যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন তথ্য ও সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে নতুন একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘আমেরিকা.গভ’ চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি করা এক নির্বাহী আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকদের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটে আলাদাভাবে গিয়ে সেবা নেওয়ার ঝামেলা কমানো। বর্তমানে সরকারি সেবা পেতে অনেক ক্ষেত্রে একাধিক ওয়েবসাইটে যেতে হয়, জটিল সরকারি পরিভাষা বুঝতে হয় এবং একই তথ্য বারবার দিতে হয়। আমেরিকা.গভ চালু হলে এসব প্রক্রিয়া একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, আমেরিকা.গভ শুধু সরকারি ওয়েবসাইট বা বিভিন্ন সংস্থার ওয়েবসাইটের তালিকা হবে না। এটি হবে একটি সেবামুখী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় নিজের প্রয়োজন জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি তথ্য ও সেবা খুঁজে নিতে পারবেন। প্রযুক্তিগতভাবে সম্ভব এবং অনুমোদিত ক্ষেত্রে একই প্ল্যাটফর্ম থেকেই একাধিক সরকারি লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি করা হবে।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ‘লগইন.গভ’ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও সমন্বিত ও নিরাপদ করার সুযোগ তৈরি হবে। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও নির্বাহী আদেশে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, আমেরিকা.গভ চালুর অর্থ এই নয় যে নাগরিকদের নিয়ে ফেডারেল সরকারের একটি নতুন কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার তৈরি হবে। প্রত্যেক সরকারি সংস্থা তাদের নিজস্ব রেকর্ড, তথ্যব্যবস্থা, আইনগত দায়িত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আগের মতোই বজায় রাখবে। কোনো সংস্থার কাছে থাকা ব্যক্তিগত তথ্য আইনসম্মত অনুমতি ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা সংস্থার কাছে উন্মুক্ত করা যাবে না। ১৯৭৪ সালের প্রাইভেসি অ্যাক্টসহ প্রযোজ্য আইন অনুসরণ করেই তথ্য ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হবে।
প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে। ব্যবহারকারীরা সাধারণ ভাষায় প্রশ্ন করলে সরকারি তথ্য ও সেবা সম্পর্কে উত্তর পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা, নির্ভরযোগ্যতা, স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা ও তথ্যের গোপনীয়তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আমেরিকা.গভ চালু হলেও বর্তমান সরকারি সেবা ব্যবস্থাগুলো বন্ধ হবে না। নাগরিকরা আগের মতোই সরকারি অফিসে গিয়ে, ফোনে, ডাকযোগে কিংবা সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবা নিতে পারবেন। নতুন প্ল্যাটফর্মটি হবে এসব সেবার একটি অতিরিক্ত ও সমন্বিত ডিজিটাল প্রবেশদ্বার।
নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী, আদেশ জারির ৯০ দিনের মধ্যে অফিস অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বাজেটের (ওএমবি) পরিচালককে বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার জন্য বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিতে হবে। এরপর সংস্থাগুলোকে তাদের আওতাধীন নির্ধারিত অনলাইন সেবাগুলো চিহ্নিত করে আমেরিকা.গভ-এর সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তুতি নিতে হবে। ইতোমধ্যে ব্যবহৃত ডিজিটাল ফর্ম, ড্যাশবোর্ড ও এপিআই ব্যবস্থাকেও নতুন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সমন্বয় করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জেনারেল সার্ভিসেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিএসএ) আমেরিকা.গভ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। এ কাজে ন্যাশনাল ডিজাইন স্টুডিও এবং ওএমবির সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে লগইন.গভ-এর সঙ্গেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় করতে হবে।
নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, নতুন প্ল্যাটফর্মের উদ্দেশ্য সরকারি সেবাকে মানুষের প্রয়োজনের কাছাকাছি নিয়ে আসা। একাধিক ওয়েবসাইটে ঘোরাঘুরি, একই তথ্য বারবার দেওয়া এবং অতিরিক্ত কাগজপত্রের চাপ কমিয়ে প্রযুক্তির মাধ্যমে সরকারি সেবা গ্রহণকে দ্রুত ও সহজ করাই এর অন্যতম লক্ষ্য।
ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকা.গভ চালু হলে একজন ব্যবহারকারী একটি নিরাপদ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন ফেডারেল সেবা ও তথ্যের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। তবে কোন কোন সেবা প্রথম পর্যায়ে যুক্ত হবে এবং প্ল্যাটফর্মটি বাস্তবে কতটা বিস্তৃতভাবে কার্যকর হবে, তা বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে।