ভারতের পরবর্তী সেনাপ্রধান (চিফ অব আর্মি স্টাফ) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বর্তমান উপ-সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ। দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার তার নিয়োগ অনুমোদন করেছে। আগামী ৩০ জুন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অবসরে যাওয়া বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
ভারতের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে আসছে, যখন দেশটি একদিকে চীনের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত উত্তেজনা এবং অন্যদিকে পাকিস্তান সীমান্তে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ চলতি বছরের ১ এপ্রিল ভারতের উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি পুনে-ভিত্তিক সাউদার্ন কমান্ড এবং জয়পুরভিত্তিক সাউথ ওয়েস্টার্ন কমান্ডের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বাহিনীর (আর্মার্ড কর্পস) কর্মকর্তা হিসেবে দীর্ঘ প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। তিনি ভারতের ন্যাশনাল ডিফেন্স একাডেমি (এনডিএ), ইন্ডিয়ান মিলিটারি একাডেমি, ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের সামরিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও উচ্চতর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।
সামরিক জীবনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ভারতের অন্যতম উচ্চ সামরিক সম্মান ‘পরম বিশিষ্ট সেবা পদক’ (পিভিএসএম), ‘উত্তম যুদ্ধ সেবা পদক’ (ইউওয়াইএসএম) এবং ‘অতি বিশিষ্ট সেবা পদক’ (এভিএসএম) অর্জন করেছেন।
ধীরাজ শেঠের বাবা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল কৃষ্ণ মোহন শেঠও ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৯৭ সালে অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল পদ থেকে অবসর নেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কোর কমান্ডের নেতৃত্ব দেন।
বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী ২০২৪ সালের ৩০ জুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তার অবসরের পর ভারতের প্রায় ১৩ লাখ সদস্যের সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ধীরাজ শেঠ। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা, প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধ প্রস্তুতি এবং ‘ভিশন-২০৪৭’ বাস্তবায়নে নতুন সেনাপ্রধানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।