একদিন এই পৃথিবী থাকবে না।
সমুদ্রের তলায় ঘুমিয়ে পড়বে
সভ্যতার শেষ ইট,
মহাকাশ ভুলে যাবে নীল-গ্রহের নাম।
বিজয়ীর মূর্তি, পরাজিতের সমাধি—
সব মিশে যাবে মহাশূন্যের নৈঃশব্দ্যে।
কেউ জানবে না—
কে জিতেছিল, কে হেরেছিল;
কোন সত্যের জন্য ঝরেছিল রক্ত,
কোন স্বপ্নের জন্য মরেছিল মানুষ।
কেউ জানবে না—
কোন পতাকার রঙে লেগেছিল স্বাধীনতা,
কোন পতাকার ছায়ায় চাপা পড়েছিল পরাধীনতার দীর্ঘশ্বাস;
একদিন রাজপ্রাসাদের ধ্বংসস্তূপে জন্ম নেবে
অন্ধকারের আদিম ঘাস।
সম্রাটের মুকুট আর ভিখারির ক্ষুধার্ত খাপড়ি
একই ধুলোয় হবে সমান নিঃস্ব।
যে হাত পৃথিবী শাসন করেছিল;
তার আঙুলের ছাপও মুছে যাবে সময়ের শরীর থেকে,
যে হাত শেকল ভাঙতে গিয়ে হয়েছিল রক্তাক্ত;
তার ক্ষতচিহ্নও খুঁজে পাবে না কোনো উত্তরসূরি।
একদিন গ্রন্থাগারের শেষ-পৃষ্ঠায়
নির্বিকার ঘুমিয়ে পড়বে মানুষের সমস্ত জ্ঞান,
প্রেমপত্রের বিবর্ণ অক্ষর থেকে মুছে যাবে অপেক্ষার গন্ধ।
কোনো মা সন্তানের নাম ধরে ডাকবে না।
কোনো নির্বাসিত মানুষ
জানালায় দাঁড়িয়ে স্বদেশে ফেরার পথ-গুনবে না;
শেষ-রাতের নিঃসঙ্গতায়
কোনো কবি জন্ম দেবে না একটি অবিনশ্বর পঙ্ক্তি।
যে শহরে একদিন জ্বলেছিল লক্ষ প্রদীপ;
সেখানে নেমে আসবে নক্ষত্রহীন রাত্রি।
যে পথ ধরে মানুষের পদধ্বনি
ভবিষ্যতের দিকে ছুটে গিয়েছিল;
সেই পথ মিশে যাবে মহাকালের ধূসর মানচিত্রে।
সময়ের বুক থেকে খসে পড়বে
সভ্যতার সমস্ত নামফলক—
যেন পৃথিবী কোনো দিন
এই মহাবিশ্বে নিজের অস্তিত্বের স্বাক্ষর রাখেনি।
একদিন সূর্য সমস্ত আগুন নিঃশেষ করে
মরে যাওয়া নক্ষত্রের মতো ডুবে যাবে নিজেরই অন্ধকারে।
আলোকবর্ষের পর আলোকবর্ষ, তৈরি হবে শীতল শূন্যতা;
মহাকালের অনন্ত সমাধিক্ষেত্রে
আর কোনো ভোরের জন্ম হবে না।
মানুষের অহংকার
মানুষের ঈশ্বর
যুদ্ধ
দর্শন
অমরত্বের সকল প্রতিশ্রুতি
মৃত্যুর সঙ্গে আপস
কিছুই থাকবে না—
থাকবে না হারানোর বেদনা, পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
এমনকি এই সর্বগ্রাসী শূন্যতার দিকে তাকিয়ে থাকার মতো কোনো চোখও আর অবশিষ্ট থাকবে না।
একদিন আমি তুমি মিলে—আমরা নামক যে মানুষ;
মহাবিশ্বের বুকে তার কিছুই থাকবে না।
এই না-থাকার ধ্রুব সত্যের ভেলায়—
মানুষই বোধ হয় একমাত্র,
নিজের বিনাশের কথা জেনেও; পৃথিবীকে ভালোবেসে যায়।
