বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

বিজ্ঞাপন

হবিগঞ্জে খেলার সময়সূচি নিয়ে ৩ ঘণ্টা সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

হবিগঞ্জে খেলার সময়সূচি নিয়ে ৩ ঘণ্টা সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

ছবি সংগৃহীত

বিজ্ঞাপন
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর বাজারে ইনডোরে খেলার সময়সূচি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

সংঘর্ষের সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে ভাঙচুর ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ সময় ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বানিয়াগাঁও গ্রামের রিয়াদ মিয়া একটি ইনডোর খেলার মাঠ উদ্বোধন করেন। সেখানে খেলার সময়সূচি নিয়ে পশ্চিম জয়পুর গ্রামের উজ্জ্বলের দলের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, উজ্জ্বলের দলকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত খেলার সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের কিছুক্ষণ পর দলটি মাঠে পৌঁছালে ওই সময় অন্য একটি দল খেলায় অংশ নেয়। পরে রিয়াদ মিয়া উজ্জ্বলের দলকে রাত ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত খেলার সুযোগ দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু উজ্জ্বলের দল খেলায় অংশ না নিয়ে সেখান থেকে চলে আসে।

এ ঘটনার জেরে বুধবার দুপুরে মিরপুর এলাকায় রিয়াদ মিয়ার ভাই মুরাদ মিয়াকে একটি গাড়ি দিয়ে মোটরসাইকেলসহ চাপা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে রিয়াদ মিয়া ও তার লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে উজ্জ্বলকে মারধর করেন বলে স্থানীয়রা জানান।

এরই জেরে বুধবার সন্ধ্যার পর বানিয়াগাঁও ও পশ্চিম জয়পুর গ্রামের লোকজন মিরপুর বাজারে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে। এতে বাজারের দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়কের মিরপুর অংশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রীসহ স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে বাহুবল মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে সক্ষম হয়।

বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে সংঘর্ষে আহতদের সঠিক সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’

ঠিকানা/এনআই

নিউজটি শেয়ার করুন


© 2026 All Rights Reserved by Thikana Group Of Media
Maintained by SolveEz