শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প • রান্নাঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন, ফোনে এল নোবেল জয়ের খবর • শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, এর বিকল্প নেই • পাকিস্তানের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সুযোগ পেল বাংলাদেশ • ইউক্রেনে দুই বাসে রুশ হামলা, নিহত ৩৩, আহত ১৮ • বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে • প্রধানমন্ত্রীর নতুন বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন • রংপুরে ৪ খুন : সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শেখাতে ব্রুকলিনে ৪ হাজার ডলার

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

আমার একমাত্র ছেলেকে কেন এভাবে মারল : অপ্রতিমের মায়ের আহাজারি

আমার একমাত্র ছেলেকে কেন এভাবে মারল : অপ্রতিমের মায়ের আহাজারি

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
‘কুমিল্লায় চাকরি করতে এসেছি—এটা কি আমার অপরাধ? আমার ছেলেকে কেন হত্যা করা হলো? আমি এর জবাব চাই, আমি এখন কেমনে বাঁচব!’

একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়ার পর এভাবেই আহাজারি করছিলেন মা ড. নাহিদা বেগম। তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী জঙ্গল লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারের সময় শিশুটির মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে অপ্রতিমদের বাসায় যান কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। শোকস্তব্ধ পরিবারটিকে সমবেদনা জানাতে গিয়ে একপর্যায়ে এমপি নিজেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এ সময় অপ্রতিমের মা তার কাছে বিচার দাবি করে বলেন, আমার একটা মাত্র ছেলে, তাকে কেন এভাবে হত্যা করা হলো?

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আমি এ এলাকার এমপি হিসেবে লজ্জিত ও দুঃখিত। এক মাসুম বাচ্চাকে আমরা রক্ষা করতে পারলাম না। বিষয়টি নিয়ে আমি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। ৯০ দিনের মধ্যে এ ঘটনার বিচার শেষ করতে হবে।

সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদার ছেলের এমন নির্মম পরিণতির কথা শুনে কুবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ওই অধ্যাপকের বাসায় ছুটে যান। বাবা-মায়ের বুকফাটা কান্না আর আর্তনাদে সেখানে শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, কেঁদে ফেলেন উপস্থিত অনেকে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতিম। এর পর থেকেই তার কোনো সন্ধান মিলছিল না। ছেলেকে না পেয়ে শুক্রবারই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। ২৪ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে লালমাই সানন্দা পাহাড় এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে কোটবাড়ী থানার পরিদর্শক মহিবুল আলম ভুঁইয়া জানান, মরদেহ উদ্ধারের পরপরই পুলিশের একাধিক দল মাঠে নামে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে সানন্দা এলাকার নুরুল আলমের ছেলে তুহিনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে আরও দুজনকে আটক করা হয়।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, আমাদের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। ঘটনার প্রাথমিক কিছু ক্লু বা সূত্র আমরা পেয়েছি। আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz