Thikana News
৩০ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

প্রসঙ্গ: মার্কিন হাউজ স্পিকার নির্বাচন

প্রসঙ্গ: মার্কিন হাউজ স্পিকার নির্বাচন
বাহারুল আলম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রীয় মর্যাদার ক্রমানুসারে (Order of Precedence) রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির পর মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন পরিষদ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকারের অবস্থান। কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি তাদের দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে নতুন প্রেসিডন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। হাউজ পরিচালনা (Legislative Agenda) তো বটেই রাষ্ট্রের বৃহত্তর তথা জাতীয় নিরাপত্তার সার্বিক স্বার্থে সে কারণে স্পিকার পদে একজন ব্যক্তির সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি।

স্পিকার পদটি এতোটা গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন হাউজে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে বিরাজিত তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে অক্টোবরের ৩ তারিখ থেকে ২৪ তারিখ পর্যন্ত দীর্ঘ তিন সপ্তাহ এই পদ শূন্য ছিল। পরে ব্যাপক দেন-দরবার ও নাটকীয়তার পর ২৫ অক্টোবর রিপাবলিকান পার্টি নতুন স্পিকার নির্বাচনে সক্ষম হয়। নতুন স্পিকার হন লুইজিয়ানা থেকে নির্বাচিত ৫১ বছর বয়সী রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক জনসন। তিনি ২০১৬ সালে প্রথম কংগ্রেসে নির্বাচিত হন। তিনি বিবাহিত ও চার সন্তানের জনক। মাইক জনসন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশির্বাদ ধন্য ও ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। 

৩ অক্টোবর স্পিকার কেভিন ম্যাকার্থির অপসারণের পর নতুন স্পিকার নির্বাচন নিয়ে এক অভূতপূর্ব জটিলতা ও অচলাবস্থায় সূত্রপাত হয়। ৩ অক্টোবর ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান ম্যাট গেটজ হাউজে স্পিকার পদ থেকে ম্যাকার্থির অপসারণের প্রস্তাব (Motion to vacate the chair of Speakership) আনেন। প্রস্তাবের পক্ষে ২১৬ এবং বিপক্ষে ২১০ ভোট পড়লে স্পিকার পদ শূন্য হয়ে যায়। নর্থ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান প্যাট্রিক মেকহেনার অস্থায়ী স্পিকারের (Speaker pro-tempore) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন স্পিকার নির্বাচনের জন্য সদস্যদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার সুযোগ দানের জন্য হাউজের অধিবেশন ৭ দিনের জন্য মূলতবি করা হয়। দুজন সদস্য স্পিকার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দেন। ১৭ অক্টোবর হাউজের অধিবেশন বসলে হাউজের ফ্লোরের ভোটাভুটিতে স্পিকার পদপ্রার্থী স্টিভ স্কালিজ স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় জন্য প্রয়েজানীয় ২১৭ জন সদস্যের সমর্থন পেতে ব্যর্থ হন। পরে অপর প্রার্থী জিম জর্ডানের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। নতুন প্রার্থী টম এমার স্পিকার নির্বাচতি হতে ব্যর্থ হলে রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে আদৌ নতুন স্পিকার নির্বাচন সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সংশয়ের সৃষ্টি হয়। মার্কিন কংগ্রেস এক নজীরবিহীন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির (Total mess and chaotic) মধ্যে পতিত হড। স্পিকারবিহীন কংগ্রেসে ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে মার্কিন সহায়তা এবং ১৭ নভেম্বরের গর্ভনমেন্ট ফান্ডিং ডেডলাইন ইস্যুগুলোর কিভাবে সমাধান হবে, তা নিয়ে তৈরি হয় ব্যাপক অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। বিশেষ করে ১৭ নভেম্বরের পূর্বে হাউজে সরকারের জন্য অর্থায়ন বিল (Appropriation Bill) পাস না হলে সরকার কার্যত অচল হয়ে পড়বে, যা হবে দেশের জন্য অত্যন্ত বিপর্যকর এক ঘটনা।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে স্পিকার হিসেবে কেভিন ম্যাকার্থির নির্বাচনের সময়ও ম্যাট গেটজ ও তার সমমনা কতিপয় অতি ডানপন্থী রিপাবলিকান সদস্য স্পিকার পদে ম্যাকার্থির নির্বাচনের বিরোধিতা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৩ দিনে ১৫ দফা ভোটাভুটি শেষে কেভিন ম্যাকাথি কোনোক্রমে স্পিকার নির্বাচতি হতে সক্ষম হন।
সাম্প্রতিক গর্ভনমেন্ট শাটডাউন ইস্যুতে কেভিন ম্যাকার্থি যেভাবে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে আলোচনা করে শাটডাউন এড়াতে সক্ষম হন, সেটা ম্যাট গেটজ ও তার বন্ধু সদস্যরা সহজভাবে নিতে পারেননি। এসব সদস্য ভেবেছিলেন শাটডাউন হলে জনমনে ডেমোক্র্যাটদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে, যা প্রকারন্তরে আগামী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বিজয়ী হতে সহায়ক হবে। মার্কিন হাউজের ২৩৪ বছরে ইতিহাসের স্পিকার অপসারণের ঘটনা এই প্রথম ঘটে।
রিপাবলিকান পার্টর অভ্যন্তরীণ গৃহবিবাদের জেরে মার্কিন কংগ্রেসে সৃষ্টি হওয়া বিশৃঙ্খলা পর্যবেক্ষণ করে জনৈক মার্কিন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক বলেন, Republicans Don`t Know how to govern. They know how to use a bullhorn. They know how to stop Legislation. They don’t know how to pass Legislation or how to find a new Speaker. That’s a disastrous message to voters.”

রিপাবলিকান পার্টির মধ্যে বিরাজিত এহেন অন্তর্কলহের কারণে সামনের দিনগুলোতে দলকে চড়া মূল্য দিতে হশে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করেন।

উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিরাজমান রুগ্ন অর্থনীতি, ওপেন বর্ডার এবং বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত প্রেসিডেন্ট বাইডেনের পড়ন্ত জনপ্রিয়তার কারণে ডেমোক্র্যাটদের যখন কাহিল অবস্থা, সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ডেমোক্র্যাটদের একটা যুতসই ইস্যুর প্রয়োজন ছিল। ম্যাট গেটজ তাদের সেই বহুল কাক্সিক্ষত ইস্যুটি উপহার দিয়ে দিয়েছেন। সাম্প্রতিক একাধিক জনমত জরিপে জনপ্রিয়তার বিচারে ট্রাম্পকে বাইডেনের চেয়ে এগিয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সাম্প্রতিক ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে ইসরায়েলের প্রতি বাইডনের সর্বাত্মক সমর্থনদানের ঘোষণার কারণে তার জনিপ্রয়তা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দেখা যায়। তবে এটা মনে রাখা জরুরি যে, জনমত জরিপ নয় বরং ভোটারদের ভোটেই প্রেসিডেন্ট এবং জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে থাকেন।     

লেখক : কলামিস্ট।

কমেন্ট বক্স