বাংলাদেশের জনজীবনে দারিদ্র্যের দর্শন

অভাব যখন মানুষের  নিয়তি হয়ে ওঠে

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪১ , অনলাইন ভার্সন
দারিদ্র্য মানুষের পকেট শূন্য করার আগেই অনেক সময় তার স্বপ্নকে ছোট করে দেয়। কে কী খেতে পারবে, কোথায় বসবাস করবে, কোন বিষয়ে পড়াশোনা করবে, অসুস্থ হলে চিকিৎসা নেবে কি-না— এসব প্রশ্নের উত্তর যখন মানুষের ইচ্ছার বদলে তার আর্থিক সামর্থ্য নির্ধারণ করে দেয়, তখন দারিদ্র্য আর নিছক অর্থনৈতিক অবস্থা থাকে না; তা হয়ে ওঠে মানুষের স্বাধীনতা, আত্মমর্যাদা ও অস্তিত্বের ওপর আরোপিত এক অদৃশ্য শাসন। এই শাসনের কোনো দৃশ্যমান প্রাচীর নেই, নেই কোনো ঘোষিত সংবিধান; অথচ এর ক্ষমতা এতটাই গভীর যে, মানুষ একসময় নিজের আকাঙ্ক্ষাকেই নিজের সামর্থ্যরে সীমার মধ্যে বন্দি করতে শেখে। যা সে পেতে পারে না, তা চাওয়াও বন্ধ করে দেয়; যে স্বপ্ন পূরণ করতে পারে না, একসময় সেই স্বপ্ন দেখাকেই বিলাসিতা বলে মেনে নেয়।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনে দারিদ্র্যের দর্শন ঠিক এই জায়গাটিতেই সবচেয়ে নির্মম, অথচ সবচেয়ে কম দৃশ্যমান। এ দেশের কৃষক ফসল ফলান, শ্রমিক কারখানা সচল রাখেন, রিকশাচালক শহরের গতিকে বহন করেন, গৃহকর্মী অন্যের সংসার গুছিয়ে নিজের সংসারের অভাব আড়াল করেন, আর মধ্যবিত্ত মানুষ মাসের শেষে হিসাব মেলাতে গিয়ে নিজের বহু প্রয়োজনকে নীরবে বাতিল করেন। তাঁদের শ্রমে সমাজ এগিয়ে যায়, অর্থনীতি সচল থাকে; কিন্তু সেই অগ্রগতির সুফল তাঁদের জীবনে কতটা নিরাপত্তা, স্বস্তি ও স্বাধীনতা হয়ে ফিরে আসে— সেই প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ দারিদ্র্যের সবচেয়ে গভীর ট্র্যাজেডি শুধু এই নয় যে, মানুষের প্রয়োজন মেটানোর মতো অর্থ থাকে না; বরং এই যে, এক সময় অর্থের অভাবই তার জীবনের সম্ভাবনা, সিদ্ধান্ত এবং আত্মপরিচয়ের সীমানা নির্ধারণ করতে শুরু করে।
তাহলে দারিদ্র্য কি কেবল অভাবের নাম, নাকি এমন এক সামাজিক দর্শন, যা কিছু মানুষের জন্য সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়, আর অন্যদের প্রতিদিন সেই দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকার অভ্যাস শেখায়? বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় এই প্রশ্নটি কেবল অর্থনীতির নয়; এটি ন্যায়বিচারের, মানবিক মর্যাদার এবং আমরা কেমন সমাজ নির্মাণ করতে চাই, সেই মৌলিক প্রশ্নেরও।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির ইতিহাসে দারিদ্র্য হ্রাস একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু উন্নয়নের সামগ্রিক চিত্রের আড়ালে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাহীনতার প্রশ্নটি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের দারিদ্র্য ও সমতা মূল্যায়ন অনুযায়ী, জাতীয় দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের হার ২০১০ সালের ৩৭.১ শতাংশ থেকে ২০২২ সালে ১৮.৭ শতাংশে নেমে এসেছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের মূল্যায়নে বলা হয়, ২০২৫ সালে এই হার বেড়ে ২১.৪ শতাংশে পৌঁছেছে। একই প্রতিবেদনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৮.৫ শতাংশ থাকার কথা উল্লেখ করা হয়; নিম্ন আয়ের মানুষের মজুরি সেই অনুপাতে না বাড়ায় তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। (বিশ্বব্যাংক, ২০২৫ ও ২০২৬: দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক মূল্যায়ন)।

এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে অসংখ্য অদৃশ্য জীবন। যে রিকশাচালক দিনের শেষে আয় গুণে দেখেন, বাজারের খরচ মেটানোর পর হাতে কিছুই অবশিষ্ট নেই, তাঁর কাছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ভাষা বিমূর্ত। যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী মাসের বেতন পাওয়ার আগেই বাড়িভাড়া, সন্তানের স্কুলের বেতন এবং ঋণের কিস্তিতে সেই অর্থ ব্যয় করে ফেলেন, তাঁর কাছে বেতন পাওয়া মানেই আর্থিক মুক্তি নয়। যে মধ্যবিত্ত পরিবার সামাজিক মর্যাদা রক্ষার জন্য নিজের সামর্থ্যরে বাইরে ব্যয় করে, তার দারিদ্র্য হয়তো পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে না, কিন্তু প্রতিদিনের উদ্বেগে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের দারিদ্র্যের দর্শন তাই বহুমাত্রিক। এখানে একদিকে আছে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মৌলিক সংকট; অন্যদিকে আছে দারিদ্র্যের নিচে নেমে যাওয়ার অবিরাম ভয়। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের মূল্যায়ন বলছে, প্রায় ছয় কোটি বিশ লাখ মানুষ এমন অবস্থায় ছিল, যেখানে অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অন্য কোনো আকস্মিক বিপর্যয় তাদের আবার দারিদ্র্যের মধ্যে ঠেলে দিতে পারে। অর্থাৎ দারিদ্র্যসীমার ওপরে থাকা মানেই নিরাপদ জীবন নয়। অনেক পরিবারের জীবন দাঁড়িয়ে আছে একটি চাকরি, একটি নিয়মিত আয়, একটি সুস্থ শরীর কিংবা একটি অক্ষত বাড়ির ওপর। এর যেকোনো একটির পতন পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎকে বিপন্ন করতে পারে।

এই অনিশ্চয়তা মানুষের নৈতিক জগতেও প্রভাব ফেলে। অভাবের চাপে মানুষ কখনো আপস করে, কখনো অন্যায়ের প্রতিবাদ থেকে সরে আসে, কখনো নিজের বিবেককে নীরব রাখে। চাকরি হারানোর ভয়ে কর্মী অন্যায় নির্দেশ মেনে নেন; ঋণ পরিশোধের চাপে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী অনৈতিক লেনদেনে জড়িয়ে পড়েন; সামাজিক নিরাপত্তার অভাবে কেউ কেউ ক্ষমতাবানের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য মনে রাখা প্রয়োজন— দারিদ্র্য মানুষকে স্বভাবত অসৎ করে না, আর স্বচ্ছলতা কাউকে স্বভাবত নৈতিক করে তোলে না। বরং দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা মানুষের সামনে নৈতিক সিদ্ধান্তের মূল্য বাড়িয়ে দেয়। যার বিকল্প নেই, তার পক্ষে নীতির পক্ষে দাঁড়ানোর মূল্য অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে।
তবে দারিদ্র্যকে কেবল ব্যক্তির দুর্বলতা কিংবা ভাগ্যের পরিহাস হিসেবে ব্যাখ্যা করাও অন্যায়। বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের ঘাম, কৃষকের উৎপাদন, পোশাক-শ্রমিকের শ্রমঘণ্টা, নির্মাণ-শ্রমিকের ঝুঁকি এবং প্রবাসী কর্মীর পাঠানো অর্থ জাতীয় অর্থনীতিকে সচল রাখে। অথচ উৎপাদনে অবদান রাখলেই উৎপাদিত সম্পদের ন্যায্য অংশ পাওয়া যায় না। শ্রমের মূল্য, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, সম্পদের বণ্টন, মানসম্মত শিক্ষা এবং চিকিৎসার সুযোগ— এসবের ওপর নির্ভর করে একজন মানুষ তাঁর শ্রমকে কতটা মর্যাদাপূর্ণ জীবনে রূপান্তর করতে পারবেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তাই প্রয়োজনীয়, কিন্তু প্রবৃদ্ধির সুফল কার কাছে পৌঁছাচ্ছে, সেই প্রশ্ন আরো গুরুত্বপূর্ণ।

দারিদ্র্যের আরেকটি নির্মম দিক তার প্রজন্মান্তরের সংক্রমণ। দরিদ্র পরিবারের সন্তান শুধু সীমিত অর্থ নিয়ে বড় হয় না; সে অনেক সময় সীমিত সুযোগ, দুর্বল শিক্ষাব্যবস্থা, পুষ্টির ঘাটতি এবং আত্মবিশ্বাসের সংকট নিয়েও বড় হয়। অন্যদিকে স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান পায় উন্নত শিক্ষার পরিবেশ, প্রযুক্তি, পরিচিতির নেটওয়ার্ক এবং ব্যর্থতা থেকে ফিরে আসার সুযোগ। দুজনের প্রতিভা সমান হলেও প্রতিযোগিতার মাঠটি সমান থাকে না। একজনের ব্যর্থতা হতে পারে সাময়িক অভিজ্ঞতা, অন্যজনের ব্যর্থতা হয়ে উঠতে পারে পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়। এই অসমতাকে উপেক্ষা করে শুধু মেধা ও পরিশ্রমের কথা বলা সামাজিক বাস্তবতার একটি বড় অংশকে আড়াল করে।

শহর এই বৈপরীত্যকে আরো দৃশ্যমান করে। একই রাস্তায় একদিকে বহুতল ভবন, বিলাসবহুল গাড়ি ও ঝলমলে বিপণিবিতান; অন্যদিকে ফুটপাতে রাত কাটানো মানুষ, অস্বাস্থ্যকর ঘরে বসবাসকারী পরিবার এবং অনিশ্চিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী। শহর তাদের সবার কাছেই সুযোগের প্রতিশ্রুতি দেয়, কিন্তু সেই সুযোগ গ্রহণের সামর্থ্য সবার থাকে না। ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপভিত্তিক একটি নীতিগত বিশ্লেষণে বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে দরিদ্র ও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান, চিকিৎসা, সামাজিক সুরক্ষা ও স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। (শহুরে দারিদ্র্য ও সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ে নীতিগত বিশ্লেষণ)। এখানে মধ্যবিত্তের সংকটও উপেক্ষণীয় নয়। নিম্ন আয়ের মানুষের মতো তার অভাব দৃশ্যমান নাও হতে পারে, কিন্তু সামাজিক অবস্থান ধরে রাখার চাপ তাকে প্রতিনিয়ত ক্লান্ত করে। সন্তানের ভালো স্কুল, পরিবারের চিকিৎসা, বাড়িভাড়া, যাতায়াত এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের খরচ মেটাতে গিয়ে অনেক পরিবার সঞ্চয়ের সুযোগ হারায়। অসুস্থতা, চাকরি হারানো কিংবা অবসরের পর নিয়মিত আয় বন্ধ হয়ে গেলে তাদের দীর্ঘদিনের আত্মনির্ভরতার বোধ ভেঙে পড়তে পারে। ফলে দারিদ্র্যের দর্শন শুধু কত টাকা আয় করা হয়, তা দিয়ে বোঝা যায় না; বোঝা যায় মানুষ তার জীবনের ওপর কতটা নিয়ন্ত্রণ রাখে, বিপদের মুখে কতটা নিরাপদ থাকে এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কতটা নিশ্চিন্তে ভাবতে পারে। দারিদ্র্যের বিপরীতে দান, করুণা কিংবা সাময়িক সাহায্যের অবশ্যই প্রয়োজন আছে। কিন্তু এগুলো স্থায়ী সমাধানের বিকল্প নয়। একজন ক্ষুধার্ত মানুষকে খাবার দেয়া মানবিক দায়িত্ব; একই সঙ্গে কেনো তাঁর নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা নেই, সেই প্রশ্নও তোলা জরুরি। একজন বেকার তরুণকে অর্থসাহায্য করা সহমর্মিতা; কিন্তু তাঁর দক্ষতার উপযোগী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সামাজিক দায়িত্ব। একজন অসুস্থ দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসা দেয়া জরুরি; কিন্তু চিকিৎসার ব্যয় যেনো একটি পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয় ধ্বংস না করে, সেই ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। সামাজিক সুরক্ষা এমন হওয়া প্রয়োজন, যাতে সহায়তা প্রকৃত প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছায়; পাশাপাশি মানসম্মত সরকারি শিক্ষা, সাশ্রয়ী চিকিৎসা, ন্যায্য মজুরি, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সক্ষমতা নিশ্চিত হয়।

দারিদ্র্যের দর্শনের সবচেয়ে গভীর প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির নয়, মানুষের মর্যাদার। একজন মানুষ কত কম খরচে বেঁচে থাকতে পারেন, সেটি উন্নয়নের সাফল্যের চূড়ান্ত মাপকাঠি হতে পারে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, তিনি কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, সন্তানকে কতটা সম্ভাব-নাময় ভবিষ্যৎ দিতে পারেন, অসুস্থ হলে চিকিৎসা পান কিনা, অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মতো নিরাপত্তা তাঁর আছে কিনা, এবং বৃদ্ধ বয়সে তাঁর জীবন অন্যের করুণার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে কিনা। বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম আমাদের একটি শিক্ষা দেয়- মানুষ কেবল বেঁচে থাকার জন্য বাঁচে না; সে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায়। সে সন্তানের মুখে হাসি দেখতে চায়, নিজের শ্রমের ন্যায্য মূল্য চায়, ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে চায়। তাই দারিদ্র্য দূর করার অর্থ শুধু আয় বাড়ানো নয়; মানুষের সামনে সম্ভাবনার দরজা খুলে দেয়া, তার অসহায়ত্ব কমানো এবং তাকে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়া।

যে সমাজে দরিদ্র মানুষকে তার দুরবস্থার জন্য দায়ী করা হয়, অথচ সেই দুরবস্থা তৈরির কাঠামোগত কারণগুলো নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় না, সে সমাজ দারিদ্র্যকে দূর করে না- দারিদ্র্যের সঙ্গে সহাবস্থান করতে শেখে। আর যে রাষ্ট্র উন্নয়নকে মানুষের মর্যাদা, সুযোগের ন্যায্যতা ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে, কেবল সেই রাষ্ট্রই দারিদ্র্যের দর্শনকে পরাজিত করার পথে এগোয়। কারণ দারিদ্র্যের প্রকৃত বিপরীত সম্পদ নয়; দারিদ্র্যের প্রকৃত বিপরীত হলো এমন একটি জীবন, যেখানে অভাব মানুষের স্বপ্ন দেখার অধিকার কেড়ে নিতে পারে না।
লেখক: কলামিস্ট।
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]