শাশুড়ির ১৭ বছরের সেবায় কোমা থেকে ফিরলেন পুত্রবধূ

প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ , অনলাইন ভার্সন
বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় ট্রাকের ধাক্কায় চেতনা হারান তরুণী। এরপর কেটে গেছে ১৭ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে পুত্রবধূকে একা ছেড়ে যাননি শাশুড়ি। নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখে তাকে খাইয়েছেন, শরীরের যত্ন নিয়েছেন। পাশাপাশি কথা বলেছেন, শুনিয়েছেন পরিবারের নানা খবর।

শাশুড়ির নিরলস সেবায় কয়েক বছর আগে চেতনা ফিরে পান পুত্রবধূ। এখন অল্পস্বল্প কথা বলতে পারেন, এমনকি নিজে রান্নাও করতে পারেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) চীনের সংবাদমাধ্যম শানদিয়ান নিউজের এক প্রতিবেদনে এ ঘটনা উঠে এসেছে। চীনের শানদং প্রদেশের ছিংইউন কাউন্টিতে ২০০৯ সালে ট্রাকের ধাক্কায় গুরুতর আহত হন শু নামের ওই তরুণী।

বিয়ের মাত্র এক মাস পর ঘটে এ দুর্ঘটনা। এর পর থেকেই পুত্রবধূর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন তার ৬৮ বছর বয়সী শাশুড়ি শুয়ান ফেংইং।

দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে পুত্রবধূর সেবা করে আসছেন শুয়ান। প্রতিবার এক চামচ করে তরল খাবার খাওয়াতে তার প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগত। বিছানায় দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকার কারণে শরীরে ক্ষত হওয়া ঠেকাতে দিনে ১০ বারের বেশি পুত্রবধূকে পাশ ফিরিয়ে দিতেন তিনি।

এ ছাড়া পুত্রবধূর শারীরিক অসংযমের কারণে তার শরীর পরিষ্কার করা এবং নিয়মিত পেশিতে মালিশ করাও ছিল শুয়ানের দৈনন্দিন কাজের অংশ। নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখে বছরের পর বছর এসব দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

তবে শুয়ানের যত্ন শুধু শারীরিক পরিচর্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না। পরিবারের ও গ্রামের নানা খবর পুত্রবধূকে শোনাতেন, তার প্রিয় গান বাজিয়ে দিতেন এবং বারবার নাম ধরে ডাকতেন। এভাবেই বছরের পর বছর পুত্রবধূর সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি।

কয়েক বছর আগে শুর চেতনা ফিরে আসে। তবে দুর্ঘটনায় মস্তিষ্কের গুরুতর ক্ষতি হওয়ায় তার বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা চার বছর বয়সী শিশুর মতো রয়ে গেছে। এর পরও হাল ছাড়েননি শুয়ান।

পুত্রবধূকে হাঁটতে শেখানোসহ বিভিন্ন পুনর্বাসন অনুশীলনে সাহায্য করেছেন তিনি। এখন শু অল্পস্বল্প কথা বলতে পারেন, এমনকি নিজে সাধারণ খাবারও রান্না করেন। সম্প্রতি তিনি শুয়ানকে ‘মা, ভালো’ বলে সম্বোধন করেছেন।

শুয়ান বলেন, পুত্রবধূ তার ছেলেকে বিয়ে করেছেন, তাই তিনিও তার সন্তান। তাকে কীভাবে পরিত্যাগ করবেন? পুত্রবধূ এখন নিজে রান্না করতে পারায় কিছুটা স্বস্তি পান তিনি। কারণ, শুয়ান মারা যাওয়ার পরও অন্তত নিজের খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবেন শু।

তবে পুত্রবধূর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো চিন্তিত শুয়ান। নিজের মৃত্যুর পরও যেন তার ছেলের স্ত্রীকে দেখাশোনায় অবহেলা করা না হয়, সে জন্য ছেলেকে আগেই বলে রেখেছেন তিনি। তার মৃত্যুর পরও ছেলেকে স্ত্রীর যত্ন নিতে হবে বলে জানিয়েছেন শুয়ান।

এদিকে দীর্ঘদিন পুত্রবধূর পরিচর্যা করতে গিয়ে শুয়ানের নিজের শরীরেও নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে পায়ে ব্যথা ও উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন তিনি।

তবে শুয়ানের এই আত্মত্যাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেককে আবেগাপ্লুত করেছে। অনেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘ জীবন কামনা করেছেন। তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

ঠিকানা/এনআই
Thikana
M M Shahin, Chairman, Board of Editors, Thikana
Corporate Headquarter
THIKANA : 7409 37th Ave suite 403 Jackson Heights, NY 11372
Phone : 718-472-0700/2428, 718-729-6000
Fax: + 1(866) 805-8806
Bangladesh Bureau
THIKANA : 70/B, Green Road, (Panthapath), 5th Floor, Dhaka, BD.
E-Mail : [email protected]
For Advertisement : [email protected]