তত্ত্বাবধায়ক ফিরলে বিচার বিভাগ নিয়ে কারসাজিও ফিরতে পারে
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ০৪:১১
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি ঠিকানা
আপিল বিভাগের রায়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে আসার পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এতে সর্বশেষ অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি হবেন নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান। এই ব্যবস্থা যদি ফিরিয়ে আনা হয়, তাহলে বিচার বিভাগ ঘিরে কারসাজি করার ঝুঁকি আবার ফিরতে আসতে পারে। যে পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালে। এসব কথা বলেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘শতভাগ ভালো জাতীয় নির্বাচন করতে হলে সার্বিক সিস্টেম পরিবর্তন করতে হবে। শুধু নিরপেক্ষ লোক দিয়ে সরকার গঠন করলেই হবে না। আবার বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়ে যেভাবে বিতর্ক করা হয়েছিল, তাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের সরকারে ভালো লোক পাওয়াও কঠিন হয়ে যাবে।’
৯ জুলাই বৃহস্পতিবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। দেশের সরকার, রাজনীতি ও বিচার বিভাগের বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
২০১১ সালের ৩০ জুন তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় সংসদে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বিল পাস করে। যার মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজনের পদ্ধতি বাতিল হয়। এরপর আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ নির্বাচনের ভালো কোনো পথ নিজেরাও দেখাতে পারেনি, এমন মন্তব্য করলেন রাজনৈতিক ভাষ্যকার আনিস আলমগীর। তিনি যোগ করেন, ‘পরবর্তীতে আমরা দেখেছি কখনো একতরফা নির্বাচন হয়েছে। কখনো রাতের ভোট হয়েছে। কখনো আমি-ডামি নির্বাচন হয়েছে। যার ফলে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।’
বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া একবার বলেছিলেন, দেশে নিরপেক্ষ বলে কেউ নেই। এ বিষয়টি সামনে এনে আনিস আলমগীর বলেন, ‘এখন নিরপেক্ষভাবে কথা বলতে গেলেও ট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যারা ক্ষমতায় থাকে, তাদের পক্ষে কথা না গেলেই প্রশ্ন তুলছে, আমাকে সাপোর্ট করছেন না, আপনি কেমন নিরপেক্ষ?’
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ যদি দেশের নিয়মিত রাজনীতিতে ফিরতে চায়, তবে তাদের জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভুল স্বীকার করে নিতে হবে বলে মনে করেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, কোটা আন্দোলন তারা শুরুতেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে ফেলতে পারত। সেটা না করে দমন-পীড়নের দিকে গেল। এটা কেন করল- এর ব্যাখ্যা অন্তত দিতে হবে, মনে করেন তিনি।
জুলাইপন্থী প্রথম সারির দলগুলো যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একধরনের সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইছে, এটা স্বীকার করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্র যদি অর্থনীতি, রাজনীতির দিক দিয়ে ভালো অবস্থানে না যায়, যদি আমাদের গণতন্ত্রের ভিত শক্তিশালী না হয়- তাহলে ভারত তোষণ, যুক্তরাষ্ট্র তোষণ, চীন তোষণ- এগুলো ঘুরেফিরে আসতেই থাকবে।’