রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ক্রিপ্টো প্রতারণায় নিষিদ্ধ মাশিনস্কি

ক্রিপ্টো প্রতারণায় নিষিদ্ধ মাশিনস্কি

বিজ্ঞাপন
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ক্রিপ্টোকারেন্সি ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সেলসিয়াস নেটওয়ার্কের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অ্যালেক্স মাশিনস্কিকে আর্থিক খাতে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কার্যালয়। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্তে তার কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অ্যাটর্নি জেনারেল এ তথ্য জানান। তার কার্যালয়ের অভিযোগ, সেলসিয়াসের নিরাপত্তা, গ্রাহকসংখ্যা ও বিনিয়োগ কৌশল সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে মাশিনস্কি বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে শত শত কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের মধ্যে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ২৬ হাজারের বেশি বিনিয়োগকারী ছিলেন।
২০২৩ সালে মাশিনস্কির বিরুদ্ধে মামলা করে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। অভিযোগে বলা হয়, সেলসিয়াসকে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে প্রচার করে গ্রাহকদের অর্থ ও ডিজিটাল সম্পদ জমা রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। অথচ প্রতিষ্ঠানটি উচ্চঝুঁকির বিনিয়োগে অর্থ ব্যবহার করে ক্ষতির মুখে পড়লেও সেই তথ্য বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রকাশ করা হয়নি।
সেলসিয়াস ছিল একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ঋণদানকারী প্ল্যাটফর্ম। গ্রাহকেরা সেখানে ডিজিটাল সম্পদ জমা রাখলে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। মাশিনস্কি বিভিন্ন সাক্ষাৎকার, জনসমাবেশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির প্রচার চালাতেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি সেলসিয়াসকে প্রচলিত ব্যাংকের চেয়েও নিরাপদ বলে দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকের মতো একই ধরনের নিয়ন্ত্রক সুরক্ষার আওতায় ছিল না।
অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেলসিয়াসের পতনে বহু বিনিয়োগকারী তাদের সঞ্চয় হারিয়েছেন। নিউইয়র্কের একজন বাসিন্দা প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগের জন্য নিজের দুটি সম্পত্তি বন্ধক রেখেছিলেন। অন্যদিকে এক প্রতিবন্ধী সাবেক সেনাসদস্য প্রায় এক দশক ধরে সঞ্চয় করা ৩৬ হাজার ডলার হারান।
লেটিশিয়া জেমস বলেন, মাশিনস্কি বিনিয়োগকারীদের তাদের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রমের পরিণতিতে বহু মানুষ আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা এবং ক্রিপ্টো খাতে প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১২ বছরের কারাদণ্ড : সেলসিয়াস-সংক্রান্ত মামলার পাশাপাশি মাশিনস্কির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও ফৌজদারি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তিনি ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের মামলায় তার ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে অবৈধভাবে অর্জিত ১ কোটি ডলার বাজেয়াপ্ত করতে ব্যর্থ হলে মাশিনস্কিকে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে হবে। এ ছাড়া নির্ধারিত শর্তে তিনি পূর্ণ ১২ বছরের কারাদণ্ড ভোগ না করলে আরও ১ কোটি ডলার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের জন্য সর্বোচ্চ ৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।
সেলসিয়াস দেউলিয়া হওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারী ও পাওনাদারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির দেউলিয়া কার্যক্রমের আওতায় পাওনাদারদের মধ্যে ৩৪০ কোটি ডলারের বেশি বিতরণ করা হয়েছে। তবে সব বিনিয়োগকারী তাদের সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে প্রতারণা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা।
সেলসিয়াসের ঘটনা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে জড়িত ঝুঁকি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রক তদারকির গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। বিনিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, ঝুঁকি, অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতি এবং গ্রাহকের সম্পদের সুরক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত যাচাই করার প্রয়োজনীয়তাও এ ঘটনা তুলে ধরেছে।
 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz