ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার সবার আছে। সেটা জুলাই আন্দোলনে পতন হওয়া আওয়ামী লীগের সবার জন্যও প্রযোজ্য। এখন আওয়ামী লীগ নেতা ও অভিনেতা আসাদুজ্জামানের নূরের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। তাকেও বিনা বিচারে কারাবন্দী রাখা ঠিক হচ্ছে না। এমন মন্তব্য করেছেন লেখক ও অধ্যাপক সুমন রহমান।
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের এমন একটি সমাজ তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো বিষয় আমার পক্ষে গেলে ভালো, বিপক্ষে গেলেই খারাপ। এমনকি সামান্য ভিডিওর ক্ষেত্রে যতটুকু পক্ষে যাবে, সেটুকু দেখব, সেটুকু আলাদা করে কেটে পোস্ট দিব, এই প্রবণতা কিন্তু ভালো কিছু নয়। এতে তথ্যগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়।’
২ নভেম্বর সোমবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন লেখক ও প্রকাশক ফিরোজ আহমেদ। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়) অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সরকার, রাজনীতি ও প্রশাসনের নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ আওয়ামী লীগের অনেকে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না—সম্প্রতি এ অভিযোগ সামনে এনে লিখেছেন ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান। এটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে লেখক ও প্রকাশক ফিরোজ আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে যখন বার্গম্যান লিখেছিলেন, তখন জামায়াতে ইসলামী উৎফুল্ল হয়ে তাকে সমর্থন জানিয়েছিল। সেই একই ব্যক্তি যখন এখন আইসিটির বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরছেন, তখন আওয়ামী লীগ তাঁকে সমর্থন দিচ্ছে এবং বিপরীতে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের একটি অংশ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হচ্ছে। ফলে কোনো বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক সুবিধাজনক অবস্থান ও নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখেই দলগুলোর প্রতিক্রিয়া বদলাচ্ছে, মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে দিন কয়েক আগে ঢাকার বাংলাবাজারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয়কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেয় জনা কয়েক মবকারী। তবে এ ঘটনায় ইউপিএল ভয় পায়নি। উল্টো নিয়েছে শক্ত অবস্থান। বিবৃতি দিয়ে তারা জানায়, বইটি নিষিদ্ধ করার কোনো আইনগত পদক্ষেপের কথা তাদের জানা নেই। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইউপিএলের অন্যতম পরিচালক ফিরোজ আহমেদ ঠিকানার টকশোতে বলেন, ‘এই ঘটনায় অবশ্যই আমি বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ দিব। কারণ তারা আমাদের প্রকাশনার পাশে দাঁড়িয়েছে। এমন কিছু উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, যাতে আমরা ঝামেলা থেকে রক্ষা পেয়েছি।’
নিজেদের সুবিধামতো ইতিহাস উপস্থাপন করা, ভিন্নমতের বই নিষিদ্ধ করা- কোনো সরকারের যদি এমন প্রবণতা থাকে, তাতে ফ্যাসিবাদ তৈরির ঝুঁকি দেখা দেয়- মনে করছেন লেখক ও অধ্যাপক সুমন রহমান। ঠিকানার টকশোতে তিনি আরও বলেন, অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বই। এটি নিষিদ্ধ করার কোনো উদ্যোগ কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। নিষিদ্ধ করে এ ধরনের বই ঠেকানো যায় না, মানুষ পড়বেই। সব ধরনের বই পাঠের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ঠিকানা/এনআই
ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন টকশোতে তিনি আরও বলেন, ‘এখন আমাদের এমন একটি সমাজ তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো বিষয় আমার পক্ষে গেলে ভালো, বিপক্ষে গেলেই খারাপ। এমনকি সামান্য ভিডিওর ক্ষেত্রে যতটুকু পক্ষে যাবে, সেটুকু দেখব, সেটুকু আলাদা করে কেটে পোস্ট দিব, এই প্রবণতা কিন্তু ভালো কিছু নয়। এতে তথ্যগত বিভ্রান্তি তৈরি হয়।’
২ নভেম্বর সোমবার এই টকশোতে অতিথি হিসেবে আরও ছিলেন লেখক ও প্রকাশক ফিরোজ আহমেদ। নিউইয়র্ক সময় বেলা ১২টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায়) অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ ইউটিউব চ্যানেলে। শিক্ষা, সংস্কৃতি, সরকার, রাজনীতি ও প্রশাসনের নানা বিষয়ে কথা বলেন দুই অতিথি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরসহ আওয়ামী লীগের অনেকে ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না—সম্প্রতি এ অভিযোগ সামনে এনে লিখেছেন ব্রিটিশ অনুসন্ধানী সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী ডেভিড বার্গম্যান। এটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে লেখক ও প্রকাশক ফিরোজ আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরে যখন বার্গম্যান লিখেছিলেন, তখন জামায়াতে ইসলামী উৎফুল্ল হয়ে তাকে সমর্থন জানিয়েছিল। সেই একই ব্যক্তি যখন এখন আইসিটির বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরছেন, তখন আওয়ামী লীগ তাঁকে সমর্থন দিচ্ছে এবং বিপরীতে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের একটি অংশ তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হচ্ছে। ফলে কোনো বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনার ভিত্তিতে নয়, বরং রাজনৈতিক সুবিধাজনক অবস্থান ও নিজেদের স্বার্থ বজায় রেখেই দলগুলোর প্রতিক্রিয়া বদলাচ্ছে, মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে দিন কয়েক আগে ঢাকার বাংলাবাজারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রকাশনা সংস্থা ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয়কেন্দ্রে তালা ঝুলিয়ে দেয় জনা কয়েক মবকারী। তবে এ ঘটনায় ইউপিএল ভয় পায়নি। উল্টো নিয়েছে শক্ত অবস্থান। বিবৃতি দিয়ে তারা জানায়, বইটি নিষিদ্ধ করার কোনো আইনগত পদক্ষেপের কথা তাদের জানা নেই। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ইউপিএলের অন্যতম পরিচালক ফিরোজ আহমেদ ঠিকানার টকশোতে বলেন, ‘এই ঘটনায় অবশ্যই আমি বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ দিব। কারণ তারা আমাদের প্রকাশনার পাশে দাঁড়িয়েছে। এমন কিছু উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, যাতে আমরা ঝামেলা থেকে রক্ষা পেয়েছি।’
নিজেদের সুবিধামতো ইতিহাস উপস্থাপন করা, ভিন্নমতের বই নিষিদ্ধ করা- কোনো সরকারের যদি এমন প্রবণতা থাকে, তাতে ফ্যাসিবাদ তৈরির ঝুঁকি দেখা দেয়- মনে করছেন লেখক ও অধ্যাপক সুমন রহমান। ঠিকানার টকশোতে তিনি আরও বলেন, অসমাপ্ত আত্মজীবনী অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ একটি বই। এটি নিষিদ্ধ করার কোনো উদ্যোগ কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। নিষিদ্ধ করে এ ধরনের বই ঠেকানো যায় না, মানুষ পড়বেই। সব ধরনের বই পাঠের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
ঠিকানা/এনআই