বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে বেসরকারি মূলধন, এসএমইতে অর্থায়নে জোর বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:১১
•
অনলাইন সংস্করণ
উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে বিনিয়োগের ঘাটতি পূরণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে (এসএমই) অর্থায়ন বাড়ানো এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শুরু হচ্ছে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের বার্ষিক সভা। আগামী ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় উন্নয়ন অর্থায়নে বেসরকারি মূলধনের ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কর্মসংস্থান সম্ভাবনা এবং উদীয়মান অর্থনীতিতে বিনিয়োগের বাধা দূর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের যৌথ বার্ষিক সভায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেবেন। ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিতব্য এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি উন্নয়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বাস্তবসম্মত পথ খুঁজে বের করা।
এবারের সভা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, ঋণের বোঝা, উচ্চ সুদহার ও ভূরাজনৈতিক সংঘাত উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। রয়টার্সের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সৃষ্ট জ্বালানি সরবরাহের ধাক্কা এবং বৈশ্বিক ঋণ পরিস্থিতি এবারের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ অবস্থায় শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির বিষয়টি সামনে আসছে।
উন্নয়ন অর্থায়নে বেসরকারি মূলধন
উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো, জ্বালানি, শিল্প, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু অনেক দেশের সরকারি বাজেট ও উন্নয়ন সহযোগীদের অর্থায়ন দিয়ে এই চাহিদা পূরণ করা কঠিন। এ কারণে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত করা বিশ্বব্যাংকের অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
বিশ্বব্যাংকের পরিকল্পনায় ঋণ গ্যারান্টি, ঝুঁকি ভাগাভাগি, নীতিগত সহায়তা এবং বিনিয়োগ উপযোগী প্রকল্প তৈরির মাধ্যমে বেসরকারি মূলধন আকর্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংস্থাটির মতে, সরকারি অর্থায়নের সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত করা গেলে উন্নয়ন প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগও বাড়বে।
এবারের সভায় ১৪ অক্টোবর ‘মোবিলাইজিং প্রাইভেট ক্যাপিটাল ফর জবস’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বিনিয়োগের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হবে। উদীয়মান বাজারে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো, নিয়ন্ত্রক পরিবেশ উন্নত করা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানোর উপায় এতে গুরুত্ব পাবে।
তবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোই একমাত্র লক্ষ্য নয়। বিনিয়োগের সুফল কতটা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং উৎপাদনশীলতা উন্নয়নে অবদান রাখছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বিনিয়োগের পরিমাণের পাশাপাশি তার গুণগত মান ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।
সাশ্রয়ী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার বাড়লেও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো ব্যয়বহুল প্রযুক্তি, দক্ষ জনশক্তির অভাব এবং সীমিত ডিজিটাল অবকাঠামোর কারণে পিছিয়ে রয়েছে। এই ব্যবধান কমাতে তুলনামূলক কম খরচের এআই প্রযুক্তি কীভাবে ছোট ব্যবসা, কৃষি, উৎপাদন ও সেবামূলক খাতে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হবে এবারের সভায়।
১২ অক্টোবর বিশ্বব্যাংকের বিশেষ আয়োজন ‘স্মল এআই, বিগ জবস’-এ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সাশ্রয়ী এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। আলোচনার মূল বিষয় হবে, কীভাবে কম খরচের প্রযুক্তি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজ সহজ করতে পারে, শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে পারে এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ছোট ও মাঝারি ব্যবসায় হিসাব সংরক্ষণ, পণ্য ব্যবস্থাপনা, গ্রাহকসেবা, বাজার বিশ্লেষণ এবং উৎপাদন পরিকল্পনায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়ানো গেলে ব্যবসার ব্যয় কমানো ও কার্যকারিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কৃষিতেও আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ, রোগবালাই শনাক্তকরণ এবং উৎপাদন পরিকল্পনায় এ প্রযুক্তি কাজে লাগতে পারে।
তবে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু প্রচলিত কাজের ধরন পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এআইকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাতে হলে কর্মীদের পুনঃদক্ষতা অর্জন, প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। শুধু প্রযুক্তি কেনা নয়, সেটি ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি করাও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে এসএমই ঋণ
ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ অনেক দেশের কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। কিন্তু ব্যাংকঋণ পেতে প্রয়োজনীয় জামানত, পর্যাপ্ত আর্থিক নথি এবং আনুষ্ঠানিক ব্যবসায়িক হিসাবের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হয়। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মী নিয়োগের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
