তফসিল ঘোষণার পরপর অধিকাংশ ইসলামি দলকে নির্বাচনী ময়দানে শরিক করার জন্য জোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তাদের ইসলামি দলগুলোকে নিয়ে চলছে সঙ্গে সম্মানজনক ফয়সালা করার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে বিএনপি ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে এই প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।
চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী শাসনতান্ত্রিক আন্দোলন এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে বরাবর নির্বাচনী সমঝোতা করে থাকে। চাঁদপুরের একটি নির্বাচনে পীর সাহেবের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের কারণে সরকারের সঙ্গে দলের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। বরাবর নির্বাচনের পক্ষে থাকলেও এ ঘটনা তাদেরকে বৈরী করে তোলে। চরমোনাই পীরসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে উন্নত সম্পর্ক রয়েছে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর। এ ঘটনার পর তাকে পরিস্থিতি সামাল দিতে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গেও তাদের গোপনে বৈঠক হয়। এর মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার মাধ্যমে তাদের প্রভাবিত করার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পর হঠাৎ করেই বরফ গলে যায়।
এরশাদের জাতীয় পার্টির সঙ্গে তাদের নির্বাচনী জোট গঠনের কথাবার্তা চলছে। তবে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে ভিন্নতর অবস্থানে রয়েছে। রওশন এরশাদের নেতৃত্বাধীন অংশ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকতে পারলে চরমোনাইর পার্টির নির্বাচনী জোট তাদের সঙ্গেই হবে। আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি রওশনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শেষ পর্যন্ত মঞ্জুর জেপি চরমোনাইর ইসলামী শাসনতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে নির্বাচনী জোট করতে পারে।
চট্টগ্রামের মাইজভাণ্ডারীর তরীকত ফেডারেশন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটে রয়েছে। বাস্তবে এই জোট এখন অস্তিত্বহীন। নির্বাচনকেন্দ্রিক এই মহাজোট, এরশাদের জাতীয় পার্টি, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি মহাজোটেই রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে মহাজোটকে আবার বাস্তবে রূপ নাও দেওয়া হতে পারে। বিএনপি নির্বাচনে আসবে না বলে পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান থেকেই দলগুলো নির্বাচনে অংশ নেবে। তরীকত ফেডারেশন, নারায়ণগঞ্জের ইসলামিক পার্টিসহ আরো দু-তিনটি ইসলামি সংগঠন নিয়ে নির্বাচনী জোট গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
ধর্মীয় দলগুলোর প্রধান জামায়াতে ইসলামীসহ অপরাপর ইসলামি দলগুলো নিয়েও জোর টানাটানি চলছে। জামায়াত নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই বছর আগেই নিয়ে রেখেছে। তবে এ নিয়ে তাদের মধ্যে মতভিন্নতা রয়েছে। দলটির তরুণ নেতৃত্ব ও তাদের প্রধান শক্তি ইসলামী ছাত্রশিবির বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোরতর বিরোধী। পাশাপাশি বিএনপি সকল ভুল-বোঝাবুঝি, তিক্ততা, দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনবিরোধী ভূমিকায় অবস্থান নেওয়া এবং তা তীব্রতর করার চেষ্টা করছে। জামায়াতের ভূমিকা দ্বৈত বলেই সন্দেহ করছে বিএনপি। একসময় বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটে থাকা খেলাফত আন্দোলন, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম এবং আরো দু-তিনটি ধর্মীয় সংগঠনকে নির্বাচনবিরোধী অবস্থানে ধরে রাখার জোর চেষ্টা করছে বিএনপি। অন্যদিকে সরকার তাদের নির্বাচনী মাঠে শরিক করার গোপন প্রক্রিয়া যথাযথ মাধ্যমে করছে। তার সুফল পাওয়ার ব্যাপারে সরকারি মহলও আশাবাদী।