প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০১
•
অনলাইন সংস্করণ
ছবি সংগৃহীত
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট পুলিশ লাইনসের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ সদস্যসহ অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জুলফিকার হামিদ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিস্ফোরকবোঝাই একটি যান প্রথমে পুলিশ লাইনসের প্রধান ফটকে আঘাত হানে। এরপর হামলাকারীদের একটি দল কাউন্টার টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) ভবনের দিকে অগ্রসর হলে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলিতে তারা নিহত হয়। অপর একটি দল স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের দিকে প্রবেশের চেষ্টা করে।
আইজি জুলফিকার হামিদ বলেন, একজন আত্মঘাতী হামলাকারী স্পেশাল ব্রাঞ্চ ভবনের কাছে বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপরই নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়।
পুলিশ জানায়, মোট সাতজন জঙ্গি পুলিশ লাইনসে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল। অভিযান শেষে ছয়জন জঙ্গি (যার মধ্যে একজন আত্মঘাতী হামলাকারীও রয়েছে) নিহত হয়েছে।
হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন জঙ্গি গোষ্ঠী ‘ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন’ এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণে একটি ভবনের দেয়াল ধসে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করছেন, আর চারদিকে ছড়িয়ে রয়েছে ইট-পাথরের স্তূপ।
খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঘটনাটির বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন চেয়েছেন। তিনি আহতদের দ্রুত চিকিৎসার নির্দেশ দিয়ে বলেন, নিরীহ মানুষের ওপর এ ধরনের সন্ত্রাসী হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কোহাটের বিস্ফোরণের নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্ফোরণের প্রতিবেদন চেয়েছেন। পাশাপাশি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছে রেডিও পাকিস্তান।
খাইবার পাখতুনখোয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্দিও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ।
কোহাট পুলিশ লাইনস-এর আগেও জঙ্গি হামলার শিকার হয়েছিল। ২০১০ সালে পুলিশ কলোনিতে রিমোট নিয়ন্ত্রিত বোমা বিস্ফোরণে ২০ জন নিহত এবং ৯০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছিলেন।