নিউইয়র্কের এথনিক ও কমিউনিটি মিডিয়া দপ্তরের নেতৃত্বে মাজিন সিদাহমেদ
অভিবাসী ও বহুভাষিক নিউইয়র্কারদের কাছে সিটি সেবা পৌঁছাতে কমিউনিটি মিডিয়ায় বিজ্ঞাপন ও অংশীদারত্ব জোরদারের দায়িত্ব
ঠিকানা অনলাইন
প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯
•
অনলাইন সংস্করণ
মাজিন সিদাহমেদ
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি তাঁর কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে সাংবাদিক ও মিডিয়া উদ্যোক্তা মাজিন সিদাহমেদকে নিয়োগ দিয়েছেন। প্রায় ১৫ বছরের সাংবাদিকতা ও কমিউনিটি মিডিয়ায় কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিদাহমেদ নতুন দায়িত্বে সিটির বিভিন্ন সংস্থার পেইড মিডিয়া, বিজ্ঞাপন ও বিপণন কার্যক্রমের নেতৃত্ব দেবেন।
নিয়োগের মূল লক্ষ্য হলো ভাষা, জাতিগত পরিচয় বা কমিউনিটির ভিন্নতা যেন কোনো নিউইয়র্কারের সিটি সরকারের সেবা ও কর্মসূচি সম্পর্কে জানার পথে বাধা না হয়। বিশেষ করে অভিবাসী, বহুভাষিক ও কর্মজীবী জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের পরিচিত সংবাদমাধ্যম ও যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরকারি তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মেয়রের জাতিগত ও কমিউনিটি গণমাধ্যম দপ্তর নিউইয়র্কের পাঁচ বরোর এথনিক ও কমিউনিটি সংবাদমাধ্যম, কমিউনিটিভিত্তিক সংগঠন এবং অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে সিটির বিভিন্ন সেবা ও কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য প্রচার করে। ২০২১ সালের লোকাকল ল’ ৮৩-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত দপ্তরটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মেয়রাল অফিস। আইন অনুযায়ী, মেয়রের অধীন প্রতিটি সিটি এজেন্সিকে তাদের মোট বিজ্ঞাপন ব্যয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ এথনিক ও কমিউনিটি মিডিয়ায় দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হয়।
মেয়র মামদানি বলেন, সরকারি সেবা তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই সেবার তথ্য প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছে। তাঁর মতে, যাদের সরকারি তথ্য ও সেবা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, অনেক ক্ষেত্রেই তারাই সেই তথ্য থেকে সবচেয়ে বেশি বিচ্ছিন্ন থাকেন। সিদাহমেদ অভিবাসী নিউইয়র্কারদের জন্য তাদের ভাষা ও ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মে আস্থাভিত্তিক সাংবাদিকতা গড়ে তুলেছেন উল্লেখ করে মেয়র বলেন, মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছানো হচ্ছে, সেটিও বার্তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্কের বিপুলসংখ্যক অভিবাসী ও বহুভাষিক বাসিন্দার কাছে স্থানীয় সংবাদপত্র, রেডিও, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ দৈনন্দিন তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। নতুন দায়িত্বে সিদাহমেদ এসব জনগোষ্ঠীর কাছে সিটির বিজ্ঞাপন ও জনসেবামূলক তথ্য আরও কার্যকরভাবে পৌঁছানোর পাশাপাশি এথনিক ও কমিউনিটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সিটি প্রশাসনের সম্পর্ক জোরদার করবেন।
সিদাহমেদ বলেন, অভিবাসী নিউইয়র্কারদের সঙ্গে প্রয়োজনীয়, কখনো জীবনরক্ষাকারী সেবা ও তথ্যের সংযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই তিনি ডকুমেন্টেড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এখন পুরো শহরজুড়ে একই কাজ বিস্তৃত করার পাশাপাশি নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় এথনিক ও কমিউনিটি সংবাদমাধ্যমকে শক্তিশালী করতে কাজ করতে চান তিনি।
মাজিন সিদাহমেদ সাংবাদিক, মিডিয়া উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় সাংবাদিকতা ও অভিবাসী কমিউনিটির পক্ষে কাজ করা একজন সংগঠক। তিনি অলাভজনক বহুভাষিক সংবাদমাধ্যম DocumentedAttachment.png-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক। প্রতিষ্ঠানটি ইংরেজি, স্প্যানিশ, চীনা ও হাইতিয়ান ক্রেওল ভাষায় অভিবাসী নিউইয়র্কারদের জন্য সংবাদ ও প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশ করে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ডকুমেন্টেড কমিউনিটির প্রয়োজন ও মতামতকে সাংবাদিকতার কেন্দ্রে রেখে কাজ করে আসছে।
ডকুমেন্টেড-এর ‘সম্পর্কের সেতুবন্ধন’ কর্মসূচির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে অভিবাসী জনগোষ্ঠীকেন্দ্রিক সাংবাদিকতার মডেল অনুসরণে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সিদাহমেদ ইমিগ্রেন্ট নিউজ কোয়ালিশন-এরও সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং নিউজ ফিউচার্স গার্ডেনিং ক্লাব-এর কো-চেয়ার।
সাংবাদিকতায় তিনি এডওয়ার্ড আর. মারো, ডেডলাইন ক্লাব, অনলাইন জার্নালিজম এবং লায়ন পুরস্কারের মাধ্যমে স্বীকৃতি। ২০২৪ সালে তিনি রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেস-এর লোকাল চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড পান। ডকুমেন্টেড-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে অভিবাসন আদালত নিয়ে তাঁর অনুসন্ধানী কাজ তাঁকে এডওয়ার্ড আর. মারো অ্যাওয়ার্ডের সম্মান এনে দিয়েছে।
‘ডকুমেন্টেড’ প্রতিষ্ঠার আগে সিদাহমেদ নিউইয়র্কে দ্য গার্ডিয়ান ইউএস-এ সাংবাদিকতা করেন। ২০১৬ সালের মার্কিন নির্বাচনসহ নজরদারি, ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা ও ঘৃণাজনিত অপরাধের মতো বিষয় নিয়ে তিনি রিপোর্ট করেছেন। তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু লেবাননের দ্য ডেইলি স্টারের মাধ্যমে। সেখানে সিরীয় শরণার্থী সংকট, লেবাননে অস্ত্র সরবরাহ এবং অভিবাসী গৃহকর্মীদের পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে তিনি পলিটিকো নিউ ইয়র্ক-এর জন্যও লিখেছেন।
উল্লেখ্য, সিদাহমেদের নিয়োগ এমন একটি দপ্তরে, যার দায়িত্ব সরাসরি নিউইয়র্কের ভাষাগত ও জাতিগত বৈচিত্র্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত। নতুন দায়িত্বে তিনি একদিকে সিটি সরকারের তথ্য ও সেবাগুলো বিভিন্ন ভাষাভাষী ও জাতিগত সম্প্রদায়ের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবেন। অন্যদিকে এথনিক ও কমিউনিটি মিডিয়ার সঙ্গে সরকারি বিজ্ঞাপন, তথ্যপ্রবাহ ও যোগাযোগের সম্পর্ক আরও জোরদার করাও তাঁর দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে।