সুশাসন, শান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৯ , অনলাইন ভার্সন
বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক ইতিহাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে প্রবেশ করেছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের পর ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ঘোষিত ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২১২টিতে বিজয়ী হয় এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হন। এই সুস্পষ্ট গণরায় সরকারকে সংস্কার পরিচালনার শক্তি দিয়েছে; একই সঙ্গে সংযম, অন্তর্ভুক্তিমূলক শাসন ও সাংবিধানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার গুরুদায়িত্বও অর্পণ করেছে। ১৯৪৭ সাল থেকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে সুশাসন, শান্তি ও জাতীয় নিরাপত্তা পরস্পর বিচ্ছিন্ন নয়। রাজনৈতিক বঞ্চনা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সাংস্কৃতিক পরিচয় দমনের চেষ্টা এবং নির্বাচনী রায় অস্বীকার পাকিস্তান রাষ্ট্রকাঠামোকে পূর্ব বাংলার মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের রায় অস্বীকারের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। নয় মাসের যুদ্ধে দেশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় এবং প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ইতিহাসের শিক্ষা স্পষ্ট—প্রতিনিধিত্ব, সাংস্কৃতিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার অস্বীকার করে কোনো রাষ্ট্রে স্থায়ী ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর কার্যকর হয়। জাতীয়তাবাদ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে জনগণের সার্বভৌমত্ব ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই ছিল এর লক্ষ্য। কিন্তু ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও হত্যাকাণ্ড, সামরিক অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ সামরিক বা সামরিক-সমর্থিত শাসন দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান সামরিক শাসনের অবসান ঘটায় এবং ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন বর্জন, হরতাল, সহিংসতা, প্রশাসনের দলীয়করণ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আইন ব্যবহারের প্রবণতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষয় করেছে। ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান আবারও দেখিয়েছে—জবাবদিহিহীন আপাত স্থিতিশীলতার নিচে গভীর জনঅসন্তোষ জমতে পারে। বর্তমান সরকারকে তাই সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে সীমাহীন ক্ষমতা হিসেবে বিবেচনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতা সংস্কারের সুযোগ সৃষ্টি করে, কিন্তু সংসদ নির্বাহী বিভাগের অধীন হয়ে পড়লে তা প্রাতিষ্ঠানিক ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। বিরোধী দলের সদস্যসংখ্যা কম হলেও তাদের প্রশ্ন করা, আইন পরীক্ষা করা এবং নির্বাচিত সংসদীয় কমিটির নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকতে হবে। বড় প্রতিরক্ষা ক্রয়, আন্তর্জাতিক চুক্তি, অবকাঠামো প্রকল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক আর্থিক দায় সংসদীয় পর্যালোচনার আওতায় আনা উচিত।

নির্বাচন কমিশন, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়নের মাপকাঠি হতে হবে যোগ্যতা, সততা ও পেশাগত দক্ষতা। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সম্পদের স্বচ্ছ ঘোষণা ও স্বার্থের সংঘাত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। অপরাধ, দুর্নীতি, হত্যা, গুম ও নির্যাতনের বিচার অবশ্যই হতে হবে; কিন্তু অপরাধের দায় হতে হবে ব্যক্তির—কোনো দল বা জনগোষ্ঠীর নয়। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সম্মিলিত শাস্তি জাতীয় পুনর্মিলন ব্যাহত করবে। বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত, ন্যায়সংগত বিচার এবং আপিলের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে ক্ষমতাসীন দলের নয়, প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করতে হবে। হেফাজতে নির্যাতন, নির্বিচার আটক ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ স্বাধীনভাবে তদন্ত করা জরুরি।

চাঁদাবাজি, জমি দখল, টেন্ডারবাজি, অবৈধ অস্ত্র এবং রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে বাজার, পরিবহন টার্মিনাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বড় হুমকি। নতুন সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রথম পরীক্ষা হবে নিজ দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া। রাজনৈতিক পরিচয় কাউকে দায়মুক্তি দেবে না—এই নীতি দৃশ্যমানভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাও জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান অথবা অন্য কোনো সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, ব্যবসা ও উপাসনালয়ে হামলা জাতীয় ঐক্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল পুলিশ ব্যবস্থা গঠন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে সহিংসতা উসকে দেওয়া ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে ভুল তথ্য মোকাবিলার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমন করা যাবে না। পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রায় দুই দশকের সংঘাত ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তির মাধ্যমে অনেকটা কমে এলেও ভূমি বিরোধ, প্রতিনিধিত্ব, অবৈধ অস্ত্র ও চুক্তি বাস্তবায়নের প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত। শুধু নিরাপত্তা অভিযান স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে না। রাজনৈতিক সংলাপ, কার্যকর ভূমি কমিশন, জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অধিকার এবং সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সহিংস উগ্রবাদও সম্ভাব্য হুমকি। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩টির চার শতাধিক স্থানে সমন্বিত বোমা বিস্ফোরণ এবং ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান হামলায় ২০ জন জিম্মি ও দুজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়া এই ঝুঁকির গভীরতা দেখিয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ, কারাগারে উগ্রবাদ মোকাবিলা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ধর্মীয় রক্ষণশীলতা ও সহিংস উগ্রবাদের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য করতে হবে। রোহিঙ্গা সংকট বহিঃস্থ সংঘাত ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার মধ্যে সবচেয়ে প্রত্যক্ষ সংযোগ সৃষ্টি করেছে। ২০১৭ সালের পর প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ ২ হাজার; এর মধ্যে প্রায় ১১ লাখ ৬৮ হাজার কক্সবাজারে এবং ৩৩ হাজার ৬৫৯ জন ভাসানচরে ছিল। শিবিরগুলোতে মানবপাচার, মাদক, অপহরণ, সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সদস্য সংগ্রহের ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জমি, মজুরি, বন, সড়ক ও সরকারি সেবার ওপর চাপ বাড়ছে। মিয়ানমারের যুদ্ধে জড়িয়ে না পড়ে বাংলাদেশকে সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে হবে। কোনো বিদেশি সামরিক বা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না। ড্রোন, সেন্সর, নজরদারি, টহল সড়ক, গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী গড়ে তুলতে হবে। নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার, চীন, ভারত, আসিয়ান, জাতিসংঘ ও ওআইসির সঙ্গে সমন্বিত কূটনীতি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার এবং মিয়ানমারের সঙ্গে প্রায় ২৭১ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত রয়েছে। ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা ভৌগোলিক বাস্তবতা; কিন্তু সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। সীমান্ত হত্যা, বাণিজ্যিক ভারসাম্যহীনতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ দৃঢ়ভাবে তুলে ধরতে হবে। দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানিচুক্তির পরও তিস্তা সমস্যার সমাধান হয়নি। পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে জলাধার, নদী ব্যবস্থাপনা ও সাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। ২০১২ সালে মিয়ানমার এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার সামুদ্রিক এলাকায় অধিকার লাভ করে। বঙ্গোপসাগরে মৎস্য, জ্বালানি, নৌপরিবহন ও সুনীল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনার সঙ্গে অবৈধ মৎস্য আহরণ, পাচার, জলদস্যুতা, দূষণ, গুপ্তচরবৃত্তি এবং বন্দর নিরাপত্তার ঝুঁকিও রয়েছে। তাই নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের জন্য উপকূলীয় রাডার, স্যাটেলাইট নজরদারি, সামুদ্রিক টহল বিমান, ড্রোন, আধুনিক টহলজাহাজ, সাবমেরিন-বিরোধী সক্ষমতা এবং নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা প্রয়োজন।

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতির উদ্দেশ্য বৃহৎ প্রতিবেশীদের সামরিক সংখ্যার সঙ্গে প্রতিযোগিতা নয়; বরং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন। সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা, আধুনিক যুদ্ধবিমান, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, সাইবার প্রতিরক্ষা, সুরক্ষিত কমান্ড সেন্টার, পর্যাপ্ত গোলাবারুদ ও স্থিতিস্থাপক রসদব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। একটি দেশের ওপর অস্ত্র ও খুচরা যন্ত্রাংশের অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই গোলাবারুদ, ড্রোন, যোগাযোগ সরঞ্জাম ও নির্বাচিত সামরিক প্রযুক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানো উচিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান তার গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পদ। ২০২৪ সালের মে মাসে ১৩টি দেশে ৬,০৯২ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী কর্মরত ছিলেন। তখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৬ জন বাংলাদেশি বিভিন্ন মিশনে কাজ করেছেন; ১৬৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ২৬৬ জন আহত হয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা প্রতিরক্ষা কূটনীতি, প্রশিক্ষণ ও পেশাগত মান উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও জাতীয় নিরাপত্তার ভিত্তি। ২০২৫ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ কোটি ৫৭ লাখ, জিডিপি প্রায় ৪৫৬.৩ বিলিয়ন ডলার, মাথাপিছু জিডিপি ২,৫৯৭ ডলার এবং মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৮ শতাংশ। প্রবৃদ্ধি কমে প্রায় ৩.৫ শতাংশে দাঁড়ায় এবং দারিদ্র্যের হার ২০২২ সালের ১৮.৭ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে আনুমানিক ২১.৪ শতাংশে বৃদ্ধি পায়। মূল্যস্ফীতি, যুব বেকারত্ব, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, খেলাপি ঋণ ও অর্থ পাচার নিয়ন্ত্রণ না করলে জন-অসন্তোষ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় রূপ নিতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা, জ্বালানি, খাদ্য ও জলবায়ু নিরাপত্তাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। ব্যাংক, বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ, বন্দর ও সরকারি তথ্যভান্ডার সাইবার হামলার লক্ষ্য হতে পারে। অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও বাস্তুচ্যুতি সামাজিক চাপ বাড়াবে। ১৯৭০ সালের ভোলা ঘূর্ণিঝড় এবং ২০০৭ সালের সিডরের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে দক্ষ প্রশাসন, পূর্বাভাস ও আশ্রয়কেন্দ্র অসংখ্য জীবন রক্ষা করতে পারে।

এসব চ্যালেঞ্জ সমন্বিতভাবে মোকাবিলার জন্য একটি প্রকাশযোগ্য জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করা উচিত। সাংবিধানিক কর্তৃত্ব ও সংসদীয় তদারকির অধীনে একটি জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, গোয়েন্দা কার্যক্রম, সীমান্ত, সাইবার নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় করতে পারে। বাংলাদেশ সরকারের সাফল্য শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা অবকাঠামো দিয়ে বিচার করা হবে না। নাগরিকেরা আইনের সামনে সমান কি না, বিরোধী দল শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করতে পারে কি না, সংখ্যালঘুরা নিরাপদ কি না, দুর্নীতি কমছে কি না এবং বাংলাদেশ বিদেশি চাপমুক্ত থেকে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারছে কি না—এসবই হবে প্রকৃত মাপকাঠি। দুর্বলতা দিয়ে শান্তি রক্ষা করা যায় না; আবার দমন-পীড়ন দিয়েও নিরাপত্তা স্থায়ী করা যায় না। গণতান্ত্রিক বৈধতা, সুশাসন, জাতীয় ঐক্য, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধক্ষমতার সমন্বয়েই বাংলাদেশের শান্তি, সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ নিরাপদ হতে পারে।
 
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]