আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচনের তিন সপ্তাহেরও কম সময় আগে নতুন জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রুস ব্লেকম্যানের চেয়ে ১২ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন বর্তমান গভর্নর ক্যাথি হোকুল। তবে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে থাকলেও তাঁর প্রশাসনিক কার্যক্রমে সন্তুষ্ট ভোটারের হার মাত্র ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে স্বতন্ত্র ও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন— এমন ভোটারদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছেন ব্লেকম্যান। ফলে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ভোটার উপস্থিতি ও অর্থনৈতিক ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কের সংবাদমাধ্যম পিক্স১১, এমারসন কলেজ ও দ্য হিলের যৌথ জনমত জরিপে এ চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হোকুল সামগ্রিক সমর্থনে এগিয়ে থাকলেও রিপাবলিকান প্রার্থী ব্লেকম্যান স্বতন্ত্র ভোটারদের ৫৫ শতাংশের সমর্থন পেয়েছেন।
এমারসন কলেজ পোলিংয়ের পরিচালক স্পেন্সার কিমবলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিউইয়র্কের মতো ডেমোক্র্যাট-প্রধান রাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার করতে ব্লেকম্যানকে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে আরও বড় ব্যবধান তৈরি করতে হবে। তাঁর মতে, বর্তমানে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের ভোটদানে আগ্রহ তুলনামূলক বেশি, যা হোকুলের জরিপে এগিয়ে থাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
তবে হোকুলের জন্য উদ্বেগের বিষয় হলো তাঁর কাজের প্রতি ভোটারদের সীমিত সন্তুষ্টি। জরিপে মাত্র ৪০ শতাংশ উত্তরদাতা গভর্নর হিসেবে তাঁর কার্যক্রম অনুমোদন করেছেন। অর্থাৎ নির্বাচনী সমর্থনে এগিয়ে থাকলেও প্রশাসনিক জনপ্রিয়তায় তিনি শক্ত অবস্থানে নেই।
অন্যদিকে ব্লেকম্যানের অন্যতম রাজনৈতিক মিত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও নিউইয়র্কে কম। জরিপ অনুযায়ী, রাজ্যের মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট। ফলে ট্রাম্পের সমর্থন ব্লেকম্যানের নির্বাচনী প্রচারে কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
জরিপে ভোটারদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে জীবনযাত্রার ব্যয়। ২৮ শতাংশ ভোটার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যকে প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। করের বোঝা ও আবাসন ব্যয়কে পৃথকভাবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলেছেন ১২ শতাংশ করে ভোটার।
এ ছাড়া অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, চিকিৎসার ব্যয় ও জ্বালানির দাম নিয়েও ভোটারদের উদ্বেগ রয়েছে। এসব বিষয়ের প্রতিটিকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন ১০ শতাংশের কম উত্তরদাতা।
নিউইয়র্কের নির্বাচনী আলোচনায় জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও আবাসনসংকট গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য নিত্যপণ্যের মূল্য, কর ও বাড়িভাড়া বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।
জরিপে আন্তর্জাতিক রাজনীতির বিষয়েও ভোটারদের মতামত নেওয়া হয়েছে। ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করেছেন ৫০ শতাংশ উত্তরদাতা। এ বিষয়ে অনিশ্চিত অবস্থানে রয়েছেন আরও ১৭ শতাংশ।
অন্যদিকে নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপনে গভর্নর হোকুলের এক বছরের স্থগিতাদেশের প্রস্তাব সমর্থন করেছেন ৫৬ শতাংশ ভোটার। বিরোধিতা করেছেন ২৬ শতাংশ এবং নিরপেক্ষ অবস্থানে রয়েছেন ১৮ শতাংশ।
জরিপে নিউইয়র্কের আলোচিত রাজনৈতিক নেতাদের জনপ্রিয়তার চিত্রও উঠে এসেছে। রাজ্যজুড়ে ৪৭ শতাংশ ভোটার নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির কার্যক্রমে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন। জরিপে অন্তর্ভুক্ত নেতাদের মধ্যে তাঁর অনুমোদনের হার সর্বোচ্চ। অন্যদিকে মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমারের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন মাত্র ৩০ শতাংশ ভোটার।
সামগ্রিকভাবে জরিপে হোকুলের ১২ পয়েন্টের ব্যবধান নিউইয়র্কের গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরছে। তবে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ব্লেকম্যানের উল্লেখযোগ্য সমর্থন, হোকুলের সীমিত প্রশাসনিক জনপ্রিয়তা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে রয়েছে।
জনমত জরিপ নির্দিষ্ট সময়ে ভোটারদের মতামতের প্রতিফলন, নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল নয়।