মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ :
• শেষ মুহূর্তের প্রচারে ট্রাম্পবিরোধিতায় জোর লেটিশিয়া জেমসের • ট্রাম্প প্রশাসনকে মামলার হুঁশিয়ারি মামদানির • বিনা বিচারে কাউকে আটকে রাখা ঠিক নয় • ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়ল জেট বিমান, নিহত ৯ • মিশিগানে ভোটের আগে ডেমোক্র্যাট নেতার দলবদল, পাল্টে যাচ্ছে হিসাব-নিকাশ • কাল মধ্যবর্তী নির্বাচন, কী অপেক্ষা করছে ট্রাম্পের ভাগ্যে? • মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেলো সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন • মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড : তিন সপ্তাহেও সৌদির জবাব পায়নি ঢাকা • একমাত্র মেসির ভোট পেয়ে যা বললেন মাজা • যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকার নয়, আলোচনায় সমাধান চান পেজেশকিয়ান

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

৩ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, হুমকিতে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ

৩ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, হুমকিতে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে হবিগঞ্জ জেলার সব কটি নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের খোয়াই নদীর গেট খুলে দেওয়ায় জেলায় এই নদীতে পানির প্রবাহ তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ৩টা পর্যন্ত খোয়াই নদীর চুনারুঘাটের বাল্লা সীমান্ত পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার এবং কালনী-কুশিয়ারা নদীর আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ফলে নদীতীরবর্তী জনপদের পাশাপাশি নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে ‘হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ’ নিয়ে।

এদিন দুপুর ৩টায় হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার প্রায় সব নদীতেই পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা খোয়াই নদীর বাল্লা সীমান্ত পয়েন্টে। একই নদীর হবিগঞ্জ শহরের মাছুলিয়া পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার ২৯৭ সেন্টিমিটার নিচে এবং শায়েস্তাগঞ্জ পয়েন্টে ৩৫৯ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও উভয় স্টেশনেই পানি দ্রুত বাড়ছে।

এদিকে কালনী-কুশিয়ারা নদীর আজমিরীগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে এই স্টেশনে এমন পরিস্থিতি অনেক সময় স্বাভাবিক সতর্কতা পর্যায়ের মধ্যেই পড়ে।

অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর (নবীগঞ্জ) পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং মার্কুলী (বানিয়াচং) পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। এর মধ্যে মার্কুলী পয়েন্টটি বিপৎসীমার সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

এ ছাড়া ধলেশ্বরী নদীর মাদনা (লাখাই) পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচে, সুতাং নদীর সুতাং ব্রিজ (শায়েস্তাগঞ্জ-লাখাই) পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার নিচে এবং সোনাই নদীর মনতলা (মাধবপুর) পয়েন্টে ৩৮৮ সেন্টিমিটার নিচে থাকলেও সব স্টেশনেই পানি বাড়ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হবিগঞ্জে ১০৯ দশমিক ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ‘উজানে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে এবং দেশের অভ্যন্তরে গত দুই দিন ধরে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারতের খোয়াই নদীর চাকমা গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে খোয়াই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। কালনী-কুশিয়ারার পানিও এক দিন আগেই বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার রাত থেকে জেলার প্রায় সব নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, খোয়াই নদীর পানি এভাবে বাড়তে থাকলে হবিগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। যেকোনো সময় বাঁধের দুর্বল স্থানে ভাঙনের আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদী-তীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

টানা বর্ষণ ও উজানের ঢলে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার নিম্নাঞ্চল ও নদী-তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে শঙ্কা বাড়ছে।

তবে হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলছেন, এখন পর্যন্ত বন্যার কোনো পূর্বাভাস পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

 
© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Developed by SolveEz