শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ :

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

ব্রিকস সম্মেলন : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যৌথ আহ্বান, পাশে ইরান ও আরব আমিরাত

ব্রিকস সম্মেলন : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে যৌথ আহ্বান, পাশে ইরান ও আরব আমিরাত

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস জোটের শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম দিনেই গৃহীত যৌথ ঘোষণাপত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামানোর জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। এই সমঝোতায় সই করেছে জোটের দুই সদস্যদেশ ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। আঞ্চলিক যুদ্ধে দেশ দুটির ভিন্ন অবস্থান থাকা সত্ত্বেও এই যৌথ ঘোষণায় তাদের সমর্থন দেওয়াকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স।

সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও আবুধাবির যুবরাজ শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের মধ্যে এক ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চলমান উত্তেজনা শুরুর পর দুই দেশের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিক আলোচনা। আবুধাবির সরকারি তথ্যমতে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে দুই নেতা দীর্ঘ আলোচনা করেন। জোটের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের ভেতরের মতপার্থক্য কমিয়ে আনাই ছিল এই সম্মেলনের অন্যতম মূল লক্ষ্য।

সম্মেলন শেষে গৃহীত ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’য় নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে সব ধরনের একতরফা সামরিক আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এতে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জোর দাবি জানানো হয়।

পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ববাণিজ্য সচল রাখতে জোটের সদস্যদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে উঠে এসেছে গাজা সংকট ও ফিলিস্তিনিদের অধিকারের বিষয়টি।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব অনুযায়ী গাজায় অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং অবাধ মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পরিবেশ তৈরির তাগিদ দেওয়া হয়। গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার যেকোনো প্রচেষ্টার তীব্র বিরোধিতা করে যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নিজ ভূমিতে ফেরার অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমেই এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাজনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি অর্জনে বিশ্বনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, এই যৌথ ঘোষণা বৈশ্বিক রাজনীতিতে রাতারাতি বড় পরিবর্তন না আনলেও উদীয়মান অর্থনীতির জোট হিসেবে ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্য এবং কূটনৈতিক প্রভাবকে নতুন করে প্রমাণ করেছে।

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz