৪ জুলাই। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় দিনগুলোর একটি। ১৭৭৬ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গ্রহণের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় আধুনিক যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৬ সালে দেশটি উদযাপন করছে স্বাধীনতার ২৫০ বছর, একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক, যা ‘আমেরিকা ২৫০’ নামে সারা দেশে নানা আয়োজনের মাধ্যমে পালিত হচ্ছে।
এই উদযাপন শুধু একটি দেশের স্বাধীনতার নয়; এটি সেই স্বপ্নেরও উদযাপন, যেখানে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা অভিবাসীরা নিজেদের শ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নতুন একটি জাতি গঠনে অংশ নিয়েছেন। সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশি কমিউনিটিও।
আজ থেকে প্রায় অর্ধশতক আগে হাতে গোনা কয়েকজন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন উন্নত জীবনের আশায়। সেই ছোট্ট অভিবাসী সমাজ আজ প্রায় ১০ লাখ (আনঅফিসিয়াল তথ্য) মানুষের একটি শক্তিশালী, প্রভাবশালী এবং ক্রমবর্ধমান কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে।
১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশিদের অভিবাসন ছিল সীমিত। অধিকাংশই ছিলেন ছাত্র, গবেষক কিংবা পেশাজীবী। পরবর্তীতে পরিবার পুনর্মিলন, কর্মসংস্থান এবং বৈচিত্র্যভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই এখন বাংলাদেশিদের বসতি গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস ও ব্রঙ্কসভিলে গড়ে উঠেছে প্রাণবন্ত বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা।
এক সময় যারা ছোট মুদি দোকান, গ্যাস স্টেশন বা ট্যাক্সি চালানোর মাধ্যমে জীবন শুরু করেছিলেন, তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম আজ যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার প্রায় প্রতিটি খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশি-আমেরিকানরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন রয়েছে- রেস্টুরেন্ট ও ফুড সার্ভিস ব্যবসা, গ্রোসারি ও সুপারমার্কেট, কনভিনিয়েন্স স্টোর, গ্যাস স্টেশন, ট্রাভেল এজেন্সি, আইটি ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়, টেলিকম কোম্পানি, নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক ও পেশাদার সেবা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি।
হাজার হাজার বাংলাদেশি উদ্যোক্তা শুধু নিজেদের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। বহু প্রতিষ্ঠান শত শত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশি-আমেরিকানদের দ্বিতীয় প্রজন্ম শিক্ষা ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, গবেষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
হার্ভার্ড, এমআইটি, কলাম্বিয়া, কর্নেল, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।
একসময় সরকারি প্রশাসনে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে।বাংলাদেশি-আমেরিকানরা এখন দায়িত্ব পালন করছেন-ফেডারেল সংস্থায়, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনে, অঙ্গরাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগে, আদালত ব্যবস্থায়, প্রসিকিউটর অফিসে, শিক্ষা বিভাগে, জনস্বাস্থ্য বিভাগে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে, পরিবহন ও নগর উন্নয়ন সংস্থায়। এফবিআই, বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা, সিটি এজেন্সি এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে।
গত এক দশকে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে রাজনৈতিক অংশগ্রহণে। শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, এখন বাংলাদেশিরা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করছেন। নীতি প্রণয়নে অংশ নিচ্ছেন। সরকারি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন কমিশন ও বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। নিউইয়র্ক সিটি, নিউইয়র্ক স্টেটসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশি ভোটারদের গুরুত্ব এখন বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও স্পষ্ট। নির্বাচনের সময় বাংলা ভাষায় প্রচারণা, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সরাসরি যোগাযোগ এবং বাংলাদেশি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক এখন প্রায় নিয়মিত চিত্র।
