ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। আগামী বছর ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করতে না পারায় এখনই এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মূল্যায়ন (আইএএসএ) কর্মসূচিতে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পাওয়া সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অন্যতম প্রধান শর্ত। বাংলাদেশ বর্তমানে এ মর্যাদার বাইরে থাকায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট চালানোর অনুমতি পাচ্ছে না বিমান।
সম্প্রতি ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। তবে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন নিশ্চিত করে না। এ জন্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা নিরীক্ষায় প্রয়োজনীয় মান অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও উত্তীর্ণ হতে হবে।
দীর্ঘদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকায় জেএফকে বিমানবন্দরে বিমানের আগের নির্ধারিত অবতরণ ও উড্ডয়নের স্লটও হারিয়েছে। নতুন করে স্লট পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করেন। তাদের মধ্যে প্রায় দুই লাখের বাস নিউইয়র্কে। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় দেশে যাতায়াতের জন্য তাদের অন্য দেশের এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে ট্রানজিটসহ ভ্রমণে প্রায় ২৫ ঘণ্টা সময় লাগে। দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন প্রবাসীরা।
১৯ বছর ধরে বন্ধ ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট
লোকসানের কারণে ২০০৬ সালে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। পরে ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিভিন্ন ঘাটতি চিহ্নিত করে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে এফএর মূল্যায়নে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্যাটাগরি-২-এ নেমে যাওয়ার পর থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। প্রায় দুই দশকেও বাংলাদেশ ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা ফিরে পায়নি।
২০২৩ সালে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগের সময় নিরাপত্তা মর্যাদা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। বর্তমানে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। তবে এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ২০৩১ সাল থেকে। ফলে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন অর্জনও জরুরি।
এদিকে ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করছে আইকাওর অডিট দল।
নিউইয়র্ক রুট চালুতে সহযোগিতার আশ্বাস
গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের বৈঠকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বৈঠকে মন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এফএর আইএএসএ কর্মসূচিতে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন অপরিহার্য। অন্যদিকে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া সহজ করতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূতের এ আশ্বাসে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন ছাড়া এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন।
ক্যাটাগরি-১ পেতে পেরোতে হবে দুই ধাপ
এফএর ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পেতে বাংলাদেশকে দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রথমে আইকাওর নিরাপত্তা নিরীক্ষায় প্রয়োজনীয় মান পূরণ করতে হবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) পৃথক মূল্যায়নেও উত্তীর্ণ হতে হবে। এ দুটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলেই ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জনে শুধু মূল্যায়নের স্কোর বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বিমানবন্দরের অবকাঠামো, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও যাত্রীসেবার মানও সমন্বিতভাবে উন্নত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হলে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা
গত কয়েক বছরে কয়েকটি দেশ এফএর আইএএসএ কর্মসূচিতে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা ফিরে পেয়েছে কিংবা প্রথমবারের মতো অর্জন করেছে। এসব দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, শুধু উড়োজাহাজ কেনা বা বিমানবন্দরের অবকাঠামো সম্প্রসারণ নয়, বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা তদারকির ঘাটতি দূর করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ।
মেক্সিকো এর একটি উদাহরণ। ২০২১ সালের মে মাসে নিরাপত্তা মানদণ্ডে ঘাটতি থাকায় এফএ দেশটির মর্যাদা ক্যাটাগরি-১ থেকে ক্যাটাগরি-২-এ নামিয়ে দেয়। দুই বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কার ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের পর ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দেশটি আবার ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা ফিরে পায়। এ সময়ে এফএএ মেক্সিকোর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে কারিগরি সহায়তা দেয় এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাধিক দল পাঠায়।
থাইল্যান্ডও ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল এফএর ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা ফিরে পায়। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এ অর্জনে ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া বাহরাইন ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর প্রথমবারের মতো আইএএসএ কর্মসূচিতে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন করে।
এফএর মূল্যায়নে মূলত যাচাই করা হয়, কোনো দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী বিমান সংস্থাগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া ও তদারকের সক্ষমতা রাখে কি না। এ ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাংগঠনিক সক্ষমতা, প্রশিক্ষিত কারিগরি জনবল, পরিদর্শন, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তার ঘাটতি সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর যে লক্ষ্য সরকারের রয়েছে, তা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অর্জন। শুধু নতুন উড়োজাহাজ কেনা নয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঠিকানা/এনআই
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা মূল্যায়ন (আইএএসএ) কর্মসূচিতে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পাওয়া সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অন্যতম প্রধান শর্ত। বাংলাদেশ বর্তমানে এ মর্যাদার বাইরে থাকায় নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে সরাসরি ফ্লাইট চালানোর অনুমতি পাচ্ছে না বিমান।
সম্প্রতি ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। তবে উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তই যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমোদন নিশ্চিত করে না। এ জন্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নিরাপত্তা নিরীক্ষায় প্রয়োজনীয় মান অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মূল্যায়নেও উত্তীর্ণ হতে হবে।
দীর্ঘদিন ফ্লাইট বন্ধ থাকায় জেএফকে বিমানবন্দরে বিমানের আগের নির্ধারিত অবতরণ ও উড্ডয়নের স্লটও হারিয়েছে। নতুন করে স্লট পাওয়া সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন লাখ বাংলাদেশি নাগরিক বসবাস করেন। তাদের মধ্যে প্রায় দুই লাখের বাস নিউইয়র্কে। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় দেশে যাতায়াতের জন্য তাদের অন্য দেশের এয়ারলাইনসের ওপর নির্ভর করতে হয়। এতে ট্রানজিটসহ ভ্রমণে প্রায় ২৫ ঘণ্টা সময় লাগে। দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন প্রবাসীরা।
১৯ বছর ধরে বন্ধ ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট
লোকসানের কারণে ২০০৬ সালে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। পরে ফ্লাইট পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিভিন্ন ঘাটতি চিহ্নিত করে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সূত্র জানায়, ২০০৬ সালে এফএর মূল্যায়নে বাংলাদেশের মর্যাদা ক্যাটাগরি-২-এ নেমে যাওয়ার পর থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে। প্রায় দুই দশকেও বাংলাদেশ ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা ফিরে পায়নি।
২০২৩ সালে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগের সময় নিরাপত্তা মর্যাদা উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে। বর্তমানে ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছে। তবে এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ শুরু হওয়ার কথা ২০৩১ সাল থেকে। ফলে উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন অর্জনও জরুরি।
এদিকে ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করছে আইকাওর অডিট দল।
নিউইয়র্ক রুট চালুতে সহযোগিতার আশ্বাস
গত ১৬ সেপ্টেম্বর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের বৈঠকে ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়টি আলোচনায় আসে।
বৈঠকে মন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য এফএর আইএএসএ কর্মসূচিতে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন অপরিহার্য। অন্যদিকে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া সহজ করতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূতের এ আশ্বাসে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে আশাবাদ তৈরি হলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন ছাড়া এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন।
ক্যাটাগরি-১ পেতে পেরোতে হবে দুই ধাপ
এফএর ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পেতে বাংলাদেশকে দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। প্রথমে আইকাওর নিরাপত্তা নিরীক্ষায় প্রয়োজনীয় মান পূরণ করতে হবে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) পৃথক মূল্যায়নেও উত্তীর্ণ হতে হবে। এ দুটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলেই ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জনে শুধু মূল্যায়নের স্কোর বাড়ানো যথেষ্ট নয়। বিমানবন্দরের অবকাঠামো, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও যাত্রীসেবার মানও সমন্বিতভাবে উন্নত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতি না হলে নিউইয়র্কে সরাসরি ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
অন্য দেশগুলোর অভিজ্ঞতা
গত কয়েক বছরে কয়েকটি দেশ এফএর আইএএসএ কর্মসূচিতে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা ফিরে পেয়েছে কিংবা প্রথমবারের মতো অর্জন করেছে। এসব দেশের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, শুধু উড়োজাহাজ কেনা বা বিমানবন্দরের অবকাঠামো সম্প্রসারণ নয়, বরং নিয়ন্ত্রক সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা তদারকির ঘাটতি দূর করা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা গুরুত্বপূর্ণ।
মেক্সিকো এর একটি উদাহরণ। ২০২১ সালের মে মাসে নিরাপত্তা মানদণ্ডে ঘাটতি থাকায় এফএ দেশটির মর্যাদা ক্যাটাগরি-১ থেকে ক্যাটাগরি-২-এ নামিয়ে দেয়। দুই বছরের বেশি সময় ধরে সংস্কার ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রমের পর ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দেশটি আবার ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা ফিরে পায়। এ সময়ে এফএএ মেক্সিকোর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে কারিগরি সহায়তা দেয় এবং নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাধিক দল পাঠায়।
থাইল্যান্ডও ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল এফএর ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা ফিরে পায়। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সংস্কার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এ অর্জনে ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া বাহরাইন ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর প্রথমবারের মতো আইএএসএ কর্মসূচিতে ক্যাটাগরি-১ মর্যাদা অর্জন করে।
এফএর মূল্যায়নে মূলত যাচাই করা হয়, কোনো দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী বিমান সংস্থাগুলোকে লাইসেন্স দেওয়া ও তদারকের সক্ষমতা রাখে কি না। এ ক্ষেত্রে আইন ও বিধিমালা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার সাংগঠনিক সক্ষমতা, প্রশিক্ষিত কারিগরি জনবল, পরিদর্শন, নথিপত্র সংরক্ষণ এবং নিরাপত্তার ঘাটতি সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা বিশেষ গুরুত্ব পায়।
আগামী বছর ঢাকা-নিউইয়র্ক সরাসরি ফ্লাইট চালুর যে লক্ষ্য সরকারের রয়েছে, তা বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অর্জন। শুধু নতুন উড়োজাহাজ কেনা নয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঠিকানা/এনআই