৪০ মার্কিন নাগরিকের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০৮ , চলতি সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাচারালাইজেশন প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ৪০ জনের নাগরিকত্ব বাতিলের লক্ষ্যে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। গত ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিবাসন ও পরিচয় জালিয়াতি, বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণা, কর ফাঁকি, যৌন অপরাধ এবং বিদেশি সরকারের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তিসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় নিউইয়র্কের ভ্যালি স্ট্রিমের এক বাসিন্দাও রয়েছেন। প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কারও নাম নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) বিচার বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এসব মামলা পরিচালনায় কাজ করছে। বিচার বিভাগের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন, মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন অথবা আইনগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জাতীয়তা আইন অনুযায়ী, প্রতারণা বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জনের প্রমাণ পাওয়া গেলে তা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে মামলা দায়েরের অর্থ নাগরিকত্ব ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। প্রতিটি মামলায় আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নিউইয়র্কের বাসিন্দার বিরুদ্ধে পরিচয় জালিয়াতির অভিযোগ : তালিকার ১৭ নম্বরে রয়েছেন আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া ৫৫ বছর বয়সী ভারিস জান সাফি, যিনি তারিক মেহমুদ নামেও পরিচিত। বিচার বিভাগের নথি অনুযায়ী, তিনি নিউইয়র্কের ভ্যালি স্ট্রিমের বাসিন্দা।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৯৫ সালে জাল পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন সাফি। পরে নিজের আফগান পরিচয় স্বীকার করার পর একজন অভিবাসন বিচারক তাঁকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। কিন্তু তিনি নতুন পরিচয় তৈরি করে এক মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেন এবং স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা অর্জন করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নাগরিকত্বের আবেদনেও নিজের পরিচয় ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
গুপ্তচরবৃত্তি ও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ : তালিকায় চীনে জন্ম নেওয়া ২৬ বছর বয়সী জিনচাও ওয়েইয়ের নামও রয়েছে। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নৌবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় চীনের কাছে সামরিক গোপন তথ্য পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৫ সালের আগস্টে তাঁকে ২০০ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
চীনা সরকারের হয়ে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে পিং লির নামও রয়েছে। এ ছাড়া একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভুয়া বিয়ে, একাধিক পরিচয় ব্যবহার, আগের বিয়ের তথ্য গোপন এবং অপরাধের ইতিহাস লুকিয়ে নাগরিকত্ব নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালিকায় যৌন অপরাধ, অর্থ পাচার, কর ফাঁকি, স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি এবং জাল পাসপোর্ট ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, চীন, কিউবা, কলম্বিয়া, ইরানসহ বিভিন্ন দেশে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা এ তালিকায় রয়েছেন।
বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় সঠিক তথ্য দেওয়া এবং আইনগত যোগ্যতা পূরণের বিষয়গুলো এসব মামলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তবে সব অভিযোগের চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বাতিল হবে কি না, তা নির্ভর করবে মামলার প্রমাণ ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। শুধু তালিকায় নাম থাকা বা মামলা দায়েরের কারণে কারও নাগরিকত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]