শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প • রান্নাঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন, ফোনে এল নোবেল জয়ের খবর • শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, এর বিকল্প নেই • পাকিস্তানের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সুযোগ পেল বাংলাদেশ • ইউক্রেনে দুই বাসে রুশ হামলা, নিহত ৩৩, আহত ১৮ • বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে • প্রধানমন্ত্রীর নতুন বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন • রংপুরে ৪ খুন : সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শেখাতে ব্রুকলিনে ৪ হাজার ডলার

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন
​ওষুধের দাম কমানোর উদ্যোগে

মেডিকেইডে সাশ্রয় হতে পারে ৬৪ বিলিয়ন ডলার

মেডিকেইডে সাশ্রয় হতে পারে ৬৪ বিলিয়ন ডলার

বিজ্ঞাপন
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের আকাশচুম্বী মূল্য নিয়ন্ত্রণে বড় সফলতা দাবি করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসনের ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ নীতিভিত্তিক নতুন মেডিকেইড ওষুধ মূল্য মডেলে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সবকটি (৫০টি) রাজ্য, ওয়াশিংটন ডিসি ও পুয়ের্তো রিকো আবেদন করেছে। ফেডারেল সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে আগামী ১০ বছরে করদাতাদের আনুমানিক ৬৪.৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে।
‘জেনারাস’ নামের এই ৫ বছর মেয়াদী কর্মসূচিটি গত জানুয়ারি থেকে চালু হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো— বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশে নির্দিষ্ট ওষুধের যে নিট মূল্য রয়েছে, অতিরিক্ত রিবেট বা ছাড়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেইডের ক্ষেত্রেও তা একই পর্যায়ে নামিয়ে আনা। ফলে আমেরিকান রোগীদের অন্য দেশের তুলনায় বেশি দামে ওষুধ কিনতে হবে না।
সেন্টার্স ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেইড সার্ভিসেস (সিএমএস) জানিয়েছে, ৫০টি রাজ্যসহ ডিসি ও পুয়ের্তো রিকো অংশ নিতে আবেদন করলেও গত ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পর্যন্ত ৪০টি রাজ্য ও পুয়ের্তো রিকো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। বাকিদের আবেদন চূড়ান্ত করার সময়সীমা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।
হোয়াইট হাউস জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে ২৬টি প্রধান ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে, যা মার্কিন ব্র্যান্ডেড ওষুধের বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এর মাধ্যমে ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও অ্যাজমাসহ শত শত জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। ওভাল অফিসে এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, কিছু কিছু ওষুধের দাম ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রত্যাশিত ৬৪.৩ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয়ের মধ্যে প্রায় ২৭.৬ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে রাজ্য সরকারগুলোর এবং ৩৬.৬ বিলিয়ন ডলার পাবে ফেডারেল সরকার। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় সাত কোটি নিম্নআয়ের মানুষ ও বিশেষ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবায় মেডিকেইড বীমা ব্যবহৃত হয়। 
সিএমএস প্রশাসক ডা. মেহমেত ওজ এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়র এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ওষুধের ব্যয় কমলে রাজ্যগুলোর ওপর চাপ কমবে এবং শিক্ষা ও অবকাঠামোর মতো খাতে বাড়তি অর্থ বরাদ্দের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি তুলেছে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের সংগঠন ‘ফার্মা’। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে মার্কিন বাজারের ওষুধমূল্য বেঁধে দিলে নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ও ওষুধ উদ্ভাবনে গবেষণা ব্যাহত হতে পারে।
তবে সমস্ত সংশয় পেরিয়ে, ৫০টি রাজ্যের অংশগ্রহণ উদ্যোগটিকে একটি সর্বজনীন রূপ দিয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক রেটের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কত দ্রুত ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় এবং সাশ্রয়ের সুফল সরাসরি রোগীদের কাছে পৌঁছায়— সেটাই দেখার বিষয়।

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz