ভারতের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ টানা তিনটি নির্বাচনে জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতা দখলে রেখেছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাদের পতন হয়েছে। তাই বাংলাদেশে এখন ভারতের বিরোধিতা করা অনেক সহজ বিষয়। কিন্তু চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করা সহজ নয়। এটাই রাজনৈতিক বাস্তবতা। এসব কথা বলেছেন জি-নাইন-এর সাধারণ সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার। আর চুক্তিটি বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিকে জানিয়ে করা হয়েছে, এটাও সত্য। নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক শক্তি এতে সায় দেবে না, এটা হতেই পারে না। কারণ নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বিরূপ মনোভাব দেখানোর ঝুঁকিটি কেউ নেবে না। নিজেদের বাংলাদেশপন্থী যারা বলছে, সেই দলগুলো নির্বাচনের পরেও কিন্তু সংসদের ভেতরে বা বাইরে চুক্তির বিরুদ্ধে কোনো জোরালো অবস্থান নেয়নি। আমরা স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের কথা যতই বলি- ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে সমন্বয় করে রাজনীতি করা দুরূহ ব্যাপার।’
৮ জুলাই বুধবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা) যা সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন ইউটিউব চ্যানেলে। দেশের সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন দুই অতিথি।
সরকার ও রাজনীতির নানা কিছুতে সোচ্চার থাকলেও মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে এনসিপি নীরব কেন? এমন প্রশ্নে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘এই চুক্তি নিয়ে আমাদের দলীয় ফোরামে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এটি নিয়ে সংসদে যাতে আলোচনা হয়, সেই দাবি করেছেন আমাদের দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। কিন্তু সংসদে সরকারের পক্ষ থেকে এ নিয়ে কোনো উদ্যোগ এখনো দেখিনি। আমরা চাই সংসদে আলোচনার মাধ্যমে মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির একটি পরিণতি হোক।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব জুলাইপন্থী সব রাজনৈতিক দল পাবে। কারণ সেই আন্দোলনের সমন্বয়করা ডান, বাম, মধ্যপন্থী- নানা দল ও ছাত্রসংগঠন থেকে এসেছিলেন। সে ক্ষেত্রে জুলাই আন্দোলনের ভাগীদার হিসেবে অন্য কাউকে এনসিপি কেন সেভাবে গ্রহণ করতে চায় না- এ প্রসঙ্গে এনসিপির রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, দেশের ৫৫ বছরের রাজনীতির ইতিহাসে নাহিদ, আসিফ, হাসনাত, সারজিসরা যেটা করে দেখিয়েছেন, সেই সমন্বয়টা তারেক রহমান কয়েক বছর চেষ্টা করেও পারেননি। ডান, বাম, মধ্যপন্থী সবাইকে একই জায়গায় এনে জুলাই আন্দোলন সফল করার কৃতিত্বের অধিকারী তাই নাহিদরা। তারা যে দলটি করবেন, সেটিকেই জুলাই আন্দোলনের মূল উত্তরাধিকার হিসেবে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
জুলাই অভ্যুত্থানের বড় দাবিদার এনসিপি, এটা মানতে নারাজ লেখক ও রাজনীতি বিশ্লেষক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনের বড় শক্তি ছিল বিএনপি ও জামায়াত। এ ধরনের রাজনৈতিক দলের যারা সমন্বয়ক ছিলেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নিজ নিজ দলে ফিরে গেছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনে জুলাই অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল, মনে করেন তিনি।