আজকের বাংলাদেশি-আমেরিকানরা শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। পয়লা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ উৎসবসহ নানা আয়োজন এখন যুক্তরাষ্ট্রের বহুসাংস্কৃতিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
বাংলা সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ডিজিটাল মিডিয়া, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলো বাংলাদেশি পরিচয় ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকা বাংলাদেশি-আমেরিকানদের নতুন প্রজন্ম এখন আর শুধু অভিবাসীর সন্তান নয়। তারা চিকিৎসক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক, বিনিয়োগকারী, সরকারি কর্মকর্তা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিক্ষক, বিচারক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রজন্মই আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার নেতৃত্বে আরও বড় ভূমিকা পালন করবে, এমন প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর শুধু অতীতের অর্জন উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিও একটি অঙ্গীকার। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির গত পঞ্চাশ বছরের পথচলা প্রমাণ করে- পরিশ্রম, শিক্ষা, সততা এবং সুযোগের সমন্বয় ঘটলে একটি অভিবাসী জনগোষ্ঠী কীভাবে একটি দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে। আজকের বাংলাদেশি কমিউনিটি আর কেবল অভিবাসী নয়; তারা যুক্তরাষ্ট্রের গল্পেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ এসএমএস অ্যালার্ট সেবা চালু করেছে নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট। ‘নোটিফাই এনওয়াইসি’-এর এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে ৪ জুলাই সপ্তাহজুড়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা নির্দেশনা, জরুরি পরিস্থিতি, সড়ক বন্ধ, যান চলাচলের পরিবর্তন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে।
নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, ইংরেজিতে আপডেট পেতে JULY4NYC এবং স্প্যানিশ ভাষায় আপডেট পেতে ঔটখণ৪ঘণঈঊঝচ লিখে ৬৯২-৬৯২ নম্বরে টেক্সট করতে হবে। এরপর ব্যবহারকারীরা স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সর্বশেষ তথ্য ও জরুরি সতর্কবার্তা মোবাইলে গ্রহণ করতে পারবেন। মোবাইল অপারেটরের বার্তা ও ডাটা চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
এ বছর নিউইয়র্কে স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে থাকছে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী মেসিজের ফোর্থ জুলাই উপলক্ষে ফায়ারওয়ার্কস, যা লোয়ার ইস্ট রিভার, সিপোর্ট ডিস্ট্রিক্ট, লোয়ার হাডসন নদী এবং ঐতিহাসিক ব্রুকলিন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও লাখো মানুষের সমাগম হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ঝধরষ২৫০ উদযাপনের অংশ হিসেবে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘প্যারেড অব সেইল’ এবং ৪ জুলাই থাকবে ঐতিহাসিক পালতোলা জাহাজের মনোমুগ্ধকর ‘প্যারেড অব সেইল শিপস’।
নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্টের কমিশনার ক্রিস্টিনা ফ্যারেল বলেন, স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনে অংশ নেওয়া সবাই যেন আগাম নিরাপত্তা নির্দেশনা ও যেকোনো পরিবর্তনের খবর জানতে পারেন, সে জন্য ঘড়ঃরভু ঘণঈ-এর অ্যালার্ট সেবায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকলে উৎসব নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে উপভোগ করা সহজ হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম, সড়ক বন্ধ, যানবাহনের রুট পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তাই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইচ্ছুক সবাইকে আগেই ঘড়ঃরভু ঘণঈ-এর বিশেষ এসএমএস সেবায় নিবন্ধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘড়ঃরভু ঘণঈ হলো নিউইয়র্ক সিটির সরকারি জরুরি তথ্য ও সতর্কবার্তা প্রদানকারী অফিসিয়াল যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি, বড় জনসমাগম বা বিশেষ আয়োজনের সময় এই সেবার মাধ্যমে নাগরিকদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চালু করা বিশেষ শর্ট কোডের মাধ্যমে এবার শহরবাসী ও দর্শনার্থীরা আরও সহজে প্রয়োজনীয় আপডেট ও নিরাপত্তা নির্দেশনা জানতে পারবেন।
এই উদযাপন শুধু একটি দেশের স্বাধীনতার নয়; এটি সেই স্বপ্নেরও উদযাপন, যেখানে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে আসা অভিবাসীরা নিজেদের শ্রম, মেধা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নতুন একটি জাতি গঠনে অংশ নিয়েছেন। সেই ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশি কমিউনিটিও।
