যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ সীমান্ত পারাপার কমেছে ৯৫ শতাংশ

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৯ , চলতি সংখ্যা
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অবৈধ পারাপার ৯৫ শতাংশ কমেছে, তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তিন মিলিয়নের বেশি অভিবাসী দেশ ছেড়েছেন বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার এবং অভিবাসন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা ও মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
২০ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের অভিবাসন নীতির বিভিন্ন পদক্ষেপ ও সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরে। এতে বলা হয়, অবৈধ সীমান্ত পারাপার নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায়ও কঠোরতা আনা হয়েছে। ভিসা যাচাই জোরদার, নির্দিষ্ট আবেদনকারীদের ওপর নতুন শর্ত আরোপ এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আইন প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা অন্তত ২৩ লাখ কমেছে। এ সময়ে তিন মিলিয়নের বেশি অভিবাসী দেশ ছেড়েছেন বলে দাবি করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি প্রায় ১২ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার বা দেশ থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং প্রায় ১৩ লাখ গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে।
প্রশাসনের দাবি, ২০২৬ অর্থবছরে দক্ষিণ সীমান্তে অবৈধ পারাপার সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময়কার তুলনায় ৯৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে দেশজুড়ে সীমান্তে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা ৩ লাখ ৮০ হাজারের নিচে নেমে এসেছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় বছরে এ ধরনের ঘটনা প্রায় ২৭ লাখ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া টানা ১৭ মাস সীমান্তে আটক ব্যক্তিদের যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগে ছেড়ে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট অভিবাসনের হার গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ, ওই বছরে দেশত্যাগকারী অভিবাসীর সংখ্যা নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীর সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে বলে প্রশাসনের বক্তব্য।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি সীমান্তে সামরিক সদস্য মোতায়েন এবং দেয়াল নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। হোয়াইট হাউসের দাবি, নতুন করে প্রায় ২৯০ মাইল সীমান্ত প্রতিবন্ধক নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৩১ মাইল প্রধান সীমান্ত দেয়াল রয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা প্রকল্পে ৩৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) জনবল দ্বিগুণেরও বেশি করা হয়েছে এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে ২ হাজার ৫০০টির বেশি চুক্তির মাধ্যমে অভিবাসন আইন কার্যকরে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করে ১২ হাজার ১০০-এর বেশি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে হোয়াইট হাউস।
মাদক পাচার দমনেও অগ্রগতির কথা জানিয়েছে প্রশাসন। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড মাদক জব্দ করেছে, যা আগের চার বছরের গড়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। কোস্ট গার্ড ৬ লাখ ২৪ হাজার পাউন্ডের বেশি মাদক আটক করেছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে ফেন্টানিল পাচার ৫৬ শতাংশ এবং ফেন্টানিল-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা এক বছরে ২২ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থায়ও বিভিন্ন পরিবর্তন এনেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নির্দিষ্ট এইচ-১বি ভিসা আবেদনের সঙ্গে এক লাখ ডলার অর্থ প্রদানের শর্ত আরোপ, শিক্ষার্থী ও বিনিময় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের অবস্থানের মেয়াদ নির্ধারণ এবং ভিসা যাচাই জোরদারের কথা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রশাসনের দাবি, তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে জন্মপর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত চার হাজার এবং অপরাধে জড়িত থাকা বা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগে ছয় হাজার বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৩টি দেশের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা (টিপিএস) বাতিল এবং শরণার্থী পুনর্বাসন কার্যক্রম স্থগিতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে অভিবাসন আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি থেকে কমে ৩০ লাখ ৯০ হাজারের নিচে নেমেছে বলে দাবি করেছে প্রশাসন। দ্রুত শুনানি নিশ্চিত করতে নতুন বিচারক নিয়োগ এবং বিচারিক কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সুবিধা গ্রহণের যোগ্যতা যাচাই ও ফেডারেল তহবিল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ জোরদার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
তবে এসব পরিসংখ্যানের বেশির ভাগই হোয়াইট হাউসের নিজস্ব দাবি। দেশত্যাগের হিসাব নির্ধারণ, গ্রেপ্তারের তথ্য সংগ্রহ এবং মাদক জব্দের পরিসংখ্যানের তুলনামূলক সময়কাল সম্পর্কে বিবৃতিতে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। ফলে এসব পদক্ষেপের প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়নে স্বাধীন তথ্য ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]