​প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্যই এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানো প্রয়োজন : বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ২১:১৯ , অনলাইন ভার্সন
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির উদ্দেশ্য উত্তরণ বিলম্বিত করা নয়; বরং একটি সুষ্ঠু, টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, আমরা অতিরিক্ত সময় চাই কোনো বিলম্বের জন্য নয়; বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করার জন্য। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীতে এলডিসি বিষয়ক এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)এ সেমিনারটির আয়োজন করে।

সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে প্রস্তুতিকালের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাহত হয়েছে। ফলে সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন।

তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, ডিরেগুলেশন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ ২৫টি অগ্রাধিকারখাত ভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ব্যবসা শুরু করার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএনসিডিপি) কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ ও বিদ্যমান পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক ইউএনসিডিপি বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) কাছে দাখিল করেছে। এখন ইকোসক বর্ধিত প্রস্তুতিকালের বিষয়টি বিবেচনাকরে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠাবে।

এ প্রেক্ষাপটে এলডিসি হতে বাংলাদেশের উত্তরণ সংক্রান্ত প্রস্তুতি কার্যক্রম ও তা বাস্তবায়নে অর্জিত অগ্রগতি এবং সুষ্ঠু ওটেকসই উত্তরণ নিশ্চিত করতে এই প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনসমূহ, উন্নয়ন সহযোগী ও অংশীজনকে বিশদভাবে অবহিত করার লক্ষ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের অব্যাহত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বাংলাদেশের অর্থনীতির বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির যৌক্তিকতা এবং অতিরিক্ত সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য সরকারের সময়াবদ্ধ সংস্কার রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

সেমিনারে উপস্থিত কূটনৈতিকরা বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রদূত, উন্নয়ন সহযোগী এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা রফতানি বহুমুখীকরণ, আর্থিক খাতের সংস্কার, করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কূটনৈতিকবৃন্দ বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির বিষয়ে তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) মিজ গীতাঞ্জলি সিং, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সভাপতি  আবদুল মুক্তাদির, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড এক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মন্জুর, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রতিনিধিরা।
 
এছাড়া সুইডেন, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতরাও সেমিনারে বক্তব্য দেন। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়নকর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।

ঠিকানা/এএস 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]