সমুদ্রের তলায় ঘুমিয়ে পড়বে
সভ্যতার শেষ ইট,
মহাকাশ ভুলে যাবে নীল-গ্রহের নাম।
বিজয়ীর মূর্তি, পরাজিতের সমাধি—
সব মিশে যাবে মহাশূন্যের নৈঃশব্দ্যে।
কেউ জানবে না—
কে জিতেছিল, কে হেরেছিল;
কোন সত্যের জন্য ঝরেছিল রক্ত,
কোন স্বপ্নের জন্য মরেছিল মানুষ।
কেউ জানবে না—
কোন পতাকার রঙে লেগেছিল স্বাধীনতা,
কোন পতাকার ছায়ায় চাপা পড়েছিল পরাধীনতার দীর্ঘশ্বাস;
একদিন রাজপ্রাসাদের ধ্বংসস্তূপে জন্ম নেবে
অন্ধকারের আদিম ঘাস।
সম্রাটের মুকুট আর ভিখারির ক্ষুধার্ত খাপড়ি
একই ধুলোয় হবে সমান নিঃস্ব।
যে হাত পৃথিবী শাসন করেছিল;
তার আঙুলের ছাপও মুছে যাবে সময়ের শরীর থেকে,
যে হাত শেকল ভাঙতে গিয়ে হয়েছিল রক্তাক্ত;
তার ক্ষতচিহ্নও খুঁজে পাবে না কোনো উত্তরসূরি।
একদিন গ্রন্থাগারের শেষ-পৃষ্ঠায়
নির্বিকার ঘুমিয়ে পড়বে মানুষের সমস্ত জ্ঞান,
প্রেমপত্রের বিবর্ণ অক্ষর থেকে মুছে যাবে অপেক্ষার গন্ধ।
কোনো মা সন্তানের নাম ধরে ডাকবে না।
কোনো নির্বাসিত মানুষ
জানালায় দাঁড়িয়ে স্বদেশে ফেরার পথ-গুনবে না;
শেষ-রাতের নিঃসঙ্গতায়
কোনো কবি জন্ম দেবে না একটি অবিনশ্বর পঙ্ক্তি।
যে শহরে একদিন জ্বলেছিল লক্ষ প্রদীপ;
সেখানে নেমে আসবে নক্ষত্রহীন রাত্রি।
যে পথ ধরে মানুষের পদধ্বনি
ভবিষ্যতের দিকে ছুটে গিয়েছিল;
সেই পথ মিশে যাবে মহাকালের ধূসর মানচিত্রে।
সময়ের বুক থেকে খসে পড়বে
সভ্যতার সমস্ত নামফলক—
যেন পৃথিবী কোনো দিন
এই মহাবিশ্বে নিজের অস্তিত্বের স্বাক্ষর রাখেনি।
একদিন সূর্য সমস্ত আগুন নিঃশেষ করে
মরে যাওয়া নক্ষত্রের মতো ডুবে যাবে নিজেরই অন্ধকারে।
আলোকবর্ষের পর আলোকবর্ষ, তৈরি হবে শীতল শূন্যতা;
মহাকালের অনন্ত সমাধিক্ষেত্রে
আর কোনো ভোরের জন্ম হবে না।
মানুষের অহংকার
মানুষের ঈশ্বর
যুদ্ধ
দর্শন
অমরত্বের সকল প্রতিশ্রুতি
মৃত্যুর সঙ্গে আপস
কিছুই থাকবে না—
থাকবে না হারানোর বেদনা, পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।
এমনকি এই সর্বগ্রাসী শূন্যতার দিকে তাকিয়ে থাকার মতো কোনো চোখও আর অবশিষ্ট থাকবে না।
একদিন আমি তুমি মিলে—আমরা নামক যে মানুষ;
মহাবিশ্বের বুকে তার কিছুই থাকবে না।
এই না-থাকার ধ্রুব সত্যের ভেলায়—
মানুষই বোধ হয় একমাত্র,
নিজের বিনাশের কথা জেনেও; পৃথিবীকে ভালোবেসে যায়।