Thikana News
৩০ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
জাতীয় পার্টিতে অনানুষ্ঠানিক বিভক্তি

সরকারের জন্য মহাবিপদ সংকেত দিচ্ছেন কাদের 

সরকারের জন্য মহাবিপদ সংকেত দিচ্ছেন কাদের 
এরশাদের জাতীয় পার্টি অনানুষ্ঠানিকভাবে বিভক্ত হয়ে গেল। এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ও সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং তাদের অনুসারীদের দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে নির্বাচনের বাইরে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন চেয়ারম্যান জি এম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে চুন্নু দলের চেয়ারম্যানের সুপারিশকেও অগ্রাহ্য করেছেন। এ নিয়ে চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট আকার নিলেও বৃহত্তর স্বার্থে উভয় পক্ষই আপাতত নীরবতা পালনের নীতি নিয়েছেন।
জাতীয় পার্টির নেতৃস্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রওশন এরশাদ ও মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং তাদের অনুগামীদের মোকাবিলা করে পার্টিতে নিজেদের নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত করাই এ মুহূর্তে কাদের-চুন্নুর কাছে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। রওশন এরশাদ, তার পুত্র সাদ এরশাদ ও মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ তাদের অনুসারী উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে রহস্যময় আচরণ করা হয়েছে। রওশন এরশাদের জন্য ময়মনসিংহে দলীয় অন্য কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তার জন্য মোট তিনটি আসনে মনোনয়ন ফরম রাখা হয়। রংপুর-৩ ছিল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আসন। এরশাদ বরাবর এই আসন থেকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। তার পুত্র সাদকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। সাদ এই আসনের নির্বাচিত এমপি হলেও আসন্ন নির্বাচনে তাকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। জি এম কাদের নিজেই এখান থেকে নির্বাচন করছেন। জি এম কাদের এর আগে লালমনিরহাট থেকে নির্বাচনে অংশ নেন। লালমনিরহাটে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নেই। রংপুর-৩ সহ রংপুর শহরে এরশাদ এখনো বিপুলভাবে জনপ্রিয়। সে সুবাদে নির্বাচিত হয়ে আসতে সাদকে চাপে পড়তে হয়নি। একই কারণে কাদের ভ্রাতুষ্পুত্রকে তাড়িয়ে ভাইয়ের আসন থেকে সহজে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ নিতে সচেষ্ট হয়েছেন।
সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তিনি স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন। রওশন-রাঙ্গার অনুসারীদের তেমন কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। রওশন এরশাদ ও রাঙ্গাকে নেতৃত্বশূন্য করে পার্টিতে জি এম কাদের-চুন্নুদের নেতৃত্ব নিরঙ্কুশ করতেই তারা রওশন-রাঙ্গাপন্থীদের পরিকল্পিতভাবে মনোনয়নের বাইরে রেখেছেন বলে পার্টির অনেকেই মনে করছেন।
বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় জাতীয় পার্টি দৃঢ়ভাবেই আশা করছে, আগামী সংসদে তারাই হবে সংসদীয় বিরোধী দল। মহাসচিব চুন্নুসহ পার্টির কোনো কোনো সিনিয়র নেতা এমন আশাও করছেন, ক্ষমতাসীনদের বিকল্প হিসেবে দেশের ভোটার সাধারণ জাতীয় পার্টির প্রার্থীদেরও বেছে নিতে পারে। এমনকি সরকার গঠন করার মতো ফলাফল করার আশাও করছেন তারা। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন নিয়ে দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা প্রবল আকার নেয়। চেয়ারম্যান সাত-আটটি আসনে দলীয় মনোনয়নের জন্য জোরালো সুপারিশ করেন। কিন্তু মহাসচিব তার কোনো সুপারিশই রাখেননি। এ নিয়ে প্রবল বিরোধ থাকলেও বৃহত্তর স্বার্থে তারা নিষ্ক্রিয় রয়েছেন।
এদিকে রওশন এরশাদ নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়া ও নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। পার্টির চেয়ারম্যান কাদের ও মহাসচিব চুন্নুর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ এনে রওশন এরশাদ মনের দুঃখ ও ক্ষোভে উপরিউক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা যায়। পক্ষান্তরে জি এম কাদের তার স্ত্রী ও শ্যালককে দলীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। অরাজনৈতিক, অনভিজ্ঞ হলেও দলের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী বানানো হয়েছে তাদেরকে।
জি এম কাদেরকে নিয়ে সরকারের উচ্চতর মহলও সংশয়মুক্ত নয়। বিএনপিকে ঘিরে কাদের নিকট অতীতেও একাধিক রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা করেন। 
পরিস্থিতি অনুকূল বিবেচিত না হওয়ায় তার সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তবে ভবিষ্যতে তারা যে পুরোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন করে উদ্যোগী হবেন না, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। নির্বাচনী ফলাফল তাদের প্রত্যাশিত না হলে জাতীয় পার্টি ফলাফল প্রত্যাখ্যান করতে পারে। তারা ভোটের আগেই দলীয় প্রার্থীদের প্রত্যাহারও করে নিতে পারেন। আবার নির্বাচন পর্যন্ত মাঠে থেকে ফলাফল মেনে নেওয়ার পরও তারা নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এমনও হতে পারে, জি এম কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির এমপিরা সংসদ অধিবেশনে যোগদান থেকে বিরত থাকতে পারেন। অধিবেশনে যোগদান করলেও একটা পর্যায়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যরা সংসদ থেকে পদত্যাগ করতেও পারেন। 
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে বিএনপির কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে। নির্বাচনের পর বিএনপি সরকারবিরোধী তীব্র আন্দোলন সংগঠিত করতে উদ্যোগী হবে। 
এর একটা পর্যায়ে জাতীয় পার্টির সদস্যদের সংসদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সরকারকে চরম বিপর্যয়াত্মক পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। বিএনপি ও জাতীয় পার্টির নির্বাচনী ও নির্বাচন-পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে সরকারের উচ্চতর মহল অবগত ও সতর্ক রয়েছে বলেই জানা যায়। ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস এ সম্পর্কে বিশেষভাবে অবগত ও সক্রিয় বলেই জানা যায়।

কমেন্ট বক্স