ব্যালটে সংশোধন, পোলিং এজেন্ট নিয়ে প্রস্তাব গৃহীত, এক ভোটার এক ভোট; কেন্দ্রে প্রার্থীর অবস্থান সর্বোচ্চ ১০ মিনিট
বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন: প্রার্থীদের সঙ্গে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৪
•
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচনে প্রার্থীদের সঙ্গে কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। ছবি-ঠিকানা
বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করেছে নির্বাচন কমিশন। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার রাতে সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্যাম্পল ব্যালট থেকে শুরু করে পোলিং এজেন্ট, ডাবল ভোট প্রতিরোধ, প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ ও অবস্থান, নির্বাচন পরিচালনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রার্থীদের বেশ কয়েকটি প্রস্তাব ও সুপারিশ গ্রহণ করেছে কমিশন।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসেরসহ নির্বাচন কমিশনের সকল সদস্য উপস্থিত ছিলেন। কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন বদরুল এইচ খান, মোহাম্মদ শামসুদ্দিন আজাদ, মো. রুহুল আমিন সরকার, আহবাব চৌধুরী, মিঠু হামিদ ও মোহাম্মদ দুলাল মিয়া।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষে কমিশনার রুহুল আমিন সরকার ঠিকানাকে জানান, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে সেলিম-আলী পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহাম্মদ আলী, কুনু-ফিরোজ পরিষদের সভাপতি প্রার্থী আজমল হোসেন কুনু ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ফিরোজ আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী রাব্বী সৈয়দ সভায় অংশ নেন। দুই পরিষদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ৫ জন করে প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দুই পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ও সাধারণ সম্পাদক পদে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪৩ জন ২১টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সভায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা স্যাম্পল ব্যালট প্রার্থীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ব্যালট পর্যালোচনা করে প্রার্থীরা বেশ কিছু সংশোধনী ও পরামর্শ দেন। বিশেষ করে কয়েকজন প্রার্থীর নামের বাংলা ও ইংরেজি বানানে অসঙ্গতির বিষয়টি উঠে আসে। বাংলা বানান নিয়েও কিছু সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। কমিশন এসব প্রস্তাবের যৌক্তিক অংশ গ্রহণ করে চূড়ান্ত ব্যালট ছাপানোর আগে প্রয়োজনীয় সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভোটের দিন প্রতিটি কেন্দ্রে কতজন পোলিং এজেন্ট দায়িত্ব পালন করবেন, তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রার্থীদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব দেওয়া হলে নির্বাচন কমিশন সেটি গ্রহণ করে।
কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্বাচনী কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে পরিচালিত হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পোলিং এজেন্ট সংক্রান্ত ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে।
সভায় বিশেষ গুরুত্ব পায় একজন ভোটারের একাধিকবার ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা বা ভোটার তালিকায় ‘ডাবল ভোট’-এর বিষয়টি। নির্বাচন কমিশন এ ব্যাপারে জানায়, ভোটারদের তথ্য এমনভাবে সমন্বয় ও চিহ্নিত করা হচ্ছে যাতে একজন ভোটার কোনো অবস্থাতেই একাধিকবার ভোট দিতে না পারেন। একজন ভোটার একবারই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
ডাবল ভোট ঠেকাতে ভোটার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য বিশেষভাবে যাচাই ও হাইলাইট করার ব্যবস্থাও থাকবে বলে সভায় জানানো হয়।
ভোটের দিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক প্রার্থী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে একবার করে প্রবেশ করতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অবস্থান করতে পারবেন।
কোনো প্রার্থীর উপস্থিতির কারণে ভোটগ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন প্রভাবিত না হয় এবং সাধারণ ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন—সে লক্ষ্যেই এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুই প্যানেলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও প্রতি কেন্দ্রে পাঁচজন করে অনুমোদিত প্রতিনিধি প্রবেশের সুযোগ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় নির্বাচন কমিশন স্পষ্টভাবে জানায়, নির্বাচনের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সকল প্রার্থী, প্যানেল, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, পোলিং এজেন্ট ও সমর্থকদের বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন শুধু কমিশনের প্রচেষ্টায় সম্ভব নয়; এজন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সকল পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ ও আন্তরিক সহযোগিতা জরুরি।
নির্বাচনের দিন ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন না ওঠে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনকে সহযোগিতার কথা জানানো হয়।
নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আগামী ২৫ অক্টোবর, রোববার অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই পরিষদের প্রচারণার পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও উত্তেজনা।