বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন

কুনু-ফিরোজ প্যানেলের সমর্থনে কুমিল্লাবাসী

কুনু-ফিরোজ প্যানেলের সমর্থনে কুমিল্লাবাসী

বিজ্ঞাপন
আসন্ন বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচনকে সামনে রেখে কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন নিউইয়র্কে বসবাসরত বৃহত্তর কুমিল্লার কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের একটি অংশ। এ উপলক্ষে গত ৪ অক্টোবর রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্যানেলের প্রার্থীদের বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সিনিয়র সহসভাপতি অ্যাডভোকেট জামাল আহমেদ জনির সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতি ইউএসএর সভাপতি ইউনুস সরকার ও সিদ্দিক পাটোয়ারী।
সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা ওয়ালিউল্লাহ আতিকুর রহমান। ব্যক্তিগত জরুরি কাজে সভাস্থল ত্যাগের আগে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সভাপতি, রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান মিয়া। তিনি কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন জানান। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন কুইন্স সোসাইটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সোসাইটির সাবেক সভাপতি কাজী তোফায়েল ইসলাম।
সভায় আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন কুনু-ফিরোজ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ফিরোজ আহমেদ, সোসাইটির সাবেক ট্রাস্টি এমদাদুল হক কামাল, প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি জহির মোল্লা ও আনোয়ারুল ইসলাম, প্রধান সমন্বয়কারী বাবুল চৌধুরী এবং সহসাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ও সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন।
এ ছাড়া অতিথি ছিলেন কবি শামসুল আলম, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার সাবেক সভাপতি বদরুন্নাহার খান মিতা, সংগঠনটির একাংশের সভাপতি মইনুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ ময়নু জামান চৌধুরী, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও শাপলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন নিউইয়র্কের সাবেক সভাপতি ওয়াসিম উদ্দিন ভূইয়া, শাপলা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা রিপন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, জেএফকে এয়ারপোর্ট এমপ্লয়ী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মামুন মজুমদার, কুইন্স বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ফারুকুল ইসলাম এবং কুইন্স নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হাজী আবু তাহের। উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মিজানুর রহমান মিজান, মঞ্জুরুল আলম হারুন, মোহাম্মদ আলম সরকার, সৈয়দ মোহাম্মদ শওকত, ইয়ার আহমেদ ও বদরুল হক আজাদ।
আমন্ত্রিত অতিথিদের পাশাপাশি বক্তব্য দেন সিনিয়র সহসভাপতি পদপ্রার্থী দুলাল বেহেদু, কসবা সোসাইটির উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ কালাম ভূইয়া, সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা নাদের আইয়ুব, সিলেট সদর সমিতি ইউএসএর সভাপতি সাইফুল খান হারুন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহীনুর রহমান শাহীন এবং ওজনপার্ক নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মির্জা মাহমুদুল হাসান। প্যানেলকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এম ও জি রাসেল ভূইয়া।
সভায় কুনু-ফিরোজ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বৃহত্তর কুমিল্লার ছয় প্রার্থীকে বিশেষভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তারা হলেন সহসভাপতি পদপ্রার্থী ও সোসাইটির বর্তমান সহসাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ভূইয়া, বর্তমান কোষাধ্যক্ষ ও একই পদে পুনরায় প্রার্থী মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক পদপ্রার্থী এবং কার্যকরী সদস্য পদপ্রার্থী সিদ্দিক পাটোয়ারী, প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল বাছির ও কাওছার আলম। তারা সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির খান পল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, খুলনা সোসাইটি ইউএসএর সভাপতি কাজী এলিন, কুমিল্লা সোসাইটি ইউএসএর সভাপতি জাকির হোসেন, কসবা সমিতি ইউএসএর উপদেষ্টা মোহাম্মদ নাসিম, কুনু-ফিরোজ প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক টি মোল্লা, রেজাউল করীম, আবুল ভূইয়া সন্দ্বিপী, মোস্তফা মামুন মজুমদার ও কবীর হোসেন।
আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে বাংলাদেশ সোসাইটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বক্তারা। তারা বলেন, এই নির্বাচন শুধু নতুন কার্যকরী কমিটি গঠনের বিষয় নয়; সোসাইটির কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সাধারণ সদস্যদের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোরও সুযোগ।
