ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহমুদ হাসান সুমনের মালিকানাধীন স্পার্ক ভিশন লিমিটেডের ফ্যাক্টরি ও গুদামে কথিত লুটপাটের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর উপজেলা বিএনপি এক সংবাদ সম্মেলনে এটিকে ‘ফ্যাসিস্টদের পরিকল্পিত অপতৎপরতা’ বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজারকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার রাত প্রায় ৯টার দিকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের রহমতগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত স্পার্ক ভিশন লিমিটেডের কারখানা ও গুদামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
কারখানার পাহারাদার সুরুজ আলী জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই রাতে তার ছেলে ইমনকে পাহারার দায়িত্বে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে মালেক নামের আরও একজন নিরাপত্তাকর্মী দায়িত্বে ছিলেন। পরে লুটপাটের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, দুর্বৃত্তরা দুই পাহারাদারকে বেঁধে রেখে গুদামের মালামাল নিয়ে গেছে।
পাহারাদার ইমন দাবি করেন, মুখোশধারী ৬০ থেকে ৭০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর গুদামের তালা ভেঙে রিপ্লেক্টিভ স্টিকার, লোহাজাত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও অন্যান্য মালামাল দুটি পিকআপ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। তবে লুট হওয়া মালামালের পরিমাণ বা আর্থিক মূল্য সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি।
এই ঘটনার পর আজ ২১ জুন (শনিবার) রাত ৮টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ প্রেসক্লাবে উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঈশ্বরগঞ্জে কিছু ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে। তাদের মতে, এলাকায় চুরি, ডাকাতি, অগ্নিসংযোগ, ছিনতাই এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর লক্ষ্যে পরিকল্পিত অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে একটি মহল গোপনে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি সৃষ্টি, সামাজিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা এবং বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ওরফে মাজেদ বাবুকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঈশ্বরগঞ্জ পৌর বাজার সমিতির সভাপতি একেএম হারুন অর রশিদ বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে কোনো দুর্বৃত্তের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। এ বিষয়ে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অন্য বক্তারা ঈশ্বরগঞ্জের সকল অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নেতারা দাবি করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু পলাতক কর্মী-সমর্থক বিভিন্ন স্থানে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনকে আরও সতর্ক ও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিরুল ইসলাম ভূঁইয়া মনি, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক সাইদুল হক, সদস্য সচিব নূরে আলম জিকু, যুগ্ম আহ্বায়ক হায়দার আলী, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মিন্টু, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফরহাদ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি নওশাদ আফরোজ, কৃষকদলের সদস্য সচিব মোজাম্মেল হক ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উপজেলা সদস্য সচিব কামাল হোসেন প্রমুখ।
এদিকে ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও কোনো দুর্বৃত্তকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত লুটপাটের কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।
তিনি আরও জানান, স্পার্ক ভিশনের ইনচার্জ তারেক মাহমুদ ওরফে বাবুকে একটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার তাকে সন্ত্রাস দমন আইন/বিশেষ ক্ষমতা আইনের আওতায় দায়ের হওয়া ৮(১১)২৫ নম্বর মামলায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও রাজনৈতিক বক্তব্যের বাইরে গিয়ে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন হলে জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর হবে।