যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা সামগ্রিকভাবে দেশের পরিস্থিতি, অর্থনীতির অবস্থা এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাজের মান নিয়ে গভীরভাবে অসন্তুষ্ট, সিএনএনের ভোটার জরিপের প্রাথমিক জাতীয় ফলাফলে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
জাতীয় পর্যায়ে প্রায় তিন চতুর্থাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে, দেশে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট বা তার চেয়েও খারাপ কিছু অনুভব করছেন; এদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৪ জন নিজেদের ক্ষুব্ধ বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রাথমিক ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এই অসন্তোষের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে: ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে অসন্তোষ। এই বিষয়গুলো ঠিক কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো দেখার বিষয়, বিশেষ করে রিপাবলিকান আধিপত্য আছে এমন কিছু অঙ্গরাজ্যে যেখানে সেনেট নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।
জাতীয় পর্যায়ে প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬ জন ট্রাম্পের কাজের ধরনের প্রতি অসন্তুষ্ট। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক আবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন জানানো ভোটারদের মধ্যে প্রায় এক পঞ্চমাংশ এখন তার কাজের ধরনের প্রতি অসন্তুষ্ট।
দেখা গেছে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, এমন ভোটারদের অনুপাত ২০২৪ সালের পরিস্থিতির মতোই রয়েছে। তবে এবার অনেক ভোটার সরাসরি ট্রাম্পকেই এর জন্য দায়ী করছেন। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ভোটারের মতে, ট্রাম্পের কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাদের অধিকাংশই মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলোর পরিবর্তে তার নিজস্ব নীতিগুলোই দায়ী।
অধিকাংশ ভোটারের সন্দেহ যে ট্রাম্পের অগ্রাধিকারগুলো সঠিক কি না। তাদের মতে, তিনি দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেন। প্রেসিডেন্ট তার সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তারা এমনভাবে ভোট দেন যেন তিনিই (ট্রাম্প) ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে আছেন; কিন্তু ভোটারদের এক পঞ্চমাংশেরও কম জানিয়েছেন যে, তারা প্রতিনিধি পরিষদে ভোট ট্রাম্পের সমর্থনে দিয়েছেন। বাকিরা জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিচ্ছেন অথবা তাদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ট্রাম্প কোনো প্রভাবই ফেলতে পারনেনি।
ভোটারদের প্রায় তিন চতুর্থাংশ জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে খারাপ বলে মনে করেন তারা। প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বা প্রধান বিষয় ছিল।
দেশের সামনে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বেছে নিতে বলা হলে, ভোটাররা সাধারণত অর্থনীতির কথা উল্লেখ করেন; এরপরই আসে গণতন্ত্রের অবস্থার প্রসঙ্গ। অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পররাষ্ট্রনীতি বা অপরাধের মতো বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন খুব কম ভোটারই।
এই প্রাথমিক ভোটার জরিপের অনেক ফলাফলই মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারের সময় দেখা যাওয়া রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজের প্রথম দুই বছরের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ কেবল অর্থনৈতিক বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অধিকাংশ ভোটারের মতে, অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন বাড়াবাড়ি রকমের কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
ওয়াশিংটন সম্পর্কে ভোটারদের অসন্তোষ কেবল নির্বাহী বিভাগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না, কংগ্রেস এবং সুপ্রিম কোর্ট নিয়েও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক। উভয় রাজনৈতিক দল সম্পর্কেই মানুষের ধারণা নেতিবাচক। তবে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে এই নেতিবাচক মনোভাব আরও প্রকট।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে আস্থার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে সামান্য এগিয়ে আছেন। অতীতের নির্বাচনগুলোতে এই বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা পিছিয়ে থাকতেন বলে বর্তমানের এই পরিসংখ্যানটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়া, প্রায় এক পঞ্চমাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে, তারা কোনো দলকেই বিশ্বাস করেন না।
ঠিকানা/এসআর
জাতীয় পর্যায়ে প্রায় তিন চতুর্থাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে, দেশে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে তারা অসন্তুষ্ট বা তার চেয়েও খারাপ কিছু অনুভব করছেন; এদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৪ জন নিজেদের ক্ষুব্ধ বলে বর্ণনা করেছেন।
প্রাথমিক ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এই অসন্তোষের পেছনে দুটি কারণ রয়েছে: ট্রাম্পের প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে অসন্তোষ। এই বিষয়গুলো ঠিক কীভাবে প্রভাব ফেলবে তা এখনো দেখার বিষয়, বিশেষ করে রিপাবলিকান আধিপত্য আছে এমন কিছু অঙ্গরাজ্যে যেখানে সেনেট নির্বাচনে অপ্রত্যাশিতভাবে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।
জাতীয় পর্যায়ে প্রতি ১০ জন ভোটারের মধ্যে প্রায় ৬ জন ট্রাম্পের কাজের ধরনের প্রতি অসন্তুষ্ট। এদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক আবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে সমর্থন জানানো ভোটারদের মধ্যে প্রায় এক পঞ্চমাংশ এখন তার কাজের ধরনের প্রতি অসন্তুষ্ট।
দেখা গেছে, মুদ্রাস্ফীতির কারণে দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন, এমন ভোটারদের অনুপাত ২০২৪ সালের পরিস্থিতির মতোই রয়েছে। তবে এবার অনেক ভোটার সরাসরি ট্রাম্পকেই এর জন্য দায়ী করছেন। প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ভোটারের মতে, ট্রাম্পের কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাদের অধিকাংশই মনে করেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলোর পরিবর্তে তার নিজস্ব নীতিগুলোই দায়ী।
অধিকাংশ ভোটারের সন্দেহ যে ট্রাম্পের অগ্রাধিকারগুলো সঠিক কি না। তাদের মতে, তিনি দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দেন। প্রেসিডেন্ট তার সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছিলেন যেন তারা এমনভাবে ভোট দেন যেন তিনিই (ট্রাম্প) ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে আছেন; কিন্তু ভোটারদের এক পঞ্চমাংশেরও কম জানিয়েছেন যে, তারা প্রতিনিধি পরিষদে ভোট ট্রাম্পের সমর্থনে দিয়েছেন। বাকিরা জানিয়েছেন, তারা ট্রাম্পের বিপক্ষে ভোট দিচ্ছেন অথবা তাদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ট্রাম্প কোনো প্রভাবই ফেলতে পারনেনি।
ভোটারদের প্রায় তিন চতুর্থাংশ জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে খারাপ বলে মনে করেন তারা। প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় তাদের ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একটি ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বা প্রধান বিষয় ছিল।
দেশের সামনে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বেছে নিতে বলা হলে, ভোটাররা সাধারণত অর্থনীতির কথা উল্লেখ করেন; এরপরই আসে গণতন্ত্রের অবস্থার প্রসঙ্গ। অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পররাষ্ট্রনীতি বা অপরাধের মতো বিষয়গুলোকে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন খুব কম ভোটারই।
এই প্রাথমিক ভোটার জরিপের অনেক ফলাফলই মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারের সময় দেখা যাওয়া রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজের প্রথম দুই বছরের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ কেবল অর্থনৈতিক বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অধিকাংশ ভোটারের মতে, অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন বাড়াবাড়ি রকমের কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
ওয়াশিংটন সম্পর্কে ভোটারদের অসন্তোষ কেবল নির্বাহী বিভাগের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ না, কংগ্রেস এবং সুপ্রিম কোর্ট নিয়েও তাদের দৃষ্টিভঙ্গি নেতিবাচক। উভয় রাজনৈতিক দল সম্পর্কেই মানুষের ধারণা নেতিবাচক। তবে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় রিপাবলিকানদের ক্ষেত্রে এই নেতিবাচক মনোভাব আরও প্রকট।
প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যায়, অর্থনীতি পরিচালনার ক্ষেত্রে আস্থার প্রশ্নে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে সামান্য এগিয়ে আছেন। অতীতের নির্বাচনগুলোতে এই বিষয়ে ডেমোক্র্যাটরা পিছিয়ে থাকতেন বলে বর্তমানের এই পরিসংখ্যানটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এছাড়া, প্রায় এক পঞ্চমাংশ ভোটার জানিয়েছেন যে, তারা কোনো দলকেই বিশ্বাস করেন না।
ঠিকানা/এসআর