এই সমস্যা মোকাবিলায় ডিজিটাল তথ্য ব্যবহার করে ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা মূল্যায়নের বিষয়টি বিশ্বব্যাংকের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ডিজিটাল লেনদেন, বিক্রির হিসাব, নিয়মিত আয়-ব্যয়ের তথ্য এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণযোগ্যতা নির্ধারণ করা গেলে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে থাকা অনেক প্রতিষ্ঠান অর্থায়নের আওতায় আসতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে এসএমই অর্থায়ন, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সংযোগ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো, অর্থায়নের সুযোগ বাড়িয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করা।
তবে ডিজিটাল তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের নির্ভুলতা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, ঋণগ্রহীতার সম্মতি এবং স্বচ্ছ মূল্যায়নব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ডিজিটাল অর্থায়ন নতুন সুযোগ তৈরির পাশাপাশি বৈষম্য ও তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকিও সৃষ্টি করতে পারে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ঋণ ও জ্বালানির চাপ
এবারের সভার আলোচনায় কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চ সুদহার এবং ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণকে কঠিন করে তুলছে।
রয়টার্সের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গ জানিয়েছেন, জ্বালানি ও সারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় কয়েক ডজন দেশের সঙ্গে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা চলছে। সংস্থাটি সংকট মোকাবিলায় অর্থায়নের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণেও জোর দিচ্ছে।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি দ্বিমুখী চাপ তৈরি করছে। একদিকে জ্বালানি ও আমদানি ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ঋণের সুদ পরিশোধে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় হওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে অর্থ ব্যয়ের সুযোগ সীমিত হতে পারে। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবারের আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অবকাঠামো, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার বিকাশও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় বেসরকারি মূলধন আকর্ষণ, ডিজিটাল অর্থায়ন ও সাশ্রয়ী এআই নিয়ে আলোচনার বিষয়গুলো বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে আন্তর্জাতিক আলোচনার সঙ্গে দেশের বাস্তব প্রয়োজনের সংযোগ ঘটাতে হবে।
বাংলাদেশে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের একটি অংশ জামানত, ঋণের উচ্চ ব্যয় এবং জটিল ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার কারণে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন পেতে সমস্যায় পড়ে। ডিজিটাল লেনদেন ও ব্যবসায়িক তথ্যের ভিত্তিতে ঋণ মূল্যায়নের সুযোগ বাড়ানো গেলে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের অর্থায়নে অন্তর্ভুক্ত করা সহজ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং ঋণগ্রহীতার অধিকার সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
একইভাবে সাশ্রয়ী এআই প্রযুক্তি দেশের ক্ষুদ্র শিল্প, কৃষি, পোশাকশিল্প, রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠান এবং সেবামূলক ব্যবসায় উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রযুক্তির সুফল পেতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সরবরাহ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণে বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বেসরকারি মূলধন আকর্ষণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের জন্য নীতিগত স্থিতিশীলতা, সহজ অনুমোদনপ্রক্রিয়া, চুক্তির বাস্তবায়ন, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে সম্ভাবনাময় প্রকল্প তুলে ধরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর নীতিগত ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের সভা থেকে বাংলাদেশ সরাসরি কতটা অর্থায়ন পাবে, তা আগাম নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে সভার আলোচ্য বিষয়গুলো থেকে উন্নয়ন অর্থায়নের নতুন পদ্ধতি, বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে নীতিগত ধারণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
সামনে কর্মসংস্থানমুখী প্রবৃদ্ধির পরীক্ষা
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভার সমাপনী প্লেনারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে ১৬ অক্টোবর। তবে সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি অনুযায়ী, পুরো বার্ষিক সভা চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
ব্যাংককের এই সভায় বেসরকারি বিনিয়োগ, এসএমই অর্থায়ন এবং এআইয়ের মতো প্রযুক্তিকে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করার যে লক্ষ্য সামনে আসছে, তার সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর। উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন যথেষ্ট নয়; সেই প্রবৃদ্ধি কতটা নতুন কাজ তৈরি করছে, ছোট ব্যবসাকে শক্তিশালী করছে এবং সাধারণ মানুষের আয় বাড়াচ্ছে, সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।
বাংলাদেশের জন্যও মূল প্রশ্ন একই—আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাকে কীভাবে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থানে রূপান্তর করা যায়। সে লক্ষ্য অর্জনে ব্যাংককের বার্ষিক সভার আলোচনা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিতে পারে।