শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :
• মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র : ট্রাম্প • রান্নাঘর ঝাড়ু দিচ্ছিলেন, ফোনে এল নোবেল জয়ের খবর • শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, এর বিকল্প নেই • পাকিস্তানের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সুযোগ পেল বাংলাদেশ • ইউক্রেনে দুই বাসে রুশ হামলা, নিহত ৩৩, আহত ১৮ • বিমানবন্দরে আটকে দেওয়া হলো বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা মাহদীকে • প্রধানমন্ত্রীর নতুন বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন • রংপুরে ৪ খুন : সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের ডিএনএ শনাক্ত • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ • স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শেখাতে ব্রুকলিনে ৪ হাজার ডলার

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

'পাবলিক চার্জ' নীতির বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করল নিউইয়র্ক সিটি

'পাবলিক চার্জ' নীতির বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করল নিউইয়র্ক সিটি

বিজ্ঞাপন
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন 'পাবলিক চার্জ' বিধির বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি ঘোষণা দেন, নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে দেশের একাধিক শহর ও কাউন্টির একটি জোট এই মামলা দায়ের করেছে।
ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ১০৮ পৃষ্ঠার মামলায় নতুন বিধি ও সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন নির্দেশনা বাতিল এবং তা কার্যকর করা থেকে ফেডারেল সরকারকে বিরত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে বাদী হিসেবে রয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি, ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি এবং পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট।
নতুন বিধি অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস অনেক বিস্তৃত পরিসরে বিবেচনায় নিতে পারবেন। পাশাপাশি বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও বিবেচনায় আসবে। বিধিটি আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
মেয়র মামদানি বলেন, নতুন পাবলিক চার্জ বিধি অভিবাসী পরিবারগুলোকে সেসব কর্মসূচি থেকে দূরে ঠেলে দিতে চায়, যেগুলো দশকের পর দশক ধরে মানুষকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করে আসছে। তাঁর ভাষায়, নিউইয়র্কবাসী ডাক্তার দেখাতে কিংবা আইনগতভাবে প্রাপ্য সহায়তা চাইতে ভয় পাবে-আর এই ভয় শুধু ফেডারেল সরকারের লক্ষ্যবস্তু পরিবারগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; যারা সম্পূর্ণ বৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তারাও এর প্রভাব অনুভব করবে, আর এর মূল্য দিতে হবে সব নিউইয়র্কবাসীকে।
"আমাদের অভিবাসী কমিউনিটি কোনো বোঝা নয়। তারাই নিউইয়র্ক সিটি ও এই দেশকে মহান করে তুলেছে," বলেন মেয়র মামদানি। এই "নিষ্ঠুর ও বেআইনি" বিধির বিরুদ্ধে শহর ও কাউন্টির জোটের নেতৃত্ব দিতে পেরে নিউইয়র্ক সিটি গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মামলায় বলা হয়েছে, প্রশাসন কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। ঐতিহাসিকভাবে 'পাবলিক চার্জ' বলতে বোঝানো হতো এমন ব্যক্তিকে, যিনি জীবনধারণের জন্য মূলত সরকারের ওপর নির্ভরশীল-যেমন নগদ অর্থ সহায়তা বা সরকারি খরচে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবা। নতুন বিধি সেই সংজ্ঞাকে বহুগুণ প্রসারিত করেছে বলে অভিযোগ বাদীপক্ষের।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হন-কংগ্রেসের সেই অভিপ্রায়ই নতুন বিধিতে প্রতিফলিত হয়েছে।
একই দিনে পৃথক আরেকটি মামলায় নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো এই বিধিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। জেমস বলেন, সহায়তা চাইলে ডিপোর্ট হতে হবে-এই ভয়ে পরিশ্রমী পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা ছাড়া থাকতে বাধ্য করা যায় না।
নিউইয়র্ক সিটির করপোরেশন কাউন্সেল স্টিভ ব্যাংকস বলেন, নতুন এই বিধি শত বছরের প্রতিষ্ঠিত আইন উপেক্ষা করে 'পাবলিক চার্জ'-এর সংজ্ঞাকে এমনভাবে প্রসারিত করেছে, যা কংগ্রেস কখনো চায়নি। কোনো অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীকে যেন তাঁর ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস আর আইনসম্মত সুবিধার মধ্যে একটি বেছে নিতে না হয়।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ অভিবাসী সম্প্রদায়ের বহু পরিবার মেডিকেইড, স্ন্যাপ (ফুড স্ট্যাম্প)-এর মতো কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। কমিউনিটি নেতারা বলছেন, বিধিটি কার্যকর হলে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী অনেকে ভয়ে বৈধ সুবিধা নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন। তবে নীতিটি সরকারি সহায়তা গ্রহণকারী প্রত্যেকের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না; কর্মকর্তারা প্রত্যেক আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করবেন।
ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস যা-ই হোক, বিনা মূল্যে, নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তার জন্য নিউইয়র্কবাসী মেয়র অফিসের ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট হটলাইনে ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে ফোন করতে পারেন, অথবা ৩১১-এ কল করে "Immigration Legal" বললে নিজের ভাষায় আইনি সহায়তার সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে।

ঠিকানা/এসআর

নিউজটি শেয়ার করুন


সর্বশেষ আপডেট

© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz