Thikana News
৩০ অগাস্ট ২০২৫
  1. ই-পেপার
  2. চলতি সংখ্যা
  3. বিশেষ সংখ্যা
  4. প্রধান সংবাদ
  5. আমেরিকার অন্দরে
  6. বিশ্বচরাচর
আমেরিকা শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
ভিকারুননিসা স্কুলে ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন

শিক্ষক মুরাদের ল্যাপটপে অশ্লীল অডিও-ভিডিও

শিক্ষক মুরাদের ল্যাপটপে অশ্লীল অডিও-ভিডিও ছবি সংগৃহীত
ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠা রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর শাখার গণিত শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকার রিমান্ডের জিজ্ঞাসাবাদে দায় স্বীকার করেছেন। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে জব্দ করা ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনে মিলেছে কয়েকটি অশ্লীল-সংবেদনশীল অডিও-ভিডিও। সেগুলো তিনি কী উদ্দেশ্যে সংরক্ষণে রেখেছিলেন, ব্ল্যাকমেল করে আর কাউকে ভিকটিম বানাতে চেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে ওই শিক্ষক কতজন ছাত্রীকে কোন কোন জায়গায় নিয়ে শ্লীলতাহানি করেছেন।

এদিকে শুধু স্কুল ও কোচিং সেন্টার নয়, রাজধানীতে কোনো শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন্স) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভিকটিম ছাত্রীর পরিবার গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করার পরের দিনই ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতের নির্দেশে দুই দিনের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষক মুরাদ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, শিক্ষক মুরাদের অপকর্মে অভিভাবকরা যেমন শঙ্কিত, সারা দেশের শিক্ষক সমাজও লজ্জিত। ফলে আগামীতে যাতে আর কেউ কোমলমতি শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে সাহস না পায়, সে জন্য শিক্ষক মুরাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশের যা যা করণীয় তা করা হবে। একই সঙ্গে বলতে চাই, রাজধানীতে কেউ শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব শিক্ষার্থী স্কুল-কোচিংয়ে যাচ্ছে তারা স্বাভাবিকভাবে যাবে, এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি বদ্ধপরিকর।

এ বিষয়ে ভিকারুননিসা স্কুলের দায়িত্ব অবহেলা রয়েছে কি না জানতে চাইলে ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ব্যক্তির দায় কখনো প্রতিষ্ঠান নেয় না। প্রতিষ্ঠানটিতে আরও অনেকে চাকরি করেন। তারা নিশ্চয় এমন আচরণ করছেন না। একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাদের যে আচরণ করা দরকার, তারা সেটাই করছেন। বিক্ষিপ্তভাবে একজন শিক্ষক যদি এ ধরনের কাজ করেন, সে দায়ভার তো অন্য শিক্ষকেরা নেবেন না। একই প্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগে তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছে। সেই তদন্তে তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এই দায়মুক্তি পুলিশের তদন্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, এটি একটি একাডেমিক বিষয়। তদন্তের বিষয়গুলো প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং কমিটির বিষয়। তাদের দায়িত্বশীল যে জায়গাগুলো আছে, সেগুলো তারা দেখবেন। তবে ফৌজদারি বিষয়গুলো আমাদের অংশ। এই বিষয়গুলো আমরা দেখছি। আমাদের কর্মকর্তারা নারী ও শিশুদের প্রতি অত্যন্ত সহমর্মিতা ও ভালোবাসা দেখায়। ফলে এটা আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখছি।

এদিকে ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে করা মামলায় শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকারকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে।

অন্যদিকে আসামির আইনজীবী চিকিৎসার সুযোগ চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে কারাবিধি অনুসারে তাকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকী-আল-ফারাবী দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঠিকানা/এনআই

কমেন্ট বক্স