Thikana News
৩০ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

নয়াপল্টনেই মহাসমাবেশের ঘোষণা বিএনপির

নয়াপল্টনেই মহাসমাবেশের ঘোষণা বিএনপির ছবি সংগৃহীত
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনেই ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। এ জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে এই মহাসমাবেশ নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক হবে বলে দাবি করেছেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

২৫ অক্টোবর বুধবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মহাসমাবেশের এসব প্রস্তুতির কথা জানান। যদিও এর কয়েক ঘণ্টা আগে পুলিশের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে অনুমতি দেওয়া হবে, বিএনপিকে সেখানেই সমাবেশ করতে হবে।

বুধবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও তদন্ত) ড. খ. মহিদ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আশা করি সেই দায়িত্বশীলতার জায়গায় তারা থাকবে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘শনিবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এটাই উপযুক্ত জায়গা। এখানে আমরা একাধিকবার শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছি। এই মহাসমাবেশ হবে নজিরবিহীন, ঐতিহাসিক। সারা দেশের গণতন্ত্রহারা বঞ্চিত মানুষ ঢাকার দিকে ছুটে আসার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়েছে। যদিও সরকারি জুলুম, নির্যাতন, দমন-পীড়নের কোনো কমতি নেই। অব্যাহত গণগ্রেপ্তারের মধ্যেও দীপ্ত অঙ্গীকার নিয়ে তারা ঢাকার দিকে ছুটে আসছে।’

মহাসমাবেশ নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ রকম বক্তব্যে এটাই প্রমাণিত হয়–বাংলাদেশের জনগণ এখন পরাধীন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড, মতপ্রকাশ ইত্যাদি সবকিছুই এখন পুলিশের ছাড়পত্রের ওপর নির্ভর করবে।’

তিনি মনে করেন, বিএনপিসহ বিরোধী দলের প্রতি অবৈধ প্রধানমন্ত্রী ও পুলিশের ক্রোধ একইভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। তারা মনে করে, আওয়ামী লীগ ছাড়া সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকজন দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আক্ষরিক অর্থেই শেখ হাসিনার লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে কাজ করছে। অবৈধ সরকারের মন্ত্রীদের সুরে সুর মিলিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের হুমকির মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাদের হত্যার হুমকি, নির্মূলের হুমকি, হেফাজতকে দমনের মতো করে বিএনপির সমাবেশ নিয়ে হুমকি এক উপসংহারহীন পরিণতি সৃষ্টিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিষয়টি এমন দাঁড়াচ্ছে–আইন আদালতের ভবন আছে, কিন্তু বাস্তবে বাস্তবায়িত হচ্ছে ‘শেখ হাসিনাই হলো আইন’।

ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও পুলিশ ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ নিয়ে ঢাকা শহরকে ভয়ংকর একটা আতঙ্কের জায়গায় পরিণত করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।

রিজভী বলেন, ‘রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে র‌্যাবের চৌকি বসিয়ে তল্লাশির নামে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের বাড়িসহ আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে গিয়ে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ তল্লাশির নামে গ্রেপ্তার ও নানা কায়দায় হয়রানিসহ পরিবারের সদস্যদেরও বিভিন্নভাবে নাজেহাল করছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সরকার গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিকে নিষ্ঠুরভাবে দমন করার জন্য নানা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে নেতাকর্মীদের তুলে নিয়ে অস্বীকার করা, গণগ্রেপ্তার, গায়েবি মামলার হিড়িক আর হামলা ও রক্ত ঝরানোর কাজের পাশাপাশি রুটিনমাফিক মিথ্যাচার অব্যাহত রয়েছে। তবে বলপ্রয়োগ ও ভয় উৎপাদন করে জনতাকে আটকে রাখা যাবে না। দিগন্তরেখায় গণতন্ত্রের মুক্তিসূর্য উঠতে শুরু করেছে। গ্রাম-গঞ্জ, শহর, বাজার, বন্দর–সবখানেই এখন সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় বইছে। জনগণ দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। চলমান গণতান্ত্রিক সংগ্রামে জনগণের বিজয় হবেই। মানুষ তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করবেই।’

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বর্তমান সরকারকে ‘পণ্য সিন্ডিকেট-হিতৈষী সরকার’ বলে আখ্যায়িত করে বলেন, ‘ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে ঘোষিত পরবর্তী কর্মসূচিগুলো সফল করার জন্য দলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ২৮ অক্টোবরের পরে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করবেন। ঢাকার মহাসমাবেশে দেশব্যাপী সর্বস্তরের মানুষসহ দলের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ীদের যোগদান করে এক দফা দাবি আদায়ে দলের পক্ষ থেকে সোচ্চার আওয়াজ তোলার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’

এ সময় তিনি সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলার বিবরণ তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, নির্বাহী কমিটির সদস্য ফজলুর রহমান খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ঠিকানা/এনআই

কমেন্ট বক্স