মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অনেক অনুদান দেয়। তারা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও ভূমিকা রাখতে চায়। এগুলোর দেখভাল করতে কংগ্রেসে আছে বাংলাদেশ ককাস। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশে যে আমেরিকার ককাস হয়েছে, সেখানে এমন কোনো বিষয় নেই। বাংলাদেশে হওয়া ককাস আসলে আমেরিকার স্বার্থই দেখবে। এসব কথা বলেছেন বিবিসি বাংলার সাবেক প্রধান সাবির মুস্তাফা।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকারীদের বড় বক্তব্য ছিল এ দেশে ভারতের আধিপত্য চলবে না। এখন জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আমেরিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান দেখে মনে হচ্ছে, ভারতের আধিপত্য চলবে না, কিন্তু মার্কিন আধিপত্য ঠিকই চলবে।’
১৪ জুলাই মঙ্গলবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। দেশের সমসাময়িক নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য ইতিবাচক কিছু নয় বলে মনে করেন সিনিয়র সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ। তার ভাষ্যমতে, ‘আমার মনে হয়েছে, দেশটা যেন আমেরিকার কলোনি হয়ে গেছে। একটি দেশের সংসদ ভবনের সামনে এসে অন্য একটি দেশের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান, পৃথিবীতে আর কোনো দেশে এই নজির আছে বলে আমার জানা নেই।’
জনসাধারণ যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে শামিল হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি- মন্তব্য করেন কলামিস্ট ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার আরশাদ মাহমুদ। তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকার দেশে আমূল পরিবর্তন আনবে, এটা আশা করেছিল জনগণ। কিন্তু ড. ইউনূস ক্ষমতায় এসে নিজের স্বার্থে অনেক কিছু করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এখন সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের রায় নিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের যে মুখোমুখি অবস্থান, এটা আসলে কিছুই না। কারণ জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী জামায়াতে ইসলামী। তারা এখন সংসদের প্রধান বিরোধী দল। বিএনপিও সুবিধা পেয়েছে, ক্ষমতায় যেতে পেরেছে। এনসিপিও একধরনের সুবিধা পেয়েছে। তাদের ডাকে এখন আর মানুষ খুব একটা সাড়া দেয় না। তাই সংস্কার নিয়ে আশাবাদী হওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন সিনিয়র সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কোনো অর্জন নেই, এটা মানতে নারাজ সিনিয়র সাংবাদিক সাবির মুস্তাফা। তিনি বলেন, সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা আবার বহাল হয়েছে, এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন। কারণ নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে যাদের প্রতি গণমানুষ আস্থা রাখতে পারে, সেটা এখনো তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাই। এটা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। তবে ২০০৬ সালে বিএনপি কারসাজি করে এটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। সেই কারণে আসে এক-এগারো সরকার। যারা দুই বছর ক্ষমতায় ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এগুলো ছিল ধাক্কা, মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক ভাষ্যকার সাবির মুস্তাফা আরও যোগ করেন, ‘ওয়ান-ইলেভেনের কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থার যে ত্রুটি ধরা পড়েছিল, শেখ হাসিনার উচিত ছিল এটাকে আরও উন্নত করা, টেকসই করা। তার বদলে তিনি আদালতকে ব্যবহার করে এটাকে ফেলেই দিলেন। এখন সেই আদালত আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার-ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিয়েছে। জুলাই আন্দোলন সফল না হলে এটা কিন্তু সম্ভবই হতো না।’