এ কথা একবাক্যে সবাই স্বীকার করবেন, স্বাধীনতা নিয়ে বিশ্বে সব দেশের নাগরিকদের একটি আত্মশ্লাঘাবোধ কাজ করে। যাদের স্বাধীনতার বয়স আড়াইশ বছরের মাইলফলক স্পর্শ করে, তাদের মধ্যে সেই শ্লাঘাবোধ একটু বেশিই। ভেতরে ভেতরে একটু অধিক মাত্রায় প্রকাশও পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার এই বিশেষ বয়সটি তাদের মধ্যে একটু বিশেষ উত্তেজনারও প্রকাশ ঘটাতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার এই বিশেষ বয়সটি তাদের নাগরিক জীবনেও বিশেষ প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াই শতাব্দীর মাইলফলক ছুঁতে অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে আসতে হয়েছে। বড় বড় রিসেশন, কোরিয়া-সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, কিউবা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট, পরাশক্তি সোভিয়েত-চীনকে মোকাবিলা করে অগ্রসর হতে হয়েছে। সোভিয়েত-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলমান; তার চাপকেও সয়ে চলতে হচ্ছে। সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র নিজেও প্রায় সাড়ে তিন মাস ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় একটি যুদ্ধ শেষ করলেও তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। এসব কিছুই যুক্তরাষ্ট্রকে পরাশক্তি হিসেবে মোকাবিলা করতে হয়েছে। ওসামা বিন লাদেনের জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার হামলায় ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ‘টুইন টাওয়ার’ ধ্বংসের জের এবং পরবর্তীকালে আফগানিস্তান-ইরাকের যুদ্ধ পরিচালনা করার দায়িত্বও পালন করতে হয়েছে। বাঙালি প্রবাদে বলা হয়, ‘বড় গাছে ঝড়টাও বেশি লাগে।’ স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম শেষে দেশ গঠনের বিশাল ঝড় সামাল দিয়ে অগ্রসর হতে পারলেও ছোটখাটো সংশয়-সংকট সব সময়ই কিছু থেকে যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্বের অভিভাবক হিসেবে দায়দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও কত সংকট নিজের জন্যও সৃষ্টি হয় অনেক সময়। এসবের পাশাপাশি দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থানকালে। সবকিছু জয় করে এমনকি বর্তমানে আরও দু-একটি দেশ আঞ্চলিক শক্তি থেকে বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার সময়কালেও যুক্তরাষ্ট্রের শিরে এখনো একমাত্র পরাশক্তির মুকুট।
মূলত এসব কারণেই অনেক বিশ্ব বিশ্লেষক বলে থাকেন, ‘আমেরিকা ইজ অলওয়েজ আমেরিকা।’ মূল ১৩টি স্টেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশের কলোনি থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে ১৭৭৬ সালে। পরে ৩৭টি স্টেট যুক্ত হয়ে ৫০টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে আজকের যুক্তরাষ্ট্র। মেধা, প্রজ্ঞা, জনশক্তি ও সমরশক্তির প্রসার ঘটছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেই সময় থেকেই। বিশ্ব বিজ্ঞজনেরা মনে করে থাকেন, ‘আমেরিকার শক্তির আধার হচ্ছে তার ত্রিকালদর্শী সংবিধান এবং সেই সব দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নিখাদ দেশপ্রেমিক জর্জ ওয়াশিংটন, জর্জ অ্যাডামস, থমাস জেফারসন, রুজভেল্ট, আব্রাহাম লিংকনদের মতো নেতা। পরবর্তী সময়কালের নেতারাও সেই লিগ্যাসি বয়ে নিয়ে চলেছেন প্রধানত দুটি দলÑরিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে বিভক্ত হয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি বড় শক্তি, তারা ইমিগ্র্যান্ট গোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্রের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে রয়েছে তাদের বিশাল ভূমিকা।
আজকের সময়ে ইমিগ্র্যান্টদের জন্য আমেরিকার আকাশ ছোট হয়ে আসছে। বিশ্ববাসী আশা করে, যুক্তরাষ্ট্র অতীত অবস্থানে স্বমহিমায় অবশ্যই ফিরে আসবে। ইমিগ্র্যান্টদের প্রতি যেমন উদার হবে, তেমনি বিশ্ব রাজনীতিতেও যথার্থ অবদান রাখবে। সাম্য, মৈত্রী এবং স্বাধীনতা রক্ষার সাংবিধানিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের গৌরবময় আড়াই শতাব্দী উদ্যাপনে মূলধারাসহ সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে এক উদ্দীপ্ত উদ্্যাপনের আয়োজন লক্ষ করা যাচ্ছে। ৪ জুলাই সরকারি ছুটির দিন। ম্যানহাটনে হবে বর্ণাঢ্য প্যারেড। হাডসন রিভারে ম্যাসির সৌজন্যে হবে চোখ-ধাঁধানো আতশবাজি। বিভিন্ন সম্প্রদায়-গোষ্ঠী নিচ্ছে বিশেষ কর্মসূচি, যেমন সেমিনার, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ পাবে বিশেষ সংখ্যা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নানা অনুষ্ঠান।
