সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত ইরানি কনস্যুলেটে গত এপ্রিলে হামলার পর ইসরায়েলে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহেরান। এ হামলার মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে ইরান তার সক্ষমতার জানান দেয়। গত সপ্তাহে ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজধানী তেহেরানে গিয়ে এক গুপ্ত হামলার শিকার হয়ে নিহত হন হামাস প্রধান ইসমাঈল হানিয়া। ইরানের মাটিতে হামাস প্রধান নিহতের ঘটনায় তেহেরান সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করে হামলা হুমকি দিয়েছে।
ইসরায়েলে ইরানের হামলা বন্ধে তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্ররা। ইরানকে এ হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে তারা। কিন্তু তেহেরান তাদের এ আহ্বান প্রত্যাখান করলেও কেন হামলা চালায়নি তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন, ‘এই সপ্তাহেই ইরান ইসরায়েলের ওপর বড় ধরনের আক্রমণ করতে পারে। আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ, ওই হামলা খুবই ভয়াবহ হতে পারে।’
ওই দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইউরোপের চার দেশের নেতারা একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে। সেখানে বলা হয়, ‘আমরা ইরানের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা যেন ইসরায়েলকে আক্রমণ না করে। এই ধরনের আক্রমণ হলে আঞ্চলিক সুরক্ষার বিভিন্ন দিকগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি।’
ইরানের সম্ভব্য হামলা ঠেকাতে ইসরায়েলে যুদ্ধবিমান এবং সাবমেরিন মোতায়েন করেছে। এছাড়া মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান-সহ মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে বলেছেন।
ইরান হামলা চালালে পাশাপাশি ইসরায়েলে হামলা হবে লেবানন, ইরাক ও ইয়েমেন থেকেও। এসব দেশে ইরানের মিত্ররা হামলায় যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।
তবে হামলা না চালানোর বিষয়ে ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, গাজা নিয়ে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে সরাসরি হামলা চালাতে পারে ইরান। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আলোচনা বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হলেও একই পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে হামলার ধরন সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে কাতারের দোহায় চলা বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছেন, তারা আবারও আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে বসবেন। তখন হয়তো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘আমরা চুক্তির অনেক, অনেক কাছাকাছি।’
ইসরায়েলের তেল আবিবের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ গবেষক রাজ জিম্মট বলেন, গাজা যুদ্ধবিরতি ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নাও হতে পারে। তবে এটি তেহরানকে অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিকভাবে হামলার বিলম্বকে বৈধতা দিচ্ছে।
এই অবস্থায় ইরান কখন এবং কীভাবে ইসরায়েলের হামলা চালাবে তা এখনও রহস্যই থাকছে। তবে পরিস্থিতি যেমন দাঁড়িয়েছে, তেহরানের কাছে কোনো ভালো বিকল্প আছে বলে মনে হচ্ছে না। সূত্র: রেডিও লিবার্টি
ঠিকানা/এএস