যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে এক নতুন ইতিহাস তৈরির সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। দেশটিতে এখনো বেশ কিছু অঙ্গরাজ্য রয়েছে, যেখানে কখনোই কোনো নারী রাজ্যপ্রধান, তথা গভর্নরের পদে আসীন হননি। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই অচলাবস্থা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো নারী গভর্নর বেছে নিতে পারে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব অঙ্গরাজ্যে নতুন এই ইতিহাস সৃষ্টি হতে পারে, চলুন দেখে নেওয়া যাক সেগুলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রকাশিত একটি তালিকা অনুযায়ী, এ বছর এমন কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন যারা তাদের অঙ্গরাজ্যের প্রথম নারী গভর্নর হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন। এর মধ্যে রয়েছেন জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক দলের গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস। তিনি কেবল ওই অঙ্গরাজ্যের প্রথম নারী গভর্নরই হবেন না, নির্বাচিত হলে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হওয়ারও সুযোগ রয়েছে তার।
মিনেসোটায় ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার নির্বাচিত হলে তিনিও হতে পারেন অঙ্গরাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর।
টেনেসি অঙ্গরাজ্যেও প্রথমবারের মতো কোনো নারী গভর্নর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জেরি গ্রিনের চেয়ে এগিয়ে আছেন।
এ ছাড়া ওহাইও অঙ্গরাজ্যেও প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হতে পারেন, যদি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করতে পারেন। প্রায় ৩০ বছর আগে এই অঙ্গরাজ্যে একজন অন্তর্বর্তীকালীন নারী গভর্নর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো নারী এই পদে নির্বাচিত হননি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ এ নির্বাচনের দিকে নজর রাখছেন। দেশটির স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হতে থাকবে তা নির্ধারিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে।
তবে এবার কেবল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ব্যালট পেপারে প্রভাব ফেলছে জীবনযাত্রার বাস্তব সমীকরণ। মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থান, অভিবাসন, কর হ্রাস, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিনসহ নানামুখী জটিল ইস্যুগুলো বিবেচনায় রাখছেন সাধারণ ভোটাররা।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটিক দলের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটর পদপ্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের ঘৃণা করার অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লেখেন, ‘আব্দুল এল-সায়েদ ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গদের ঘৃণা করে। খারাপ ভাববেন না, সে শ্বেতাঙ্গদেরও ঘৃণা করে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘কেবল বোকারাই’ এল-সায়েদকে ভোট দেবে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এল-সায়েদ আপনাদের শতভাগ সর্বনাশ করে দেবে!
মিশিগানে এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে ভোটযুদ্ধ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দৌড়ে নির্ণায়ক হতে পারে। জরিপ অনুযায়ী, এল-সায়েদ রজার্সের চেয়ে এগিয়ে আছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
৫ কোটি ৮৭ লাখ আগাম ভোটের মধ্যে রয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ সরাসরি ভোট এবং ২ কোটি ৬৮ লাখ ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট। ২০২২ সালে আগাম ভোট দেওয়া হয়েছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ।
যেসব অঙ্গরাজ্যে দলীয় সমর্থকের হিসাব রাখা হয়, সেখানে আগাম ভোটদাতাদের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ ছিলেন নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট এবং নিবন্ধিত রিপাবলিকানের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, পাশাপাশি অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই আগেভাগে সশরীরে ভোট দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৬টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু অংশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবকটি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে।
ঠিকানা/এএস
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রকাশিত একটি তালিকা অনুযায়ী, এ বছর এমন কয়েকজন প্রার্থী রয়েছেন যারা তাদের অঙ্গরাজ্যের প্রথম নারী গভর্নর হওয়ার সম্ভাবনা রাখেন। এর মধ্যে রয়েছেন জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাটিক দলের গভর্নর পদপ্রার্থী কেইশা ল্যান্স বটমস। তিনি কেবল ওই অঙ্গরাজ্যের প্রথম নারী গভর্নরই হবেন না, নির্বাচিত হলে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হওয়ারও সুযোগ রয়েছে তার।
মিনেসোটায় ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর অ্যামি ক্লোবুচার নির্বাচিত হলে তিনিও হতে পারেন অঙ্গরাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর।
টেনেসি অঙ্গরাজ্যেও প্রথমবারের মতো কোনো নারী গভর্নর পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর মার্শা ব্ল্যাকবার্ন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জেরি গ্রিনের চেয়ে এগিয়ে আছেন।
এ ছাড়া ওহাইও অঙ্গরাজ্যেও প্রথম নারী গভর্নর নির্বাচিত হতে পারেন, যদি ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীকে পরাজিত করতে পারেন। প্রায় ৩০ বছর আগে এই অঙ্গরাজ্যে একজন অন্তর্বর্তীকালীন নারী গভর্নর দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তবে এখন পর্যন্ত সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো নারী এই পদে নির্বাচিত হননি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ এ নির্বাচনের দিকে নজর রাখছেন। দেশটির স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হতে থাকবে তা নির্ধারিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে।
তবে এবার কেবল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ব্যালট পেপারে প্রভাব ফেলছে জীবনযাত্রার বাস্তব সমীকরণ। মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থান, অভিবাসন, কর হ্রাস, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিনসহ নানামুখী জটিল ইস্যুগুলো বিবেচনায় রাখছেন সাধারণ ভোটাররা।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটিক দলের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটর পদপ্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের ঘৃণা করার অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লেখেন, ‘আব্দুল এল-সায়েদ ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গদের ঘৃণা করে। খারাপ ভাববেন না, সে শ্বেতাঙ্গদেরও ঘৃণা করে।’
ট্রাম্প বলেন, ‘কেবল বোকারাই’ এল-সায়েদকে ভোট দেবে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এল-সায়েদ আপনাদের শতভাগ সর্বনাশ করে দেবে!
মিশিগানে এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে ভোটযুদ্ধ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দৌড়ে নির্ণায়ক হতে পারে। জরিপ অনুযায়ী, এল-সায়েদ রজার্সের চেয়ে এগিয়ে আছেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
৫ কোটি ৮৭ লাখ আগাম ভোটের মধ্যে রয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ সরাসরি ভোট এবং ২ কোটি ৬৮ লাখ ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট। ২০২২ সালে আগাম ভোট দেওয়া হয়েছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ।
যেসব অঙ্গরাজ্যে দলীয় সমর্থকের হিসাব রাখা হয়, সেখানে আগাম ভোটদাতাদের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ ছিলেন নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট এবং নিবন্ধিত রিপাবলিকানের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, পাশাপাশি অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই আগেভাগে সশরীরে ভোট দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৬টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু অংশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবকটি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে।
ঠিকানা/এএস