Thikana News
৩০ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

রাজনীতিপাড়ায় নানা অশুভ গুঞ্জন

রাজনীতিপাড়ায় নানা অশুভ গুঞ্জন
রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে ছাড়াই আগামী নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কোনো সমঝোতার চেষ্টা দৃশ্যমান হয়নি। নির্বাচনে অংশ নেওয়া না নেওয়ার প্রশ্নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো বিভক্ত। আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, অন্যদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি নির্বাচন বর্জন করায় আওয়ামী লীগ চাচ্ছে যত বেশিসংখ্যক দলকে নির্বাচনে নিয়ে যাওয়ার। এ ক্ষেত্রে ছোট দলগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে।
দেশের রাজনীতি-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে অর্থনৈতিক ঝুঁকির সঙ্গে দেশের রাজনীতিও মহাবিপদে পড়তে যাচ্ছে। স্বয়ং নির্বাচন কমিশনারও বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে দেশের জন্য বিপদ রয়েছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনে যাবে না তারা। পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অনেক চাপ আসা সত্ত্বেও নমনীয় নয় দলটি। বিএনপি বলছে, তাদের শীর্ষ নেতাদের আটক করেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাজা দেওয়া হচ্ছে। একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই শত শত নেতাকর্মীকে আটক করা হচ্ছে। আদালতের মাধ্যমেও মুক্তি মিলছে না। এ ছাড়া নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা হুমকি দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে কোনোভাবেই রাজনৈতিক সংলাপ ও সমঝোতা হবে না। সরকার নির্যাতনের মাত্রা কত দূর পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে, তারা দেখতে চান বলেও দাবি তুলেছেন।
রাজনীতি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, কাজী হাবিবুল আউয়াল কমিশন চাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত বিএনপি যাতে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। বিএনপি যদি পর্দার আড়ালে সমঝোতায় রাজি হয়, প্রয়োজনে ১৫ থেকে ২০ দিন পিছিয়ে পুনঃ তফসিল ঘোষণা করা হবে। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, কমিশন যদি মনে করে, তাহলে সংবিধানের ভেতর থেকে তফসিল পেছাতে পারে। তবে বিএনপি বলছে, এবার তাদের নির্বাচনে যাওয়া মানে একাদশ সংসদ নির্বাচনের মতো আবারও সরকারকে পাঁচ বছরের জন্য বৈধতা দেওয়া। এখন নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী মনোভাব নিয়ে উজ্জীবিত। বিএনপি যদি সরকারের কোনো ফাঁদে পা দেয়, আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনে যায়, তখন দলের মধ্যে ভাঙন তৈরি হওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে।
চরম বৈরী পরিস্থিতিতেও বিএনপির অনমনীয়তা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের বিএনপি নির্বাচনে এলে পুনঃ তফসিলের ঘোষণা, বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে সরকারের নানা প্রচেষ্টার পেছনে দেশের রাজনীতিপাড়ায় নানা অশুভ কথা ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ কেউ আদৌ নির্বাচন হবে কি না, এ নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। নির্বাচন হলেও শেষ পর্যন্ত সরকার টিকতে পারবে কি না, অনেকের মনে সেই প্রশ্নও জাগছে। কেউ কেউ আবার তৃতীয় শক্তির উঁকিঝুঁকিও আঁচ করছেন। তার ওপর রিজার্ভের ধারাবাহিক পতন, দেশীয় মুদ্রা টাকার মানে রেকর্ড অবনমন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, তীব্র তারল্য সংকট এবং খেলাপি ঋণ ও মূলধন ঘাটতিতে ব্যাংক খাতে অস্থিরতাসহ নানামুখী সংকটে দেশের অর্থনীতি। নির্বাচন-পদ্ধতি নিয়ে সৃষ্ট অস্থিরতায় বৈদেশিক বিনিয়োগে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বিপুলসংখ্যক কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার শঙ্কার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চোখ রাঙানির কবলে রপ্তানি খাত। এমন পরিস্থিতিতে অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, সব সংকট সমাধানের একমাত্র উপায় সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত দুটি নির্বাচনে বিদেশি কোনো শক্তির তেমন হস্তক্ষেপ না থাকলেও এবার যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে। তাই এবারের নির্বাচন কতটুকু অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক হয়, তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। যদি নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয়, তাহলে তারাও হয়তো নির্বাচন মেনে নেবে। যদি আগের মতো একতরফা হয়, তাহলে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাদের মতে, বর্তমানে দেশ তিনটি সংকটে রয়েছেÑরাজনৈতিক সংকট, অর্থনৈতিক সংকট ও বৈদেশিক সম্পর্কজনিত সংকট। এ সংকটগুলো আরও ঘনীভূত হচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে যুক্তরাষ্ট্র তার বিদ্যমান আইনের আদেশবলে বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই রাজনৈতিক সমঝোতা না হলে এবং নির্বাচনের পরও হরতাল-অবরোধ চলতে থাকলে দেশ গভীর সংকটের মুখোমুখি হবে।
 

কমেন্ট বক্স