ভারত ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে কখনোই সমর্থন করেনি। দেশের ভেতরেও তার বিরোধী শক্তি ছিল। এ অবস্থায় ড. ইউনূস মনে করেছিলেন, তাঁর ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থন প্রয়োজন। এখন যে সরকার আছে, সেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনেরও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন দরকার। এসব কথা বলেছেন সাংবাদিক ও লেখক হাসান ফেরদৌস।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে গিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি ছিল। এটা যেমন ঠিক, তেমনি বড় বড় দেশও এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে।
‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি শুধু বাংলাদেশ করেনি; জাপান, যুক্তরাজ্য, ভারতও করেছে। ভারত তো বাংলাদেশের চেয়েও বেশি বোয়িং কিনছে। আসলে শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছে অনেক দেশই। যুক্তরাজ্য সরকারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুশি করতে নানা কিছু করেছে। রাজাকে দাওয়াত করেছে, এটাও আগ্রহ নিয়ে জানাতে দেখা গেছে,’ যোগ করেন লেখক হাসান ফেরদৌস।
৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবারের এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়) অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি—ভোটের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করেন দুই অতিথি। বাংলাদেশে এর প্রভাব থাকবে কি না, ইরান যুদ্ধ কোন দিকে যেতে পারে, মার্কিন সমাজের প্রবণতা এখন কেমন—এসব নিয়ে নিজ নিজ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তাঁরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিটি দেশের স্বার্থবিরোধী—এটি বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, ইউনূস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সব প্রক্রিয়াই গোপনে সম্পন্ন করেছিল। এ থেকেই এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে এখন মার্কিন বোয়িং কিনতে হচ্ছে। গম, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেলও কিনতে হবে। আর অন্য দেশ থেকে কিনতে হলে মার্কিন প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হবে। এর চেয়ে নতজানু চুক্তি আর কী হতে পারে—এমন প্রশ্ন সামনে রাখেন বিশ্লেষক আরশাদ মাহমুদ।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এখন ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে চলেছেন। এ অবস্থায় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলেও অনেক কিছু করতে পারবেন না বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস। ঠিকানার টকশোতে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবেন কি না, তা আগাম বলা কঠিন। তবে যুদ্ধ চালাতে অর্থের প্রয়োজন, আর সেই অর্থের অনুমোদন দেয় কংগ্রেস। কংগ্রেসের বিরোধিতা ট্রাম্পের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’
এদিকে বিগত দুই বছরে বাংলাদেশ ও নেপালে জেনজি আন্দোলনে সরকারের পতন হয়েছে। ভারতে তেলাপোকা-খ্যাত তরুণেরা মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। ফ্রান্স ও জার্মানিতেও সম্প্রতি জেনজি আন্দোলন দৃশ্যমান। এ প্রসঙ্গ টেনে ঠিকানার টকশোতে আরশাদ মাহমুদ বলেন, ‘এসব আন্দোলনের পেছনে অর্থনৈতিক অসন্তোষ বড় ভূমিকা রাখছে। তাঁর মতে, শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রের স্বার্থের কথা বললেও নিজেদের গোষ্ঠীগত সুবিধাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তাই বঞ্চনার কারণে সৃষ্ট পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই তরুণেরা প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন। ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে এ ধরনের আন্দোলন চলতেই থাকবে।’
ঠিকানা/এনআই
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে গিয়ে রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি ছিল। এটা যেমন ঠিক, তেমনি বড় বড় দেশও এই চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছে।
‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অসম বাণিজ্য চুক্তি শুধু বাংলাদেশ করেনি; জাপান, যুক্তরাজ্য, ভারতও করেছে। ভারত তো বাংলাদেশের চেয়েও বেশি বোয়িং কিনছে। আসলে শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসনকে সন্তুষ্ট করতে চেয়েছে অনেক দেশই। যুক্তরাজ্য সরকারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুশি করতে নানা কিছু করেছে। রাজাকে দাওয়াত করেছে, এটাও আগ্রহ নিয়ে জানাতে দেখা গেছে,’ যোগ করেন লেখক হাসান ফেরদৌস।
৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবারের এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়) অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টি—ভোটের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণ করেন দুই অতিথি। বাংলাদেশে এর প্রভাব থাকবে কি না, ইরান যুদ্ধ কোন দিকে যেতে পারে, মার্কিন সমাজের প্রবণতা এখন কেমন—এসব নিয়ে নিজ নিজ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তাঁরা।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে করা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিটি দেশের স্বার্থবিরোধী—এটি বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র সাংবাদিক আরশাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, ইউনূস সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির সব প্রক্রিয়াই গোপনে সম্পন্ন করেছিল। এ থেকেই এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে এখন মার্কিন বোয়িং কিনতে হচ্ছে। গম, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও জ্বালানি তেলও কিনতে হবে। আর অন্য দেশ থেকে কিনতে হলে মার্কিন প্রশাসনের অনুমোদন নিতে হবে। এর চেয়ে নতজানু চুক্তি আর কী হতে পারে—এমন প্রশ্ন সামনে রাখেন বিশ্লেষক আরশাদ মাহমুদ।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এখন ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে চলেছেন। এ অবস্থায় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলেও অনেক কিছু করতে পারবেন না বলে মনে করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হাসান ফেরদৌস। ঠিকানার টকশোতে তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যাবেন কি না, তা আগাম বলা কঠিন। তবে যুদ্ধ চালাতে অর্থের প্রয়োজন, আর সেই অর্থের অনুমোদন দেয় কংগ্রেস। কংগ্রেসের বিরোধিতা ট্রাম্পের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।’
এদিকে বিগত দুই বছরে বাংলাদেশ ও নেপালে জেনজি আন্দোলনে সরকারের পতন হয়েছে। ভারতে তেলাপোকা-খ্যাত তরুণেরা মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে। ফ্রান্স ও জার্মানিতেও সম্প্রতি জেনজি আন্দোলন দৃশ্যমান। এ প্রসঙ্গ টেনে ঠিকানার টকশোতে আরশাদ মাহমুদ বলেন, ‘এসব আন্দোলনের পেছনে অর্থনৈতিক অসন্তোষ বড় ভূমিকা রাখছে। তাঁর মতে, শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রের স্বার্থের কথা বললেও নিজেদের গোষ্ঠীগত সুবিধাকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। তাই বঞ্চনার কারণে সৃষ্ট পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই তরুণেরা প্রতিবাদে শামিল হচ্ছেন। ব্যবস্থার পরিবর্তন না হলে এ ধরনের আন্দোলন চলতেই থাকবে।’
ঠিকানা/এনআই