স্বাধীনতা অর্জনের আড়াইশ বর্ষপূর্তি উদ্্যাপনে যুক্তরাষ্ট্রের সকল নাগরিক, সকল অভিবাসী সম্প্রদায় এবং ঠিকানার সব পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, পৃষ্ঠপোষক ও শুভানুধ্যায়ীকে অশেষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার আড়াই শতাব্দীর মাইলফলক ছুঁতে অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে আসতে হয়েছে। বড় বড় রিসেশন, কোরিয়া-সংকট, ভিয়েতনাম যুদ্ধ, কিউবা ও মধ্যপ্রাচ্য সংকট, পরাশক্তি সোভিয়েত-চীনকে মোকাবিলা করে অগ্রসর হতে হয়েছে। সোভিয়েত-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলমান; তার চাপকেও সয়ে চলতে হচ্ছে। সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র নিজেও প্রায় সাড়ে তিন মাস ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে বড় একটি যুদ্ধ শেষ করলেও তার প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। এসব কিছুই যুক্তরাষ্ট্রকে পরাশক্তি হিসেবে মোকাবিলা করতে হয়েছে। ওসামা বিন লাদেনের জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার হামলায় ১১ সেপ্টেম্বর ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্র ‘টুইন টাওয়ার’ ধ্বংসের জের এবং পরবর্তীকালে আফগানিস্তান-ইরাকের যুদ্ধ পরিচালনা করার দায়িত্বও পালন করতে হয়েছে। বাঙালি প্রবাদে বলা হয়, ‘বড় গাছে ঝড়টাও বেশি লাগে।’ স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রাম শেষে দেশ গঠনের বিশাল ঝড় সামাল দিয়ে অগ্রসর হতে পারলেও ছোটখাটো সংশয়-সংকট সব সময়ই কিছু থেকে যায়। আন্তর্জাতিক বিশ্বের অভিভাবক হিসেবে দায়দায়িত্ব পালন করতে গিয়েও কত সংকট নিজের জন্যও সৃষ্টি হয় অনেক সময়। এসবের পাশাপাশি দু-দুটো বিশ্বযুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থানকালে। সবকিছু জয় করে এমনকি বর্তমানে আরও দু-একটি দেশ আঞ্চলিক শক্তি থেকে বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠার সময়কালেও যুক্তরাষ্ট্রের শিরে এখনো একমাত্র পরাশক্তির মুকুট।
মূলত এসব কারণেই অনেক বিশ্ব বিশ্লেষক বলে থাকেন, ‘আমেরিকা ইজ অলওয়েজ আমেরিকা।’ মূল ১৩টি স্টেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশের কলোনি থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে ১৭৭৬ সালে। পরে ৩৭টি স্টেট যুক্ত হয়ে ৫০টি অঙ্গরাজ্য নিয়ে আজকের যুক্তরাষ্ট্র। মেধা, প্রজ্ঞা, জনশক্তি ও সমরশক্তির প্রসার ঘটছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেই সময় থেকেই। বিশ্ব বিজ্ঞজনেরা মনে করে থাকেন, ‘আমেরিকার শক্তির আধার হচ্ছে তার ত্রিকালদর্শী সংবিধান এবং সেই সব দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নিখাদ দেশপ্রেমিক জর্জ ওয়াশিংটন, জর্জ অ্যাডামস, থমাস জেফারসন, রুজভেল্ট, আব্রাহাম লিংকনদের মতো নেতা। পরবর্তী সময়কালের নেতারাও সেই লিগ্যাসি বয়ে নিয়ে চলেছেন প্রধানত দুটি দলÑরিপাবলিকান পার্টি ও ডেমোক্র্যাটিক পার্টিতে বিভক্ত হয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি বড় শক্তি, তারা ইমিগ্র্যান্ট গোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্রের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে রয়েছে তাদের বিশাল ভূমিকা।
আজকের সময়ে ইমিগ্র্যান্টদের জন্য আমেরিকার আকাশ ছোট হয়ে আসছে। বিশ্ববাসী আশা করে, যুক্তরাষ্ট্র অতীত অবস্থানে স্বমহিমায় অবশ্যই ফিরে আসবে। ইমিগ্র্যান্টদের প্রতি যেমন উদার হবে, তেমনি বিশ্ব রাজনীতিতেও যথার্থ অবদান রাখবে। সাম্য, মৈত্রী এবং স্বাধীনতা রক্ষার সাংবিধানিক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের গৌরবময় আড়াই শতাব্দী উদ্যাপনে মূলধারাসহ সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে এক উদ্দীপ্ত উদ্্যাপনের আয়োজন লক্ষ করা যাচ্ছে। ৪ জুলাই সরকারি ছুটির দিন। ম্যানহাটনে হবে বর্ণাঢ্য প্যারেড। হাডসন রিভারে ম্যাসির সৌজন্যে হবে চোখ-ধাঁধানো আতশবাজি। বিভিন্ন সম্প্রদায়-গোষ্ঠী নিচ্ছে বিশেষ কর্মসূচি, যেমন সেমিনার, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ পাবে বিশেষ সংখ্যা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নানা অনুষ্ঠান।
স্বাধীনতা অর্জনের আড়াইশ বর্ষপূর্তি উদ্্যাপনে যুক্তরাষ্ট্রের সকল নাগরিক, সকল অভিবাসী সম্প্রদায় এবং ঠিকানার সব পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, পৃষ্ঠপোষক ও শুভানুধ্যায়ীকে অশেষ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।