল আগের বছরের অক্টোবরের চেয়ে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম ছিল ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। অক্টোবরের রফতানি আয় ছিল ২৬ মাস পর সবচেয়ে কম।
ইপিবির তথ্যমতে, টানা চার মাস পণ্য রফতানি থেকে ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারের বেশি আয় হয়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে পণ্য রফতানি থেকে ৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল। ডিসেম্বরে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। ২০২৪ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। একক মাসের হিসাবে এই অঙ্ক এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। দ্বিতীয় মাস ফেব্রুয়ারিতে পণ্য রফতানি করে ৫১৮ কোটি ৭৫ লাখ (৫ দশমিক ১৮ বিলিয়ন) ডলার দেশে আনেন রফতানিকারকেরা। মার্চে এনেছিলেন ৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পণ্য রফতানি থেকে ৪ হাজার ৭৪৭ কোটি ১৭ লাখ (৪৭ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন) ডলার আয় করে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত ২০২২-২৩ অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ বেশি। তবে ৫০ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার লক্ষ্যের চেয়ে ৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ কম।
ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) পণ্য রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে টানা তিন মাস (অক্টোবর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর) প্রবৃদ্ধি কমায় ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসাবে সামগ্রিক পণ্য রফতানি বৃদ্ধির গতি কমে দশমিক ৮৪ শতাংশে নেমে আসে। জানুয়ারিতে রফতানি বাড়ায় প্রবৃদ্ধি বেড়ে ২ দশমিক ৫২ শতাংশে উঠেছিল। ফেব্রুয়ারিতে তা আরও বেড়ে ৩ দশমিক ৭১ শতাংশে ওঠে। মার্চ শেষে বেড়ে ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশে ওঠে। এপ্রিলে রফতানি আয় কমায় অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) প্রবৃদ্ধি কমে ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এই সংকটের সময় রফতানি আয় বাড়ায় একধরনের স্বস্তি ছিল। কিন্তু এপ্রিলে হোঁচট খাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ল। এতে রিজার্ভ আরও কমে যাবে।
ইপিবির হিসাব বলছে, জুলাই-মার্চ এই ১০ মাসে মোট রফতানি আয়ের ৮৫ দশমিক ৫০ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রফতানি থেকে। পোশাক রফতানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, প্রতিবছরই এপ্রিল-মে মাসে রফতানি আয় একটু কম আসে। তবে এবার এপ্রিলে একটু বেশি কমেছে। ঈদের ছুটির কারণে কয়েক দিন কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ ছিল, রফতানি হয়নি। এপ্রিলে রফতানি কমার এটাও একটা কারণ।

কমেন্ট বক্স