আসছেন ২১ সেপ্টেম্বর, ভাষণ ২৪ সেপ্টেম্বর, সাক্ষাৎ পেতে মরিয়া দলের নেতা-কর্মীরা
প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায় নিউইয়র্ক
ঠিকানা রিপোর্ট
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২২
•
অনলাইন সংস্করণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কূটনৈতিক বলয় থেকে শুরু করে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস ও লং আইল্যান্ড, সবখানেই বাড়ছে আলোচনা ও তৎপরতা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দলীয় প্রধানকে একনজর দেখার আগ্রহ এখন তুঙ্গে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করবেন।
তারেক রহমানের এই সফরের কেন্দ্রবিন্দু জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন। জাতিসংঘের অফিসিয়াল সূচি অনুযায়ী, এবারের সাধারণ বিতর্ক শুরু হবে ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার এবং চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর শনিবার পর্যন্ত; একদিন বিরতির পর ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার শেষ হবে। এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য- “আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা এবং সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ।”
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের পক্ষে ভাষণ দেবেন। সরকারপ্রধান হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘে তাঁর প্রথম ভাষণ। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনসহ বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকারের বিষয় থাকবে। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর, সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভূমিকা সম্পর্কে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর গত ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার ঢাকায় সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন বাংলাদেশের “নতুন ভাবনা ও ভবিষ্যৎ ভিশন”- নতুন বাংলাদেশ কেমন হবে এবং বৈশ্বিক শান্তি, টেকসই সমাধান ও বিভিন্ন সংকট নিরসনে বাংলাদেশ কী ধরনের ভূমিকা রাখতে চায়, সেটিও তাঁর বক্তব্যে আসবে।
অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এর আগে বলেছেন, জাতিসংঘে সরকার তার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’’ নীতির আলোকে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের সুযোগ তুলে ধরতে চায়।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের নিউইয়র্ক সফরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের জন্য আরেকটি বিরল ঘটনা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
গত ২ জুন মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পান ৯১ ভোট। ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ৮১তম অধিবেশনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জাতিসংঘের ইতিহাসে সাধারণ পরিষদের সভাপতি কোনো একটি দেশের প্রতিনিধি হলেও দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি পুরো পরিষদের সভাপতি হিসেবে কাজ করেন। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতির আসনে থাকা এবং একই অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী প্রথমবার সরকারপ্রধান হিসেবে ভাষণ দেওয়া—দুটি ঘটনাই এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের উপস্থিতিকে অন্য মাত্রা দিচ্ছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বের মূল লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় আস্থা পুনর্গঠন, সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সমঝোতা বাড়ানো এবং জাতিসংঘকে আরও ফলপ্রসূ করার উদ্যোগ।
১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পাওয়া সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের ভাষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে জলবায়ু পরিবর্তন ও জলবায়ু ন্যায়বিচার।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ যে ঝুঁকিতে রয়েছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ওপর এর প্রভাব—সেটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তুলে ধরা হবে। পরিবেশবান্ধব পাটজাত পণ্যের ব্যবহার এবং প্লাস্টিকনির্ভরতা কমানোর বিষয়টিও বাংলাদেশের জলবায়ু কূটনীতির অংশ হচ্ছে।
সরকার ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক ‘জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগ’ চালু করেছে বলেও জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
এই প্রেক্ষাপটে ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জাতিসংঘেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির অস্তিত্বগত ঝুঁকি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের প্লেনারি বৈঠক রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বড় ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এ আলোচনাও বিশেষ প্রাসঙ্গিক।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকটকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ সাইডলাইন বা পার্শ্ববৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্বনেতার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকেও রোহিঙ্গা ইস্যু তোলা হবে।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে। কক্সবাজারসহ বিভিন্ন শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চাইছে ঢাকা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মানবিক সহায়তা ক্রমে কমে আসা এবং মিয়ানমারের পরিস্থিতিতে প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি না থাকায় এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনকে নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপ তৈরির সুযোগ হিসেবেও ব্যবহার করতে চাইবে বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে আরেকটি বহুল আলোচিত বিষয় হচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবীর সাংবাদিকদের বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে এ ধরনের অনেক বৈঠক শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হয়। তিনি একই সঙ্গে জানান, ট্রাম্প তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। তবে কোন দিন, কোন পর্যায়ে বা আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হিসেবে সেটি হবে কি না, তা এখনো চূড়ান্ত নয়।