সভায় সোসাইটির অর্থব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন খাতে ব্যয় এবং কবরসংক্রান্ত কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েকজন বক্তা। এসব বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
আজমল হোসেন কুনু তার নির্বাচনী অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন, “আগেও বলেছি, এখনো বলছি—সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা আশ্বাস দেব না। সোসাইটির অর্থ অপচয় করব না। তবে প্রয়োজনের জন্য যা করা দরকার, তা করব। আমরা নির্বাচন নিয়ে মিথ্যার রাজনীতি করতে চাই না।”
তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তিগত নামের জন্য সোসাইটির একটি অর্থও ব্যয় করব না। যেদিন সোসাইটির অ্যাকাউন্টে ভবন কেনার অর্থ জমা থাকবে, সেদিনই ভবন কিনব। আমরা নির্বাচিত হলে আমাদের প্রথম কাজ হবে ফিউনারেল হোম প্রতিষ্ঠা করা।”
ফিরোজ আহমেদ বলেন, তারা একটি জবাবদিহিমূলক সোসাইটি গড়ে তুলতে চান। নতুন অভিবাসীদের চাকরির সুযোগ খুঁজে পেতে সহায়তা, নিউইয়র্ক–ঢাকা–নিউইয়র্ক রুটে বিমান চলাচল চালুর বিষয়ে উদ্যোগ এবং প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করার অঙ্গীকার করেন তিনি। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে সোসাইটির কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বাবুল চৌধুরী বলেন, “আমাদের শেষ ঠিকানা কবরস্থান নিয়ে সোসাইটিতে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।” বিদায়ী নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা দুই বছরের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারেননি, তারা মেয়াদ তিন বছর করে কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন? তিনি কুনু-ফিরোজ প্যানেলকে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা সবার অংশগ্রহণে একটি জবাবদিহিমূলক সোসাইটি চাই।”
আবুল কালাম ভূইয়া, মফিজুল ইসলাম ভূইয়া ও সিদ্দিক পাটোয়ারী তাদের বক্তব্যে জানান, বিগত নির্বাচনে তারা সেলিম-আলী প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাদের অভিযোগ, কমিটির কর্মকাণ্ডে অস্বচ্ছতা, স্বজনপ্রীতি এবং বৃহত্তর চাঁদপুরবাসীর প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে তারা এবার কুনু-ফিরোজ প্যানেলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে নির্বাচন করছেন। সভায় বৃহত্তর চাঁদপুরবাসীর অংশগ্রহণ ও ঐক্যের প্রশংসাও করেন তারা।
সভাপতির বক্তব্যে জামাল আহমেদ জনি সোসাইটির ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ইফতার আয়োজনে ৯০ হাজার ডলার এবং ফটোকার্ড ও ম্যাগাজিনে ২৪ হাজার ডলার ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি এসব খরচের হিসাব প্রকাশের দাবি জানান। কবর কেনার অর্থ কেন ফেরত আনা হয়েছে, তার ব্যাখ্যাও চান তিনি। পাশাপাশি আগের মূল্যে সোসাইটির জন্য কবর কিনে দেওয়ার দাবি জানান বিদায়ী কমিটির প্রতি। আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদকে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের প্যানেলকে বিজয়ী করার অনুরোধ জানান তিনি।
সভায় কুনু-ফিরোজ প্যানেলের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামাল আহমেদ জনি। প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন সভাপতি- আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ সভাপতি- দুলাল বেহেদু, সহ সভাপতি- আবুল কালাম ভূইয়া, সাধারণ সম্পাদক-ফিরোজ আহমেদ, সহ সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ নওশাদ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ- মফিজুল ইসলাম ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক- মোহাম্মদ জামিল আনসারী, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- আহমেদ আর চৌধুরী, জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক- সৈয়দ গৌসুল হোসাইন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক- কয়েস আহমেদ, সাহিত্য সম্পাদক- মোহাম্মদ এ আখতার, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোর্শেদ আলম, স্কুল ও শিক্ষা সম্পাদক- মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক- বেগম এম চৌধুরী, যুব ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক- কাজী আর হাসান এবং কার্যকরী সদস্য- সিরাজুদ্দিন হক, মোহম্মদ এ সিদ্দিক, মোহাম্মদ আবুল বাসার, মাসুদুল হক সানু, মোহাম্মদ কাওসার আলম ও মোহাম্মদ এম ইসলাম।
বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের ২১টি পদে দুটি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীও রয়েছেন।
মতবিনিময় সভার শেষপর্বে আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আহমেদ সমর্থনের জন্য বৃহত্তর কুমিল্লাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
 

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz