মধ্যবর্তী নির্বাচন : ৭ অঙ্গরাজ্যে কঠিন পরীক্ষায় ট্রাম্পের দল

প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৫৪ , অনলাইন ভার্সন
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ। সাতটি অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস জরিপে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রয়োজন চারটি আসন, ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে আসা ভোট গণনা বন্ধের আবেদনও আদালতে খারিজ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে জমে উঠেছে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির লড়াই। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখাই এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সর্বশেষ জনমত জরিপ ও নির্বাচনী পূর্বাভাসে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে দলটির মধ্যে। বিপরীতে, দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের সামনে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক হাতি এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রতীক গাধা। সেই অর্থে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন হাতি ও গাধার লড়াই হলেও এর ফল শুধু কংগ্রেসের আসনসংখ্যায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ এবং বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে।

বর্তমানে ১০০ সদস্যের সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি। ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে রয়েছেন দুজন স্বতন্ত্র সিনেটর। সব মিলিয়ে বিরোধী শিবিরের আসন ৪৭টি। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন আরও চারটি আসন। এবারের নির্বাচনে সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। এর মধ্যে ২২টি রিপাবলিকান এবং ১৩টি ডেমোক্র্যাটদের দখলে। নিজেদের আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের অন্তত চারটি আসনে জয় পেলে ডেমোক্র্যাটরা ৫১ আসন নিয়ে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনী জরিপে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা সাতটি অঙ্গরাজ্য—আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, মেইন ও টেক্সাসে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। আবার কোথাও দুই দলের প্রার্থীর মধ্যে ব্যবধান খুবই কম। ফলে নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে ভোটারদের অবস্থান এবং প্রচারণার প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্পকে ঘিরে অস্বস্তি রিপাবলিকান শিবিরে

সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা বাড়তে থাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়েও দলটির মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। যেসব অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকান প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়েছেন, সেসব জায়গায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণায় প্রেসিডেন্টকে পাশে পেতে আগ্রহী নন বলেও খবর এসেছে।

এ পরিস্থিতিতে কানসাস, আইওয়া ও মেইনে নির্বাচনী সমাবেশ বাতিল করেছিলেন ট্রাম্প। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও নির্বাচনী সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দেন তিনি।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, ইরান যুদ্ধ, শুল্কনীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে, অর্থনৈতিক চাপ ও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের প্রচারণায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

আলাস্কা : অর্থ সংগ্রহে এগিয়ে পেলটোলা

আলাস্কায় পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট দলের সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি মেরি পেলটোলা।

নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে অক্টোবর পর্যন্ত সুলিভানের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন পেলটোলা। তিনি সংগ্রহ করেছেন ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অন্যদিকে সুলিভানের সংগ্রহ প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তবে প্রচারণার জন্য হাতে থাকা নগদ অর্থের হিসাবে এগিয়ে রয়েছেন সুলিভান। তার তহবিলে রয়েছে ৫১ লাখ ডলার, যেখানে পেলটোলার হাতে রয়েছে ৩২ লাখ ডলার।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প আলাস্কায় ১৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে সুলিভানের সঙ্গে পেলটোলার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে।

আইওয়া : উন্মুক্ত আসনে দুই দলের লড়াই

২০২৪ সালের নির্বাচনে আইওয়ায় ১৩ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এবার অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি আগের মতো সহজ নয়। ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, শুল্কনীতি এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ নির্বাচনী আলোচনায় প্রভাব ফেলছে।

রিপাবলিকান সিনেটর জনি আর্নস্ট পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আসনটি উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। এতে রিপাবলিকান প্রতিনিধি অ্যাশলি হিনসনের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জশ টুরেক। টুরেক দুবারের প্যারালিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী।

তহবিল সংগ্রহে টুরেক এগিয়ে রয়েছেন। তিনি সংগ্রহ করেছেন ২ কোটি ডলার, আর হিনসনের সংগ্রহ ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। তবে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাতে থাকা নগদ অর্থের হিসাবে হিনসন এগিয়ে ছিলেন। তার কাছে টুরেকের তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ ডলার বেশি ছিল।

প্রচারণায় ব্যয়ের ক্ষেত্রেও দুই দলের মধ্যে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। রিপাবলিকানরা ব্যয় করেছে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার, আর ডেমোক্র্যাটদের ব্যয় ৭ কোটি ডলার। সাম্প্রতিক জরিপে হিনসন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।

হিনসন ইরান যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যুদ্ধের কারণে আইওয়ার বাসিন্দাদের জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করা উচিত নয়। তবে কংগ্রেসে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাবগুলোর বিপক্ষে তিনি একাধিকবার ভোট দিয়েছেন। এ অবস্থানও নির্বাচনী প্রচারণায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

কানসাস : ৯৪ বছর পর পরিবর্তনের সম্ভাবনা

দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কানসাসেও এবার ডেমোক্র্যাটদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখানে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের মুখোমুখি হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টন।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প কানসাসে ১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। তবে অঙ্গরাজ্যটি অতীতে দুবার ডেমোক্র্যাট লরা কেলিকে গভর্নর নির্বাচিত করেছে। ফলে রাজ্যটির রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় রিপাবলিকানরা নর্থ ক্যারোলাইনা থেকে নির্বাচনী সম্পদ সরিয়ে মার্শালের প্রচারণায় সহায়তা করছে। মার্শাল নিজেও অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন।

কানসাসে সর্বশেষ ১৯৩২ সালে একজন ডেমোক্র্যাট সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। প্রায় ৯৪ বছর পর আবারও সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে হ্যামিল্টন সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন বলে দেখা যাচ্ছে। রিপাবলিকান নেতারাও স্বীকার করেছেন, প্রতিযোগিতা তাদের প্রত্যাশার তুলনায় কঠিন হয়ে উঠেছে।

মেইন : কলিন্সের সামনে চ্যালেঞ্জ

মেইনে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে রয়েছেন রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ট্রয় জ্যাকসন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন।

মেইনের নির্বাচনী পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখানে রিপাবলিকানদের একটি আসন হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হলে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমীকরণ আরও পরিবর্তিত হতে পারে। কলিন্সের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও অঙ্গরাজ্যে তার অবস্থানের পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতির ইস্যুগুলোও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

নর্থ ক্যারোলাইনা : কুপারকে ঘিরে আলোচনা

নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী অবস্থান নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও সাবেক গভর্নর রয় কুপার সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ট্রাম্পও সম্প্রতি তার এক নির্বাচনী সমাবেশে কুপারের জয়ের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন।

গত সপ্তাহে গ্রিনভিলে আয়োজিত সমাবেশে ট্রাম্প সমর্থকদের বলেন, সাবেক গভর্নর রয় কুপার তাদের পরবর্তী সিনেটর হতে যাচ্ছেন—বিষয়টি তার কাছে অদ্ভুত মনে হচ্ছে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অঙ্গরাজ্যটিতে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওহাইও : সিনেটে ফেরার লড়াইয়ে শেরড ব্রাউন

ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট নেতা শেরড ব্রাউন আবার সিনেটে ফেরার চেষ্টা করছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি আসনটি হারিয়েছিলেন। এবার তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড।

ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিনেট ছেড়ে হোয়াইট হাউসে যোগ দেওয়ার পর তার শূন্য আসনে হাস্টেডকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এবারের বিশেষ নির্বাচনে যিনি জয়ী হবেন, তাকে ২০২৮ সালে পূর্ণ ছয় বছরের মেয়াদের জন্য আবারও নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

ইরান যুদ্ধ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক চাপকে কেন্দ্র করে ব্রাউন প্রচারণা চালাচ্ছেন। সাম্প্রতিক জরিপে তিনি হাস্টেডের চেয়ে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

টেক্সাস : ৩২ বছরের ইতিহাস বদলানোর লড়াই

রিপাবলিকানদের দীর্ঘদিনের শক্ত ঘাঁটি টেক্সাসেও এবার ডেমোক্র্যাটদের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ১৯৯৪ সালের পর থেকে অঙ্গরাজ্যটিতে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জয়ী হননি। সেই ধারায় পরিবর্তন আনতে চান ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ জেমস টালারিকো। তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প টেক্সাসে প্রায় ১৪ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। ফলে অঙ্গরাজ্যটিতে ডেমোক্র্যাটদের জন্য লড়াই সহজ নয়। তবে সাম্প্রতিক জরিপে টালারিকো ও প্যাক্সটনের মধ্যে ব্যবধান খুব কম দেখা যাচ্ছে।

রিপাবলিকান শিবিরে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়েও বিতর্ক ছিল। বর্তমান সিনেটর জন কর্নিনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় দফার ভোটে মনোনয়ন পান প্যাক্সটন। ট্রাম্পও তাকে সমর্থন দিয়েছিলেন। প্যাক্সটনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির অভিযোগ নির্বাচনী প্রচারণায় আলোচনায় এসেছে।

অন্যদিকে টালারিকোর প্রচারণায় বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ হয়েছে। রিপাবলিকানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী আসনটি ধরে রাখতে ৩০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। ডেমোক্র্যাটপন্থী গোষ্ঠীগুলোর ব্যয় ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। তবে টালারিকোর প্রচারণা দল প্যাক্সটনের তুলনায় ১১ কোটি ডলার বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাদের হাতে প্যাক্সটনের তুলনায় ৯৬ লাখ ডলার বেশি অর্থ ছিল। প্যাক্সটনের দাতাদের মধ্যে রয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। সাম্প্রতিক জরিপে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।

ডাকযোগে ভোট গণনা বন্ধের আবেদন খারিজ

নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি ভোট গণনা নিয়েও আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে আসা ২০ হাজারের বেশি ব্যালট গণনা বন্ধের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন ৩০ অক্টোবর খারিজ করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবম সার্কিট আপিল আদালত।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, সংশ্লিষ্ট ভোটারদের কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নাও হতে পারেন। এ কারণে তাদের পাঠানো ব্যালট গণনা বন্ধ রাখার আবেদন জানানো হয়। বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে মামলা চলাকালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ভোট গণনা স্থগিত রাখার জন্য অন্তর্বর্তী আদেশ চাওয়া হয়েছিল।

তবে আদালতের তিন সদস্যের প্যানেল ২-১ ভোটে আবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেন। বিচারক মার্ক বেনেট ও গ্যাব্রিয়েল সানচেজ তাদের রায়ে বলেন, সরকারের চাওয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হলে যোগ্য ভোটারদের ভোটাধিকার হারানোর বড় ঝুঁকি তৈরি হবে।

এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আরেকটি আইনি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে নতুন আইনি লড়াইয়ের পথ তৈরি করতে পারে।

ক্যালিফোর্নিয়া ডেমোক্র্যাটদের শক্তিশালী ঘাঁটি। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অঙ্গরাজ্যটির আসনসংখ্যা ৫২, যা অন্য যেকোনো অঙ্গরাজ্যের তুলনায় বেশি। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসনবিরোধী অভিযান জোরদার করেছে। এ ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের মতবিরোধও প্রকাশ্যে এসেছে।

ট্রাম্পের অভিযোগ, ক্যালিফোর্নিয়ার ‘স্যাংকচুয়ারি স্টেট’ নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে এবং জননিরাপত্তাকে প্রভাবিত করছে। অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যটির নীতির পক্ষে অবস্থান নেওয়া কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে অভিবাসন-বিষয়ক বিরোধে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন শুধু কংগ্রেসের আসন পুনর্বণ্টনের লড়াই নয়; এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি ভোটারদের মনোভাব যাচাইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বিশেষ করে, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। তবে জরিপের ব্যবধান, নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তের প্রভাব এবং ভোটার উপস্থিতিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে, কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য কোন দিকে যায়।

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]