এর আগে ৩১ আগস্ট সোমবার তারেক রহমানকে পাঠানো এক চিঠিতেও ট্রাম্প ভবিষ্যতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রেস সচিবের বরাতে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। চিঠিতে বাংলাদেশের বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সুতরাং ট্রাম্প-তারেক সাক্ষাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা থাকলেও ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বৈঠকের সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।
জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া প্রচলিত সংবর্ধনা বা বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দুই নেতার দেখা হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং সৌজন্য সাক্ষাৎকে একই বিষয় হিসেবে দেখছেন না কূটনীতিকরা।
প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অর্থনৈতিক অংশটিও গুরুত্ব পাবে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার। তৈরি পোশাক, জ্বালানি, বিমান চলাচল, মার্কিন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য সহযোগিতার মতো বিষয়গুলো উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ওঠার সুযোগ রয়েছে।
সরকার এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হিসেবে সামনে এনেছে। পাশাপাশি সবার আগে বাংলাদেশ নীতির আওতায় বিদেশি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলে ধরার কথাও বলেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি নিউইয়র্কে সবচেয়ে বেশি আলোচনা এখন দলীয় ও প্রবাসী কর্মসূচি নিয়ে। দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে অবস্থানের পর দেশে ফিরে সরকারপ্রধান হওয়া তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এবারই প্রথম নিউইয়র্কে আসছেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাঁকে ঘিরে আগ্রহ অনেক বেশি।
ঠিকানার সঙ্গে কথা বলা একাধিক দলীয় ও কমিউনিটি সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও নেতা-কর্মীরা নিউইয়র্কে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বা সাংগঠনিকভাবে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন, কারা নাগরিক সংবর্ধনায় আমন্ত্রণ পাবেন, এসব নিয়ে দলীয় মহলে জোর তৎপরতা চলছে।
নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রীর সময়ের বড় অংশ জাতিসংঘ ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে নির্ধারিত থাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের জন্য সময় খুবই সীমিত হতে পারে। ফলে বিভিন্ন পর্যায়ে সাক্ষাতের অনুরোধ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপি ইতিমধ্যে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে।
১৩ সেপ্টেম্বর রোববার নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এক প্রস্তুতিসভায় ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার জেএফকে বিমানবন্দরে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি, স্লোগান ও অভ্যর্থনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের কোনো ধরনের ‘উসকানিতে পা না দিয়ে’ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন এলাকায় তারেক রহমানকে স্বাগত জানিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনও দেখা যাচ্ছে। একই সভায় ২৪ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘে ভাষণের সময় জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ‘স্বাগত সমাবেশ’ করার সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শুধু স্বাগত কর্মসূচিই নয়, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘোষিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ আওয়ামী লীগপন্থী বিভিন্ন সংগঠন প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় পাল্টা প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ফলে জেএফকে বিমানবন্দর, জাতিসংঘ সদর দপ্তরের আশপাশ এবং প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন, এমন কমিউনিটি কর্মসূচিতে নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
গত বছরের জাতিসংঘ সফরের সময় নিউইয়র্কে রাজনৈতিকভাবে বিপরীতমুখী কর্মসূচির জেরে বিমানবন্দর এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছিল। সে অভিজ্ঞতার কারণে এবার দলীয় পর্যায় থেকেও কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সবচেয়ে বড় প্রবাসী আয়োজন হওয়ার কথা ছিল ২৫ সেপ্টেম্বরের নাগরিক সংবর্ধনা। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোর উদ্যোগে টাইমস স্কয়ারের নিউইয়র্ক ম্যারিয়ট মার্কি হোটেলে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি ছিল। তবে, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংবর্ধনার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। সফর সংক্ষিপ্ত করার কারণে প্রধানমন্ত্রীর ক্যালিফোর্নিয়া সফরও বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য কয়েকটি কারণে ব্যতিক্রমী।
একদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান পুরো সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথমবার জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বক্তব্য তুলে ধরবেন।
তাঁর সামনে থাকবে সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার সুযোগ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক অবস্থানও পরীক্ষার মুখে থাকবে।
জাতিসংঘের নিজস্ব কর্মসূচিতেও এবার ২৩ সেপ্টেম্বর জলবায়ু ও ন্যায়সঙ্গত জ্বালানি রূপান্তর, ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ২৫ সেপ্টেম্বর মহামারি প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি এবং ২৮ সেপ্টেম্বর ডারবান ঘোষণার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক রয়েছে।
আর এসব রাষ্ট্রীয় ও বৈশ্বিক কূটনীতির বাইরে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে প্রশ্ন একটাই, কখন আসছেন তারেক রহমান, কোথায় দেখা যাবে তাঁকে, আর কারা পাবেন কাছ থেকে সাক্ষাতের সুযোগ।
কূটনীতিকদের নজর জাতিসংঘে, রাজনীতিকদের নজর দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে, আর প্রবাসী নেতা-কর্মীদের নজর তারেক রহমানের দিকে।