নিউইয়র্ক সিটির পরবর্তী মেয়র হওয়ার দৌড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানি বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বলে জানিয়েছে বেটিং ওয়েবসাইট পলিমার্কেট। গত ১৩ আগস্ট জরিপ সংস্থাটি জানায়, নভেম্বরের চূড়ান্ত নির্বাচনে মামদানির জয়ের সম্ভাবনা ৮২ শতাংশ। অন্যদিকে নিউইয়র্কের সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু ক্যুমোর সম্ভাবনা ১০ শতাংশ, বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের ৬ শতাংশ আর কনজারভেটিভ কর্মী ও রেডিও হোস্ট কার্টিস স্লিওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১ শতাংশ। অ্যাটর্নি জিম ওয়ালডেনও ১ শতাংশ সম্ভাবনায়
আছেন। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ক্যুমো, অ্যাডামস ও ওয়ালডেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে স্লিওয়া রিপাবলিকান প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন।
গত জুন মাসে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাট প্রাইমারি নির্বাচনে অ্যান্ড্রু ক্যুমোকে পরাজিত করে নিউইয়র্কের রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেন জোহরান মামদানি। সেই থেকে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, কুইন্সের এই অ্যাসেম্বলিমেম্বার তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে আছেন এবং প্রায় সব কমিউনিটির মধ্যে মামদানিই শীর্ষে রয়েছেন।
পলিমার্কেটের এই পূর্বাভাস এসেছে আগের জরিপগুলোতে মামদানির শক্তিশালী অবস্থান প্রকাশ পাওয়ার পর। সিয়েনা ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ জরিপে মামদানি ৪৪ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পান। অন্যদিকে ক্যুমো ২৫ শতাংশ, স্লিওয়া ১২ শতাংশ এবং অ্যাডামস ৭ শতাংশ ভোট পান। ৪-৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত এই জরিপে অংশ নেন ৮১৩ জন নিবন্ধিত ভোটার। এ ছাড়া গত ১৬-২৪ জুলাই অনুষ্ঠিত জেনিথ রিসার্চ ও পাবলিক প্রোগ্রেস সলিউশনের জরিপে মামদানির সমর্থন ছিল ৫০ শতাংশ। এই জরিপে ক্যুমো পান ২২ শতাংশ, স্লিওয়া ১৩ শতাংশ, অ্যাডামস ৭ শতাংশ এবং ওয়ালডেন ১ শতাংশ। অবশিষ্ট ৬ শতাংশ ছিলেন অনিশ্চিত বা অন্য কাউকে পছন্দ করেছেন। জরিপটিতে ১ হাজার ৪৫৩ জন নিউইয়র্কার অংশ নেন।
সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও এগিয়ে মামদানি : নিউইয়র্কের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী যেকোনো প্রার্থীর সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ও এগিয়ে রয়েছেন জোহরান মামদানি। ক্যুমোর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে তিনি ৫২ বনাম ৪০ শতাংশে এগিয়ে এবং অ্যাডামসের বিপক্ষে ৫৯ বনাম ৩২ শতাংশে। ক্যুমো বলেছেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিনি যদি জরিপে এগিয়ে না যান, তবে তিনি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন।
একই জরিপে দেখা গেছে, মামদানি তরুণ পুরুষ ও ইহুদি ভোটারদের মধ্যেও এগিয়ে আছেন। আর সিয়েনার জরিপে দেখা গেছে, তিনি ৩৫ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে এবং কনজারভেটিভ ভোটারদের মধ্যেও ক্যুমো ও অ্যাডামসের চেয়ে এগিয়ে। তবে ৫৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ক্যুমো ৩৮ শতাংশে এগিয়ে আছেন, মামদানি সেখানে ৩২ শতাংশে।