আজ থেকে প্রায় অর্ধশতক আগে হাতে গোনা কয়েকজন বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন উন্নত জীবনের আশায়। সেই ছোট্ট অভিবাসী সমাজ আজ প্রায় ১০ লাখ (আনঅফিসিয়াল তথ্য) মানুষের একটি শক্তিশালী, প্রভাবশালী এবং ক্রমবর্ধমান কমিউনিটিতে পরিণত হয়েছে।
১৯৭০-এর দশকে বাংলাদেশিদের অভিবাসন ছিল সীমিত। অধিকাংশই ছিলেন ছাত্র, গবেষক কিংবা পেশাজীবী। পরবর্তীতে পরিবার পুনর্মিলন, কর্মসংস্থান এবং বৈচিত্র্যভিত্তিক অভিবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশি জনগোষ্ঠী দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, পেনসিলভানিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি অঙ্গরাজ্যেই এখন বাংলাদেশিদের বসতি গড়ে উঠেছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস, জ্যামাইকা, ব্রুকলিন, ব্রঙ্কস ও ব্রঙ্কসভিলে গড়ে উঠেছে প্রাণবন্ত বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা।
এক সময় যারা ছোট মুদি দোকান, গ্যাস স্টেশন বা ট্যাক্সি চালানোর মাধ্যমে জীবন শুরু করেছিলেন, তাঁদের পরবর্তী প্রজন্ম আজ যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার প্রায় প্রতিটি খাতে নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশি-আমেরিকানরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন রয়েছে- রেস্টুরেন্ট ও ফুড সার্ভিস ব্যবসা, গ্রোসারি ও সুপারমার্কেট, কনভিনিয়েন্স স্টোর, গ্যাস স্টেশন, ট্রাভেল এজেন্সি, আইটি ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, বিশ্ববিদ্যালয়, টেলিকম কোম্পানি, নির্মাণ ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, আর্থিক ও পেশাদার সেবা প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি।
হাজার হাজার বাংলাদেশি উদ্যোক্তা শুধু নিজেদের নয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। বহু প্রতিষ্ঠান শত শত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
বাংলাদেশি-আমেরিকানদের দ্বিতীয় প্রজন্ম শিক্ষা ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্যের পরিচয় দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক, গবেষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
হার্ভার্ড, এমআইটি, কলাম্বিয়া, কর্নেল, নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি, সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি গবেষক ও শিক্ষকরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।
একসময় সরকারি প্রশাসনে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি ছিল খুবই সীমিত। বর্তমানে পরিস্থিতি অনেক বদলে গেছে।বাংলাদেশি-আমেরিকানরা এখন দায়িত্ব পালন করছেন-ফেডারেল সংস্থায়, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনে, অঙ্গরাজ্য সরকারের বিভিন্ন বিভাগে, আদালত ব্যবস্থায়, প্রসিকিউটর অফিসে, শিক্ষা বিভাগে, জনস্বাস্থ্য বিভাগে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে, পরিবহন ও নগর উন্নয়ন সংস্থায়। এফবিআই, বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা, সিটি এজেন্সি এবং আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশিদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ক্রমাগত বাড়ছে।
গত এক দশকে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে রাজনৈতিক অংশগ্রহণে। শুধু ভোটার হিসেবেই নয়, এখন বাংলাদেশিরা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। নির্বাচনী প্রচারণা পরিচালনা করছেন। নীতি প্রণয়নে অংশ নিচ্ছেন। সরকারি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। বিভিন্ন কমিশন ও বোর্ডে দায়িত্ব পালন করছেন। নিউইয়র্ক সিটি, নিউইয়র্ক স্টেটসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে বাংলাদেশিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশি ভোটারদের গুরুত্ব এখন বড় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও স্পষ্ট। নির্বাচনের সময় বাংলা ভাষায় প্রচারণা, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সরাসরি যোগাযোগ এবং বাংলাদেশি নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক এখন প্রায় নিয়মিত চিত্র।
আজকের বাংলাদেশি-আমেরিকানরা শুধু অর্থনৈতিকভাবেই নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও নিজেদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। পয়লা বৈশাখ, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ উৎসবসহ নানা আয়োজন এখন যুক্তরাষ্ট্রের বহুসাংস্কৃতিক জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।
