প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৫
•
অনলাইন সংস্করণ
২০৩০ সালের মার্কিন আদমশুমারি বা ‘সেনসাস ২০৩০’-এর তথ্য সংগ্রহ ও গণনা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিক বা গ্রিন কার্ডধারী নন—এমন ব্যক্তিদের আদমশুমারির গণনা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয় রয়েছে। একই সঙ্গে আদমশুমারিতে জাতি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি পরিবর্তন বা তা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।
নিউইয়র্ক ইমিগ্রেশন কোয়ালিশন (এনওয়াইআইসি) ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে প্রস্তাবটির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হলে সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত নীতি হিসেবে কার্যকর হয়নি। পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, জনমত গ্রহণ এবং সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে এর চূড়ান্ত রূপ নির্ধারিত হবে।
মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে প্রতি ১০ বছর পর আদমশুমারি পরিচালনার সাংবিধানিক ভিত্তি রয়েছে। এনওয়াইআইসির বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানের এনুমারেশন ক্লজে অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসকারী ব্যক্তিদের গণনার কথা বলা হয়েছে। ফলে নাগরিকত্ব বা অভিবাসন মর্যাদার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট শ্রেণির বাসিন্দাকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব সাংবিধানিক প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।
২০১৯ সালের Department of Commerce v. New York মামলাতেও দশবার্ষিক আদমশুমারি এবং সংবিধানের এনুমারেশন ক্লজের বিষয়টি সরাসরি বিবেচিত হয়েছিল। ২০২০ সালের আদমশুমারিতে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত প্রশ্ন যুক্ত করার উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ওই সময় প্রশাসনের সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও সংগঠনের আইনি বিরোধ হয় এবং বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রে আদমশুমারির তথ্য শুধু জনসংখ্যা গণনার জন্য ব্যবহৃত হয় না। কংগ্রেসে অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ এবং বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রেও এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এনওয়াইআইসি বলছে, কোনো এলাকার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাসিন্দাকে গণনার বাইরে রাখা হলে ওই এলাকার প্রকৃত জনসংখ্যার চিত্র বদলে যেতে পারে। এর প্রভাব রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, সরকারি অর্থ বরাদ্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক অধিকার কার্যক্রমে পড়তে পারে। বিশেষ করে, অভিবাসী-অধ্যুষিত নিউইয়র্কের মতো অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আদমশুমারিতে ‘রেস অ্যান্ড এথনিসিটি’ বা জাতি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের পরিবর্তন বা বাদ দেওয়া। এনওয়াইআইসির মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বৈষম্য বা বৈষম্যমূলক ফলাফল শনাক্ত করতে এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এই তথ্য না থাকলে নাগরিক অধিকার ও বৈষম্যবিরোধী আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর পরিস্থিতি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন হতে পারে।
এনওয়াইআইসির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ আওয়াদেহ বলেন, সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ দশবার্ষিক আদমশুমারি একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্বের ভিত্তিতে গণনা সীমিত করা এবং জাতি ও নৃতাত্ত্বিক পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য বাদ দেওয়ার উদ্যোগ অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব, সরকারি সম্পদ বণ্টন এবং বৈষম্যবিরোধী সুরক্ষায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে অঙ্গরাজ্য, নাগরিক অধিকার সংগঠন ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে এনওয়াইআইসি। বিশেষ করে, ১৪তম সংশোধনীর অধীনে বসবাসকারী ব্যক্তিদের গণনা এবং আদমশুমারির মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণের বিষয়টি সম্ভাব্য আইনি বিতর্কের কেন্দ্রে থাকতে পারে।
এনওয়াইআইসি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের প্রস্তাবটি নিয়ে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, ২০৩০ সালের আদমশুমারিতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর প্রকৃত চিত্র যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। তবে প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় ২০৩০ সালের আদমশুমারির চূড়ান্ত নিয়ম কী হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, জনমত গ্রহণ এবং সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের ওপর।