মামদানির উত্থান ঘটেছে তার প্রগতিশীল প্রস্তাবের কারণে, যেমন ভাড়া স্থিরীকরণ, সরকারি মালিকানাধীন গ্রোসারি স্টোর এবং সর্বজনীন শিশু যত্ন। জুলাইয়ের এক জরিপে দেখা গেছে, মামদানির সমর্থকদের মধ্যে ৮৯ শতাংশ তার খরচ কমানোর পরিকল্পনার কারণে, ৮৬ শতাংশ ধনীদের কর আরোপের প্রতিশ্রুতির কারণে এবং ৬২ শতাংশ ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি তার সমর্থনের কারণে তাকে সমর্থন করছেন।
গত সপ্তাহে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যুমো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মেয়র নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন। তবে ক্যুমো সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটা মিথ্যা।’ তিনি যুক্তি দেখান, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের মোকাবিলা করার জন্য মামদানির চেয়ে তিনি অনেক বেশি সক্ষম। মামদানি পাল্টা জবাবে বলেন, ‘আমার প্রশাসন হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন।’ পাশাপাশি তিনি ক্যুমোকে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করার’ অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।
নির্বাচনের বিষয়ে পাবলিক প্রোগ্রেস সলিউশনের প্রধান আমিত সিং বাগ্গা বলেন, ‘যদি প্রার্থিতা একইভাবে থাকে এবং বর্তমান প্রেক্ষাপট অপরিবর্তিত থাকে, তবে জোহরান মামদানিই নিউইয়র্ক সিটির পরবর্তী মেয়র।’ ভেরমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স জুনে মামদানিকে সমর্থন দিয়ে এক্সে লেখেন, ‘আমাদের নতুন নেতৃত্ব দরকার, যারা করপোরেট স্বার্থের বিপক্ষে দাঁড়াবে এবং নিউইয়র্কবাসীর বাস্তব সমস্যাগুলো সমাধান করবে।’ ডেমোক্র্যাটিক কৌশলবিদ হ্যাঙ্ক শাইনকপফ বলেন, ‘নির্বাচকগোষ্ঠীর অনেক অংশ হয়তো একজন সমাজতান্ত্রিক প্রার্থীকে প্রত্যাখ্যান করবে।’ গোথাম পোলিং অ্যান্ড অ্যানালিটিক্সের ডেভিড শোয়ার্জ বলেন, ‘সংখ্যাগুলো বলছে, যদি সবাই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থেকে যায়, তবে মামদানিকে হারানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।’
রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া বলেন, “আমাদের এমন একজন মেয়র দরকার, যিনি প্রতিদিন প্রত্যেক নিউইয়র্কারের জন্য লড়বেন- ওয়াশিংটনের কোনো দাঙ্গাবাজের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করবেন না, যে আমাদের অধিকারে আক্রমণ করে এবং শ্রমজীবীদের কাছ থেকে চুরি করে ধনীদের সমৃদ্ধ করে। নিউইয়র্ক সিটি আবাসন সংকটে ভুগছে এবং কেবল স্লোগান দিয়ে এটি সমাধান করা যাবে না। আমাদের দ্রুত আরও বাসা তৈরি করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে ভাড়া স্থিতিশীল অ্যাপার্টমেন্টগুলো সঠিক মানুষের কাছে যাচ্ছে। এগুলো পরিশ্রমী পুরুষ ও নারীদের জন্য, কিন্তু অনেক ধনী মানুষ সুযোগ নিচ্ছে। আমাদের ‘জোহরান মামদানিদের’ থামাতে হবে, যারা সিস্টেমকে কাজে লাগিয়ে নিম্ন আয়ের নিউইয়র্কারদের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে এবং তার আইন সেটাই করছে।” তিনি আরও বলেন, ‘কয়েক দশক রাস্তায় ছিলাম, আর যখন আমি মেয়র হব, তখন আমরা নিউইয়র্কারদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গায় আরও পুলিশ বসাব, মামদানির মতো ভণ্ড রাজনীতিবিদদের জন্য নয়, যারা পুলিশকে গালি দেন কিন্তু নিজেদের সুরক্ষার জন্য তাদের পেছনে লুকিয়ে থাকেন।’
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ নভেম্বর ২০২৫। ক্যুমো ও অ্যাডামস প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে চূড়ান্ত ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারেন। অন্যদিকে স্লিওয়া আশা করছেন, একটি ভাঙা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক মাঠে অপ্রত্যাশিত জয়ের।