সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা। হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বিশেষভাবে শুভেচ্ছা। হিন্দুধর্ম সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মোৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা তিথিমতে ১৬, ১৭ ও ১৮ অক্টোবর শুরু হচ্ছে। প্রবাসের জটিল জীবনের সীমাবদ্ধতায় অনেকেই আবার তার আগে এবং পরেও এই উৎসবের আয়োজন করবেন। শরৎ শুভ্রতায় দেবী দুর্গার আগমন ঘটে বলে একে শারদীয় দুর্গোৎসব বলা হয়ে থাকে। একটি অঞ্চল বা সংগঠনের সবাই মিলে যখন এই উৎসবের আয়োজন হয়, তখন সেই উৎসবকে সর্বজনীন দুর্গোৎসবও বলা হয়।
প্রবাসেও দুর্গোৎসব নিয়ে হিন্দুধর্ম সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। ইতিমধ্যেই প্রতিমা গড়ার কাজসহ ছোটদের নতুন পোশাক, নারী-পুরুষের শাড়ি-গহনা, লেহেঙ্গা, পাজামা-পাঞ্জাবি কেনাকাটার কাজও শেষ হয়েছে। ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত দলে দলে চলবে দেবী-দর্শন। পূজামণ্ডপগুলো ধূপধুনোর গন্ধে ম-ম করবে। যদিও দুর্গোৎসব হিন্দুধর্ম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় আয়োজন, তবু ধর্ম যার যার উৎসব সবার—এই চেতনায় সব ধর্ম সম্প্রদায়ের মানুষ এই উৎসবে অংশ নেবেন।
এবার দেবী দুর্গা আসবেন নৌকায়। বিদায় নেবেন গজে। যে কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা থাকবে। হিন্দুধর্ম তত্ত্বে দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটেছিল স্বর্গ-মর্ত্য-পাতাল সবকিছু অসুরমুক্ত করতে। একসময় অসুরকুল স্বর্গ থেকে দেবতাদের বিতাড়িত করে নিজেরাই রাজত্ব কায়েম করে। দেবতারা স্বর্গ পুনরুদ্ধারে দেবী দুর্গার শরণাপন্ন হন। দেবী দুর্গা দশভূজায় সজ্জিত হয়ে স্বর্গ অসুরমুক্ত করতে ত্রিফলা ত্রিশূলে অসীম শক্তি নিয়ে রণরঙ্গিনীরূপে আবির্ভূত হন।
প্রকৃত বাস্তবে বিশ্বটা অসুরমুক্ত হয়নি। সবার জন্য আমাদের সমাজ আজও বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারেনি। সব ক্ষেত্রে দেখতে পাওয়া যায় মানুষরূপী সব অসুরের আস্ফালন। ধর্মে ধর্মে আছে এই অসুর। বর্ণে, সম্প্রদায়ে, কৃষ্টি-কালচারে এসব অসুর দৃশ্যমান। তাদের আস্ফালন, বিকৃত আনন্দে ধরণি প্রকম্পিত। আমাদের সুন্দরতম আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন পদদলিত। শুভশক্তি আজ রক্তাক্ত, ভীত, মুমূর্ষু।
আমাদের প্রার্থনা, ২০২৬ সালে দুর্গার আবির্ভাব ঘটুক সকল অসুর এবং অশুভ শক্তির নাশে। সকল অপশক্তি, সকল অন্ধকার দূর হোক, অসুর ও দানবমুক্ত হোক এ ধরাধাম। ধ্বংস, যুদ্ধ, বিগ্রহহীন ও কুসংস্কারমুক্ত হোক আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীর মানুষের মন। মুছে যাক সব গ্লানি, হিংসা, বিদ্বেষ। সকল ধর্ম-বর্ণ ও সম্প্রদায়ের মন কলুষমুক্ত হোক। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় অনাবিল আনন্দে মেতে উঠি সকল উৎসবে, আয়োজনে।
মানবতার জয়গানে উচ্ছ্বসিত হোক আমাদের চারপাশ। সকল ধর্ম, বর্ণ ও বিশ্বাসের মানুষের বাসযোগ্য হয়ে উঠুক আমাদের রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার। প্রবাসে এবং স্বদেশে সকলের দুর্গোৎসব সফল হোক, শুভ হোক। দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার আগমনে মানুষের সকল দুর্গতি, জীবনযন্ত্রণা দূর হয়ে যাক। সকল আয়োজন আনন্দময় হয়ে উঠুক। সকলের মনস্কামনা পূর্ণ হোক। হিন্দু সম্প্রদায়ের সকলকে শারদীয় শুভেচ্ছা। সকল মানুষের প্রতি থাকল শুভকামনা।