বাংলা সংবাদপত্র, টেলিভিশন, ডিজিটাল মিডিয়া, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং কমিউনিটি সংগঠনগুলো বাংলাদেশি পরিচয় ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
আগামী দিনের বাংলাদেশি-আমেরিকা বাংলাদেশি-আমেরিকানদের নতুন প্রজন্ম এখন আর শুধু অভিবাসীর সন্তান নয়। তারা চিকিৎসক, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষক, বিনিয়োগকারী, সরকারি কর্মকর্তা, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, চলচ্চিত্র নির্মাতা, শিক্ষক, বিচারক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
এই প্রজন্মই আগামী কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার নেতৃত্বে আরও বড় ভূমিকা পালন করবে, এমন প্রত্যাশা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর শুধু অতীতের অর্জন উদযাপনের উপলক্ষ নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রতিও একটি অঙ্গীকার। বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির গত পঞ্চাশ বছরের পথচলা প্রমাণ করে- পরিশ্রম, শিক্ষা, সততা এবং সুযোগের সমন্বয় ঘটলে একটি অভিবাসী জনগোষ্ঠী কীভাবে একটি দেশের অর্থনীতি, সমাজ ও গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে। আজকের বাংলাদেশি কমিউনিটি আর কেবল অভিবাসী নয়; তারা যুক্তরাষ্ট্রের গল্পেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইয়র্ক সিটিতে অনুষ্ঠিতব্য বিভিন্ন আয়োজনকে কেন্দ্র করে বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ এসএমএস অ্যালার্ট সেবা চালু করেছে নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট। ‘নোটিফাই এনওয়াইসি’-এর এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে ৪ জুলাই সপ্তাহজুড়ে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠান, নিরাপত্তা নির্দেশনা, জরুরি পরিস্থিতি, সড়ক বন্ধ, যান চলাচলের পরিবর্তন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরাসরি মোবাইল ফোনে পাওয়া যাবে।
নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, ইংরেজিতে আপডেট পেতে JULY4NYC এবং স্প্যানিশ ভাষায় আপডেট পেতে ঔটখণ৪ঘণঈঊঝচ লিখে ৬৯২-৬৯২ নম্বরে টেক্সট করতে হবে। এরপর ব্যবহারকারীরা স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সর্বশেষ তথ্য ও জরুরি সতর্কবার্তা মোবাইলে গ্রহণ করতে পারবেন। মোবাইল অপারেটরের বার্তা ও ডাটা চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।
এ বছর নিউইয়র্কে স্বাধীনতার ২৫০ বছর উপলক্ষে থাকছে বর্ণাঢ্য নানা আয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী মেসিজের ফোর্থ জুলাই উপলক্ষে ফায়ারওয়ার্কস, যা লোয়ার ইস্ট রিভার, সিপোর্ট ডিস্ট্রিক্ট, লোয়ার হাডসন নদী এবং ঐতিহাসিক ব্রুকলিন ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও লাখো মানুষের সমাগম হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া ঝধরষ২৫০ উদযাপনের অংশ হিসেবে ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘প্যারেড অব সেইল’ এবং ৪ জুলাই থাকবে ঐতিহাসিক পালতোলা জাহাজের মনোমুগ্ধকর ‘প্যারেড অব সেইল শিপস’।
নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্টের কমিশনার ক্রিস্টিনা ফ্যারেল বলেন, স্বাধীনতার ২৫০ বছর উদযাপনে অংশ নেওয়া সবাই যেন আগাম নিরাপত্তা নির্দেশনা ও যেকোনো পরিবর্তনের খবর জানতে পারেন, সে জন্য ঘড়ঃরভু ঘণঈ-এর অ্যালার্ট সেবায় যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তথ্য সম্পর্কে সচেতন থাকলে উৎসব নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে উপভোগ করা সহজ হবে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম, সড়ক বন্ধ, যানবাহনের রুট পরিবর্তন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। তাই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইচ্ছুক সবাইকে আগেই ঘড়ঃরভু ঘণঈ-এর বিশেষ এসএমএস সেবায় নিবন্ধনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ঘড়ঃরভু ঘণঈ হলো নিউইয়র্ক সিটির সরকারি জরুরি তথ্য ও সতর্কবার্তা প্রদানকারী অফিসিয়াল যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, জরুরি পরিস্থিতি, বড় জনসমাগম বা বিশেষ আয়োজনের সময় এই সেবার মাধ্যমে নাগরিকদের দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।
স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে চালু করা বিশেষ শর্ট কোডের মাধ্যমে এবার শহরবাসী ও দর্শনার্থীরা আরও সহজে প্রয়োজনীয় আপডেট ও নিরাপত্তা নির্দেশনা জানতে পারবেন।