পরীক্ষার্থীদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে : মামদানি
নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী
প্রকাশ : ১০ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৪
•
অনলাইন সংস্করণ
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান কোয়ামে মামদানি ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে নিউইয়র্ক সিটির হাইস্কুলের শিক্ষার্থী এবং প্রথমবারের মতো সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের জন্য পরীক্ষার ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এবং কয়েক মিলিয়ন নিউইয়র্কবাসীর জন্য সিটি সরকারের স্থায়ী চাকরির সুযোগ আরও সহজলভ্য হবে।
বুধবার নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস (ডিকাস)-এর কমিশনার ইউমে কিতাসেই-এর সঙ্গে যৌথভাবে এ ঘোষণা দেন মেয়র মামদানি।
প্রতি বছর ডিকাস গড়ে প্রায় ১৭৫টি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পরিচালনা করে, যেখানে ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেন। বিজ্ঞানী, বন কর্মকর্তা, ব্রিজ অপারেটর, কেসওয়ার্কার, ব্ল্যাকস্মিথ, ফিজিক্যাল থেরাপিস্টসহ বিভিন্ন পদের জন্য এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির প্রায় ৮০ শতাংশ সরকারি চাকরিতে যোগদানের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্ক শহরের সেবা করার সুযোগ জীবনের অন্যতম বড় সম্মান। আমাদের শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থী, রাস্তায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষ এবং এই শহরকে নিজের বাড়ি বলে মনে করা নিউইয়র্কবাসীরাই একটি সবার জন্য কার্যকর শহর গড়ে তুলতে সবচেয়ে উপযুক্ত। হাইস্কুল শিক্ষার্থী ও প্রথমবারের পরীক্ষার্থীদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বিনামূল্যে করার মাধ্যমে আমরা আরও লাখো মানুষের জন্য সরকারি সেবার দরজা খুলে দিচ্ছি।
ডিকাস কমিশনার ইউমে কিতাসেই বলেন, আমরা চাই সব নিউইয়র্কবাসী সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সমান সুযোগ পান। নতুন ফি মওকুফ এবং একাধিক ভাষায় পরীক্ষার তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে আমরা যোগ্য প্রার্থীদের জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বাধা দূর করছি এবং আরও শক্তিশালী কর্মীবাহিনী গড়ে তুলছি।
নতুন আইনের আওতায় সুবিধা-লোকাল ল’ ৫৭ (২০২৫)-এর আওতায় চালু হওয়া এই সুবিধা পূর্বের বিদ্যমান ফি মওকুফ কর্মসূচিকে আরও সম্প্রসারণ করেছে। এর আগে কেবল সাবেক সেনাসদস্য (ভেটেরান), বেকার ব্যক্তি এবং সরকারি সহায়তা গ্রহণকারীরা পরীক্ষার ফি মওকুফের সুযোগ পেতেন। এখন প্রথমবারের পরীক্ষার্থী ও নিউইয়র্ক সিটির হাইস্কুল শিক্ষার্থীরাও এই সুবিধা পাবেন।
যোগ্য আবেদনকারীরা সিটির OASys 2.0 (Online Application System)-এর মাধ্যমে ফি মওকুফের আবেদন করতে পারবেন। প্রথমবারের আবেদনকারীদের যোগ্যতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে এবং হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বর্তমান ভর্তি সনদ জমা দিতে হবে।
২০২৭ অর্থবছরের পরীক্ষার সূচি প্রকাশ-একই সঙ্গে সিটি প্রশাসন ২০২৭ অর্থবছরের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে। এতে ১৪৯টি পরীক্ষার সময়সূচি রয়েছে। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে জননিরাপত্তা, প্রশাসন, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে।
পরীক্ষাগুলোর ৭২ শতাংশ সব যোগ্য নিউইয়র্কবাসীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং ২৮ শতাংশ বর্তমান সিটি কর্মীদের পদোন্নতির জন্য নির্ধারিত থাকবে। ১৯০টির বেশি ভাষায় পরীক্ষার তথ্য-আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে এখন থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার নোটিশ অব এক্সামিনেশন বা যোগ্যতা ও শর্তাবলীর তথ্য ১৯০টিরও বেশি ভাষায় অনুবাদ করে পাওয়া যাবে। তবে পরীক্ষা আগের মতোই ইংরেজি ভাষায় অনুষ্ঠিত হবে।
শিক্ষা খাতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া-নিউইয়র্ক সিটির স্কুলস চ্যান্সেলর কামার এইচ. স্যামুয়েলস বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষ থেকে সরাসরি কর্মজীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করাই অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চাবিকাঠি। নতুন এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী ও সম্মানজনক সরকারি চাকরির পথ আরও সহজ করবে।
ডিপার্টমেন্ট অব ইয়ুথ অ্যান্ড কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (ডিওয়াইসিডি)-এর কমিশনার সান্দ্রা এস্কামিলা-ডেভিস বলেন, আর্থিক বাধা দূর করে মেধাবী তরুণদের সরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো ভবিষ্যতের দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সিটি কাউন্সিল সদস্য কারমেন ডে লা রোসা, যিনি এ আইনটির পৃষ্ঠপোষক ছিলেন, বলেন, এই আইন কর্মজীবনের শুরুতে থাকা তরুণ ও কর্মজীবী পরিবারের জন্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বড় বাধা দূর করবে এবং আরও বৈচিত্র্যময় ও প্রতিনিধিত্বশীল সরকারি কর্মীবাহিনী গঠনে সহায়তা করবে।
অপর সিটি কাউন্সিল সদস্য গেইল এ. ব্রুয়ার এবং এরিক ডিনোভিটজও উদ্যোগটিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরীক্ষার ফি তুলে দেওয়া হলে আরও বেশি তরুণ সরকারি চাকরিতে আগ্রহী হবে এবং নিউইয়র্ক সিটি দক্ষ জনবল পাবে।
ডিকাস-এর ভূমিকা-নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেস (ডিকাস) সিটি সরকারের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, ৫৬টি সরকারি ভবন পরিচালনা, সরকারি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় ও ইজারা, বছরে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি পণ্য ও সেবা ক্রয়, দেশের সবচেয়ে পরিবেশবান্ধব পৌর যানবাহন বহর পরিচালনা এবং সরকারি কার্যক্রমে কার্বন নিঃসরণ কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে।